ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১

চলতি বছরের ১০ মাসে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ

ব্যাংকের এলসি খোলা কমেছে ২৭ শতাংশ

​​​​​​​অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:৪৪, ২৬ মে ২০২৩

ব্যাংকের এলসি খোলা কমেছে ২৭ শতাংশ

.

সরকারের বহুমুখী প্রচেষ্টায় আমদানিতে একদিকে কমেছে ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রবণতা এবং নিষ্পত্তির হার। অন্যদিকে ঠেকানো গেছে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের মতো ঘটনাও। যার সুফল ধরা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাবে। আগে প্রতি মাসে গড়ে বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো, এখন কমে সেটি সাড়ে বিলিয়নে এসেছে। কমে যাওয়া এই আড়াই বিলিয়নের মধ্যে এক বিলিয়ন তৈরি পোশাক খাতের মেশিনারিজ আমদানি এবং বাকি দেড় বিলিয়নের অধিকাংশই ওভার ইনভয়েসিং হতো, যা এখন কমে এসেছে।

এতে করে ডলারের ওপর বিগত সময় সৃষ্ট চাপও কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, গত দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানিতে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ কম। আর একই সময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় শতাংশ। সময় সবচেয়ে বেশি কমেছে মূলধনী যন্ত্রপাতি, মধ্যবর্তী পণ্য, পেট্রোলিয়াম, শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি।

বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের আমদানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নানামুখী পদক্ষেপের কারণে একদিকে বাণিজ্যের আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে অবাধ পণ্য আমদানি ঠেকানো গেছে। এতে ডলার সাশ্রয় হয়েছে। দেশ চাপমুক্ত হয়েছে। ফলে অর্থনীতিও স্থিতিশীলতার মধ্যে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানির জন্য মোট ৫৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২৭ শতাংশ কম। সেইসঙ্গে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৬২ দশমিক ৪০ বিলিয়নের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শতাংশ কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে গত এপ্রিলে মাত্র দশমিক ৪৮ বিলিয়নের আমদানি এলসি খোলা হয়। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৪৯ শতাংশ কম। এরচেয়ে কম এলসি খোলা হয়েছিল ২০২০ সালের আগস্টে। করোনার কারণে দেশের অর্থনীতিতে তখন কিছুটা স্থবিরতা থাকায় দশমিক ৭০ বিলিয়নের এলসি খোলা হয় সে সময়। ছাড়া এপ্রিলে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২১ সালের জুলাই মাসে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি কমেছে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি। আলোচ্য সময়ে এই খাতে এলসি খোলা হয়েছে দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা গতবছরের একই সময়ে ছিল দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৫৬ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমেছে ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিও অনেকাংশে কমে গেছে। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, যে ডলারের সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর নিষ্পত্তি কমেছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ। সময় মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ৩১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর নিষ্পত্তি কমেছে ২৪ শতাংশ। সেই সঙ্গে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এলসি খোলা কমেছে ৩১ দশমিক ৮৫ শতাংশ আর নিষ্পত্তি কমেছে দশমিক ৫৬ শতাংশ।

জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাড়ছে না রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স। ফলে বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। সংকট সৃষ্টি হয় মার্কিন ডলারের। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমে আসে। অর্থনীতির এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আমদানির লাগাম টানতে নানা শর্ত দেয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংক। যার প্রভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ধারাবাহিকভাবে কমছে আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং নিষ্পত্তির পরিমাণও। এর ফলে ডলারের সংকটও অনেকটা কেটে গেছে বলেও জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।

×