ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা ১৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক স্টিল মিল স্থাপন করছে

শিল্পনগরীখ্যাত বগুড়া আবার উজ্জীবিত হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস

প্রকাশিত: ২২:৪১, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

শিল্পনগরীখ্যাত বগুড়া আবার উজ্জীবিত হচ্ছে

এককালের শিল্পনগরী খ্যাত বগুড়া আবার উজ্জীবিত হতে যাচ্ছে

এককালের শিল্পনগরী খ্যাত বগুড়া আবার উজ্জীবিত হতে যাচ্ছে। বহুল প্রতিক্ষিত ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবার বগুড়ায় যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে শিল্পনগরী হিসাবে পরিচিতি বগুড়ার মুকুটে নতুন পালক দিতে যাচ্ছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)। প্রায় ১৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া সদরের ছয়পুকুরিয়া এলাকায় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব স্টিল মিল। এটি হবে উত্তরাঞ্চলের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সৌরবিদ্যুৎ চালিত প্রথম ভারি শিল্প।

চূড়ান্ত সমীক্ষার পর বগুড়ার বহুল কাক্সিক্ষত এই প্রকল্পের জন্য এলাকাবাসীর সঙ্গে প্রকল্পের উদ্দেশ্যে, গুরুত্ব আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ বিষয়ে বুধবার মতবিনিময় সভার করা হয়। বিএসইসির যুগ্ম সচিব ও পরিচালক বদরুন নাহারের নেতৃত্বে একটি টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা এবং জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 
ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বগুড়ায় ইতোপুর্বে বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশের্^ গোদারপাড়া বাজারের নিকট ছয়পুকুরিয়ায় ভূমি অধিগ্রহণ করেছিল।

কয়েক দশক ধরে জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জায়াগাটির মালিকানা বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের। বিএসইসি সেখানে এখন প্রায় ১৫ একর জায়াগায় অত্যাধুনিক স্টিল মিল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র জানায়, গত বছর প্রকল্পে সম্ভবতা যচাই ও প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত এবং আর্থসামাজিক প্রভাব সমীক্ষা নিরূপনের জন্য ডক ইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ানিং ওয়ার্কস লিমিটেড নারায়ণগঞ্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ৬ মাস ধরে সমীক্ষা চালানোর পর এই রিপোর্ট জমা দেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কিত প্রস্তাবনার ওপর পরিবেশগত প্রভাব নিরূপনে জনমত যাচাইয়ে বুধবার মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর পরিচালক মুহা. আহসান হাবিব এতে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএসইসি’র যুগ্ম সচিব বদরুন নাহার। বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপপরিচালক মতলুবুর রহমান, বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ পারভীন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক প্রমুখ।

এ ছাড়া সেখানে বিএসইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন, উপপ্রধান প্রকৌশলী সাদিকুল হক, রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় এ সম্পর্কিত উপস্থাপনায় স্টিল মিল স্থাপনে সুফল, সম্ভবনা, কর্মসংস্থান, পরিবেশগত ঝুঁকি, ঝুঁকি নিরসন, বর্জ্য, পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা, আর্থ সামাজিক পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে হয়।
বিএএসইসি জানিয়েছে বগুড়ার ছয়পুকুরিয়ায় যে স্টিল মিল স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, সেটি একটি অত্যাধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প। এখানে বাৎসরিক ৩ লাখ মেট্রিক টন স্টিল বা রড উৎপাদন হবে। এখানে ২দশমিক ৩১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। সৌর বিদু্যুৎ ব্যবহারসহ সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি অঞ্চলের শিল্প বিকাশে মাইল ফলক হয়ে থাকবে। বৈদেশিক বা সরকারী অর্থায়নে এই স্টিল মিল নির্মাণ হবে।

সমীক্ষা জরিপের প্রস্তবনায় বলা হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর কর্মসংস্থানসহ এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আসবে। বিএসইসি জানায়, ২০২২ সালে দেশে ইস্পাতের ব্যবহার হয় ৭৪ লাখ মেট্রিক টন। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে। উত্তরাঞ্চলে কোনো স্টিল মিল নেই। তাই এই স্টিল মিলের গুরুত্ব হবে অনেক।

বিএসইসির যুগ্ম সচিব জানান, মতামতের পর দ্রুত প্রস্তাবনা ও ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে যাবে সেখান থেকে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে একনেকে যাবে। তারা আশা করছেন চলতি বছরই এটি অনুমোদন হবে। বিসিইসি জানিয়েছে ৪ বছরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে তারা আশাবাদী।

×