ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১

ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে রেইসের আবেদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার 

প্রকাশিত: ১৫:৩৭, ১৪ জুন ২০২৪

ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে রেইসের আবেদন

রেইস

  • ব্যাংক হিসাব স্থগিতে আদালতের রায়ও বিবেচনাও নেয়া হয়নি

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে একটি বেআইনী অভিযোগের  ভিত্তিতে বাংলাদেশ রেইস ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের কার্যক্রমের (ব্যাংক এ্যাকাউন্ট লেনদেন) উপর আরোপিত সকল স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পূর্বের অবস্থায় ফেরত যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিআইএফইউ বরাবর আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটি। আর বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করে স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থাগুলোর নিকট বিবেচনাধীন আছে। রেইস ও সংস্থাটির ফান্ডগুলো র ব্যাংক হিসাব স্থগিতে আদালতের রায়ও বিবেচনাও নেয়া হয়নি।

এর আগে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এক শেয়ারহোল্ডার ব্যক্তিগত স্বার্থে কোম্পানীর পরিচালনাধীন  মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর ব্যাংক সিগনেটরি হওয়ার দাবী জানায়। আর এটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালার বহির্ভূত হবে বলে রেইস ম্যানেজমেন্ট তা দিতে অস্বীকার করে। চাহিদামতো সিগনেটরি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শেয়ারহোল্ডার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে অভিযোগ করেন। যার ভিত্তিতেই বিএসইসির পরামর্শে কোম্পানিটির ফান্ডগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সেক্ষেত্রে উচ্চা আদালতের আদেশও আমলে নেওয়া হয়নি। আদালত এর আগেই এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বের অবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। 

জানা গেছে, ওই শেয়ারহোল্ডারের অভিযোগের আলোকে বিএসইসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া ইতোমধ্যে রেইনের ওই শেয়ারহোল্ডার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন এবং হাইকোর্ট থেকে একটি একপাক্ষিক ৩০ দিনের জন্য সাময়িক নির্দেশনা পান। ওই শেয়ারহোল্ডার দ্রুত ঢাকা স্টকএক্সচেঞ্জ, চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ কে বিষয়টি অবহিত করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবী করেন যে, যতক্ষণ তাকে সিগনেটরি না করা হবে, ততক্ষণ বাংলাদেশ রেইস ম্যানেজমেন্ট এর সকল ব্যাংক এ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখতে হবে। 

মূলত এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের জন্য ব্যাংক এ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখতে নির্দেশনা পাঠায়। যার ভিত্তিতে বিএফআইইউ (১০ জুন থেকে ০৯ জুলাই) ৩০ দিনের জন্য ব্যাংক এ্যাকাউন্ট পরিচালনায় স্থগিতাদেশ দেন।

এরপরে রেইস ম্যানেজমন্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টে উক্ত সাময়িক আদেশের এর বিরোধিতা করে আপীল করে। আদালত শুনানীর পর সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় এবং মামলার সকল পক্ষের উপর সাময়িক আদেশের এর পূর্ববর্তী  স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন। যাতে বলা হয়েছে, কোম্পানি এবং রেইসের ব্যবস্থাপনাধীন  সকল ফান্ডের পরিচালনা ও কার্যক্রম পদ্ধতি অভিযোগের পূর্বের অবস্থার ন্যায় পরিচালিত হবে। 

পরবর্তীতে রেইস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, ফান্ডের ট্রাস্টি সহ সকল পক্ষকেই চিঠির মাধ্যমে অবগত করে যে, স্থিতাবস্থার ব্যতিক্রম মাননীয় আদালত অবমাননার শামীল। উচ্চ আদালতের এই সংক্রান্ত রায় ঘোষণার পূর্বেই রেইস এবং তার পরিচালিত সকল ফান্ডের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার বিষয়ে বিএসইসি বিএফআইইউ বরাবর একটি নির্দেশনা পাঠায়। নির্দেশনা অনুযায়ী বিএফআইইউ ব্যাংক হিসাবগুলো স্থগিত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। 

শহিদ

×