ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

৫২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় প্রমাণ করে অর্থনৈতিকভাবে ভিত মজবুত হয়েছে ॥ স্পীকার

২০৩০ সালে পোশাক পণ্য রফতানি আয় হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৫ জুলাই ২০২২

২০৩০ সালে পোশাক পণ্য রফতানি আয় হবে ১০০ বিলিয়ন ডলার

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

বিশ্ববাজারে ২০৩০ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক পণ্য রফতানি করতে চায় তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সেই সময়ে পোশাক খাতের সরাসরি ৬ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিজিএমইএ-এর নতুন লোগোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপনে এসব বলেন বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মিরান আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ১৩ বছরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে অর্থনীতি গতি পেয়েছে। বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন উদ্যোক্তারা। রেখেছেন সক্ষমতার স্বাক্ষরও। ৫২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় প্রমাণ করে অর্থনৈতিকভাবে ভিত মজবুত হয়েছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী আরও বলেন, পোশাক খাতই অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। বিশ্ববাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, করোনা সংক্রমণ বিশ্বমন্দা তৈরি করেছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তারপরও এগিয়ে যাচ্ছে পোশাক খাত। আগামীতে আরও ভালো করবে পোশাক শিল্প।
ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে পোশাক শিল্প এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছে, যে শিল্পের প্রচলিত নিয়মগুলো খাটছে না, প্রায়শই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিল্পকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য পণ্যেও ডিজাইন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া, লিড টাইম হ্রাস করা, সর্বশেষ প্রযুক্তি গ্রহণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কারখানাগুলোকে আরও টেকসই করার কোন বিকল্প নেই।’ ‘আর এ প্রচেষ্টাগুলো শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জ্ঞানার্জনের জন্য আমরা উত্তরায় বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয়ে নতুন সেন্টার ফর ইনোভেশন, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি এ্যান্ড হেলথ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে- পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করা।’ তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পের মুখপাত্র সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি শিল্পকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সময়ের প্রয়োজনে শিল্পকে এগিয়ে নিতে যখন যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন তাই নিচ্ছে। পোশাক শিল্পকে টেকসই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য বিজিএমইএ শিল্পের জন্য একটি টেকসই শিল্পায়নে রোডম্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছে, যা সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে।’
‘যেহেতু বিজিএমইএ আমাদের পোশাক শিল্পের মুখপাত্র, তাই এই শিল্পের এগিয়ে যাওয়া এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বিজিএমইএর নিজস্ব ব্র্যান্ডিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আমরা বিজিএমইএর অতীত ঐতিহ্যকে অটুট রেখে আগামীর টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে বিজিএমইএর কর্পোরেট আইডেনটিটি অর্থাৎ লোগোতে পরিবর্তন এনেছি।’ ‘আমরা মনে করি বিজিএমইএর রিনিউড ভিশন বা নতুন প্রত্যয় সমগ্র পৃথিবীতে আমাদের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যত অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করবে। এটি একটি ডাইনামিক লোগো যাতে ৯টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে ডটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র অর্থ আছে।’
গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রফতানি আয়ে ৫২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফারুক হাসান বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে একসময় তাচ্ছিল্য করা হলেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অর্জন।’ ‘গত ৫ দশকে যে অর্জনগুলো আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অর্জন হলো প্রথম সারির তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে উঠে আসা।
‘আনন্দের বিষয় হলো- পোশাক শিল্পের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আমাদের রফতানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি হয়েছে। আর আমাদের এই খাতটির ওপর ভর করেই এবার দেশেল মোট রফতানি আয় ৫২ দশমিক শূন্য আট ০৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।’ ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন বলে আমরা মনে করি।’ অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, মিরান আলী, পরিচালক ব্যারিস্টার শেহরিন সালাম ঐশী, আসিফ আশরাফ, মহিউদ্দিন রুবেল।