ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

একাধিক কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের ওপরে বেড়ে গেছে

বিমায় ভর করেছে শেয়ারবাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

বিমায় ভর করেছে শেয়ারবাজার

প্রতিদিনই বাড়ছে একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম

দেশের শেয়ারবাজার এখন বিমায় ভর করেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম। সেইসঙ্গে লেনদেনের বড় অংশজুড়েই থাকছে বিমা কোম্পানির শেয়ার। এরই মধ্যে একাধিক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ শতাংশের ওপরে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করছে একাধিক বিমা কোম্পানি। গত কয়েক কার্য দিবসের মতো মঙ্গলবারও শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা কোম্পানি। দুটি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনের সর্বোচ্চ পরিমাণ বেড়েছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনেও বড় ভূমিকা রেখেছে বিমা কোম্পানিগুলো। মোট লেনদেনের অর্ধেকের বেশিই বিমা খাতের।

বিমা কোম্পানিগুলো দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখালেও তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি অন্য খাত। ফলে বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়লেও মূল্যসূচকে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান মূল্যসূচক নামমাত্র বেড়েছে। তবে লেনদেন বাড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে বিমা কোম্পানিগুলো।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত কয়েক কার্যদিবসের মতো মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতেই প্রায় সবক’টি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। বিমা কোম্পানির পাশাপাশি লেনদেনের শুরুর দিকে অন্য খাতের বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ে। এতে মূল্যসূচকেও ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। লেনদেনের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১২ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে দুপুর ১২টার পর বিমা বাদে একের পর এক কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায়। যার প্রভাব পড়ে বিমা খাতের ওপর। এতে লেনদেনের শেষদিকে বেশ কিছু বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার প্রবণতা কমে যায় এবং কিছু বিমা কোম্পানি দাম বাড়ার তালিকা থেকে দাম কমার তালিকায় চলে আসে।

অবশ্য এর মধ্যেও জনতা ইন্স্যুরেন্স এবং এশিয়া ইন্স্যুরেন্স এ দুটি বিমা কোম্পানি দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে এবং দিনের প্রায় পুরো সময় ধরে দিনের সর্বোচ্চ দামে লেনদেন হয়। লেনদেনের শেষদিকে কোম্পানি দুটির শেয়ারের বিপুল ক্রয় আদেশ এলেও বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। এ দুই বিমা কোম্পানির পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ বিমা কোম্পানি।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৫টির এবং ১৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিমা কোম্পানি রয়েছে ৩৯টি। আর দাম কমার তালিকায় বিমা কোম্পানি আছে ১৩টি। অর্থাৎ দাম বাড়ার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫২ শতাংশই বিমা কোম্পানি।

বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এমন দাপট দেখানোর দিনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩১১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। দাম বাড়ার তালিকায় যেমন বিমা খাতের আধিপত্য রয়েছে, তেমনি লেনদেনেও এ খাতের আধিপত্য দেখা গেছে। ফলে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৭৩৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

সে হিসেবে লেনদেন বেড়েছে ৭৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। ডিএসইতে যে লেনদেন হয়েছে তার মধ্যে বিমা কোম্পানিগুলোর অবদান ৪৫৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট লেনদেনের ৫৬ দশমিক ১৪ শতাংশ বিমা খাতের। এই লেনদেন বাড়াতে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৩৬ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউনিক হোটেলের ৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ২৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফু-ওয়াং ফুড।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, জেমিনি সি ফুড, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট এবং মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। 
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন অংশ নেওয়া ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।

×