ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

টার্মিনালে জমে আছে প্রায় দেড় হাজার কন্টেনার

পদে পদে ভোগান্তি পানগাঁও কাস্টমসে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৪২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পদে পদে ভোগান্তি পানগাঁও কাস্টমসে

পানগাঁও কাস্টম হাউসে

দেশের সব কাস্টম হাউসের পুরোটা বিপরীত কার্যক্রম চলছে পানগাঁও কাস্টম হাউসে। ব্যবসা বান্ধব সরকার হলেও এই কাস্টম হাউসের চিত্র পুরোটা বিপরীতমুখী। পণ্য খালাসে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এক কর্মকর্তা পরীক্ষণ কার্যক্রম শেষ করে খালাসের জন্য ফাইল ছেড়ে দিলেও ঊর্ধতন এক কর্মকর্তা অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। গেটে আটকে মামলা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রেফারেন্স ভ্যালুও মানছেন না এই কর্মকর্তা। যার কারণে দিনের পর দিন পণ্য আটকে আছে। এতে প্রায় দেড় হাজার কন্টেনার আটকে আছে। এর মধ্যে শিটের প্রাইম ও সেকেন্ডারি জটিলতায় বন্দরে প্রায় সাড়ে ৮০০ কন্টেনার। যার জন্য প্রতিদিন বন্দরের ভাড়াসহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পানগাঁও কাস্টম হাউস ঘুরে দেখা গেছে, চীন থেকে হাইড্রোলিক রাবার হোস পাইপ আমদানি করে আরকে এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি এই ধরনের পণ্য পানগাঁও কাস্টম হাউসসহ বিভিন্ন হাউস দিয়ে পণ্য আমদানি করে। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটি গত ২১ আগস্ট পানগাঁও কাস্টম হাউস দিয়ে দুই কন্টেনার পণ্য আমদানি করেন। যার বি/ই নাম্বার ৬৪৬৮। দীর্ঘদিন ধরে রাবার হোস পাইপ দুই ডলারে এসেসমেন্ট করা হয় কাস্টমসে। এই আমদানিকারকের আগের কন্টেনারে হাইড্রোলিক রাবার হোস পাইপ দুই ডলারে এসেসমেন্ট করেছে। কিন্তু হঠাৎ নতুন অতিরিক্ত কমিশনার এসে নিয়ম পাল্টে দেন।

তিনি এই পণ্য চার ডলারের নিচে এসেসমেন্ট করবেন না বলে চাপ তৈরি করেন আমদানিকারককে। আর চার ডলারে এসেসমেন্ট না করলে এই পণ্য যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। আর রেফারেন্স তথ্যও আমলে নিতে রাজি নন তিনি। কাস্টমসের নিয়ম অনুযায়ী- কোনো পণ্য তিন মাসের মধ্যে যে ভ্যালুতে শুল্কায়ন হবে, সে অনুযায়ী পণ্য শুল্কায়ন হবে। কিন্তু পানগাঁও কাস্টম হাউসে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে রেফারেন্স আমলে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না। শুধু এই পণ্যের শুল্কায়ন নয়, বিভিন্ন পণ্যেও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। যার কারণে দিনের পর দিন বন্দরে পড়ে আছে ব্যবসায়ীদের পণ্য। এ বিষয়ে পানগাঁও কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. আবু নূর মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেন নাই। পরবর্তীতে পানগাঁও কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কমিশনার মোহাম্মদ আকবর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পানগাঁও কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার কথা বলবেন বলে এই প্রতিবেদককে জানান। এই বিষয়ে পানগাঁও কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, আসলে হাউড্রোলিক রাবার হোস পাইপ চার ডলারে শুল্কায়ন হবে। এটা রাবার হোস পাইপ হলে দুই ডলারে হতো। আগে তো এই কাস্টম হাউসে দুই ডলারে হয়েছে, রেফারেন্স রয়েছে এর জবাবে তিনি বলেন, এটা চার ডলারেই হবে। শিটের প্রাইম এবং সেকেন্ডারি কোয়ালিটি জটিলতা নিয়ে আটকে থাকা সাড়ে আটশ’ কন্টেনারের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত কন্টেনার খালাস করতে। আর এই সংক্রান্ত্র জটিলতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আয়রন ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহম্মদ বলেন, পানগাঁও কাস্টমসে শিটের প্রাইম সেকেন্ডারি কোয়ালিটি নিয়ে জটিলতা শুরু হয়েছে। আমরা সাধারণত বিভিন্ন দেশ থেকে স্টক লট আমদানি করি। আমরা এনবিআরকে বলেছি বিষয়টা সমাধানের জন্য। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে মামলা করেছি। বিষয়টা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সেকেন্ডারি হিসেবে শুল্কায়ন করার জন্য মামলায় উল্লেখ করেছি। বিষয়টি কাস্টম কর্মকর্তারা আমলে নিচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাস্টমসে শিটের কোয়ালিটি নিয়ে গত কয়েকবছরের মধ্যে জটিলতা শুরু হয় দুবছর আগে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। পানগাঁও কাস্টমসে বর্তমান অতিরিক্ত কমিশনার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে থাকাকালীন সময়ে হুট করে শিটের বেশকিছু কন্টেনার আটকে দেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম কাস্টমসের তৎকালীন কমিশনার ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে বুয়েটে পরীক্ষা করে সেকেন্ডারি প্রমাণিত হওয়ায় ব্যাংক গ্যারান্টিও ফিরিয়ে নিয়েছেন।

×