ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১

মুরগি, গরুর মাংসের বাড়লেও কমেছে রসুনের

আলুর দাম কমায় স্বস্তি ফিরছে সবজি বাজারে

​​​​​​​অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:২২, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আলুর দাম কমায়  স্বস্তি ফিরছে  সবজি বাজারে

আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বরেন্দ্র অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে

নিত্যপণ্য আলুর দাম কমায় স্বস্তি ফিরছে সবজি বাজারে। খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২৫-৩০ টাকায়। আলুর দাম কমায় টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, শিম এবং অন্য সবজির দামও কমতে শুরু করেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজি করল্লা, উস্তে, পেঁপে, কাঁচকলা চিচিঙ্গার মতো সবজির দাম চড়া। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, খিলগাঁও সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার, মালিবাগ রেলগেট বাজার টিসিবি থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

অন্যদিকে, শবেবরাত রোজা সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে চিনি, মুরগিসহ সব ধরনের মাছ মাংসের দাম। শবেবরাত পালনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সাধ্যমতো ভোগ্যপণ্য কেনাকাটা করেছেন নগরবাসী। কারণে সকাল থেকে বাজারে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরুর মাংস মুরগির বেচাকেনা বেড়েছে। এছাড়া হালুয়া তৈরিতে বুটের ডাল, চিনি কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। তরল দুধ সেমাই কিনেছেন ভোক্তারা। শবেবরাত সামনে রেখে বেচাকেনা বাড়ায় খুশি বিক্রেতারা।

এদিকে শবেবরাতের আগে বেশিরভাগ ক্রেতা বাড়তি দাম দিয়ে চিনি কিনেছেন। প্রতিকেজি খোলা চিনি ১৪০-১৪৫ এবং প্যাকেট চিনি ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। আদার দাম বাড়লেও নতুন ওঠা দেশী রসুনের দাম কমেছে। প্রতিকেজি নতুন রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। অন্যদিকে আমদানিকৃত রসুন ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে আদার। প্রতিকেজি আদা ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদিপণ্যের ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবেবরাতের আগে চিনি, বুটের ডাল, বেসন, ছোলা, ভোজ্যতেল এবং মসলাপাতির চাহিদা বাড়ে। কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের মুদিপণ্যের ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান জানান, চিনি বুটের ডালের চাহিদা বেড়েছে। তবে শবেবরাতের আগে ক্রেতারা সাধ্যমতো কেনাকাটা করেছেন। ফলে ব্যবসায়ীদের বেচাবিক্রি ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি আলু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। অর্থাৎ গত কয়েকমাসের তুলনায় অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। এই পণ্যটির দাম কমায় অন্য সবজির দামও পড়তির দিকে রয়েছে। প্রায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

প্রসঙ্গে খিলগাঁও সিটি করপোরেশন বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজমুল হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, আলুর দাম কমায় অন্যান্য সবজির দাম কমে গেছে। ওই বাজারের ক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আলুর দাম যে হারে কমেছে সেই তুলনায় অন্যান্য সবজির দাম কমেনি। সবজির দাম আরও কমা উচিত। শবেবরাতের আগে আরেক দফা বেড়েছে মুরগি গরুর মাংসের দাম। প্রতিকেজি দেশী মুরগি ৫৫০-৬০০, সোনালি ৩২০-৩৫০ এবং ব্রয়লার ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া মাছের দামও চড়া। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে দক্ষিণ শাহজাহানপুরে খলিল মাংস বিতানে। সেখানে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৬৯৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া মালিবাগ মুগদাসহ ঢাকার অন্যান্য বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাংস ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবেবরাতের আগে গরুর মাংসের চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।

এদিকে সরকারি বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, দাম কমে প্রতিকেজি স্বর্ণা চায়না ইরিখ্যাত মোটা চাল ৪৮-৫০, মাঝারি মানের পাইজাম লতা চাল ৫০-৫৫ এবং সরু নাজিরশাইল মিনিকেট ৬০-৭৫ টাকা, আটা খোলা প্রতিকেজি ৪৫-৫০ এবং প্যাকেট আটা প্রতিকেজি ৫৫-৬৫ এবং ভোজ্যতেল সয়াবিন খোলা প্রতিলিটার ১৫৫-১৬০, বোতল পাঁচ লিটার ৮৪০-৮৫০, পামওয়েল খোলা ১২৫-১৩৫ এবং সুপার পামওয়েল ১৩৫-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

 

×