ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

আইসিবি ব্যাংকে ধাপে ধাপে পরিশোধ হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ২১ মে ২০২৪; আপডেট: ১৯:৪৭, ২১ মে ২০২৪

আইসিবি ব্যাংকে ধাপে ধাপে পরিশোধ হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন

আইসিবি ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কোন অর্থ ধার করতে পারছে না। ধাপে ধাপে পরিশোধ হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন। তারল্য সংকটে নতুন ঋণ বিতরণও বন্ধ। টানা লোকসান, মূলধন ঘাটতি ও উচ্চ খেলাপি ঋণে খাদের কিনারে থাকা ব্যাংকটি হচ্ছে ২০০৮ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের ধ্বংসস্তূপ থেকে গড়ে ওঠা শরিয়াহভিত্তিক আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। 

জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তি করেছে পদ্মা ব্যাংক। সম্ভবত পদ্মা ব্যাংকের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একীভূতকরণের তালিকায় রয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, কারণ তারল্য সংকটে ধুঁকছে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল শেষে ব্যাংকটির ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে ৭৯০ কোটি ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা ঋণের (বিনিয়োগ) ৮৭ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকটির পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক যে, তাদের এমন কোনো সিকিউরিটিজ নেই, যার বিপরীতে অন্য ইসলামী ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করতে পারবে। আরও জানা গেছে, ব্যাংকটি ধাপে ধাপে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অব-সাইট সুপারভিশন বিভাগ ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে আইসিবির বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল, কারণ তারল্য সংকটে ব্যাংকটি কার্যত বন্ধ আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় একটি শক্তিশালী ব্যাংকের সঙ্গে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ জমে থাকা আমানত, মূলধন ঘাটতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে ব্যাংকটি এখন পদ্ধতিগত ঝুঁকিতে রয়েছে।

আর্থিক সংকট নিরসনে গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জামানতহীন ৫০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তার আবেদন করেছিল আইসিবি ইসলামি ব্যাংক। তবে দুই সপ্তাহ পর সেই আবেদন খারিজ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৪২৫ কোটি টাকা দায় ছিল। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ শফিক বিন আবদুল্লাহকে পাওয়া যায়নি। তবে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে বলেন, মাস শেষে ব্যাংকটি কর্মীদের পুরো বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি জানান, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখায় ৩৫০ জন কর্মী আছেন।

 

রহিম/এসআর

×