ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

নতুন জামদানি বুটিক ‘টানাপোড়েন’

দেশের মানুষের জামদানি ক্রয় সক্ষমতা বাড়ছে ॥ বস্ত্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৮:১৪, ৫ জুলাই ২০২২

দেশের মানুষের জামদানি ক্রয় সক্ষমতা বাড়ছে ॥ বস্ত্রমন্ত্রী

জামদানি বুটিক টানাপোড়েনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন 

বাঙালীর সোনালী অতীত ঐতিহ্যের প্রধান বাহন বয়নশিল্প তাঁতিদের পৃষ্টপোষকতায় বয়নশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দেশের বাজারে জামদানি শাড়ি জামদানি সামগ্রীর সমাহার নিয়ে এসেছে নতুন জামদানি বুটিকটানাপোড়েন

বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং পিকেএসএফ এর পার্টনারশিপে সেবা সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট এর অধীনে এটি একটি সাসটেইনেবল জামদানি বুটিকটানাপোড়েনএর মূল উদ্দ্যেশ্য হলো জামদানি শিল্পের সাথে জড়িত তাঁতি/উদ্যোক্তাদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে সহায়তা করা এবং মার্কেট লিংকেজ স্থাপন করে উৎপাদিত পণ্য প্রিমিয়াম বাজারে তুলে ধরা টানা ভরনার নিপুন কৌশলে নকশা ফুটিয়ে জামদানি বস্ত্র বয়ন করা হয়, বুননের এই ছন্দে অন্তমিল রেখেই এই নামকরণটানাপোড়েন

আসন্ন ঈদুল আজাহার আনন্দকে সামনে রেখে গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে এই বুটিকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র পাট মন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী, এমপি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তারাবো পৌরসভার মেয়র মিসেস হাছিনা গাজী, পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক . নমিতা হালদার এনডিসি, সেবা নারী শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এর নির্বাহী পরিচালক সাইদা রোকসানা খান, জামদানি বিশেষজ্ঞ চন্দ্র শেখর সাহা সহ আরও বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র পাট মন্ত্রী বীর প্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী টানাপোড়েন-এর উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জামদানি বাঙালির ঐতিহ্য তাঁতিদের একটা শাড়ি বুনতে মাসের পর মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয় কিন্তু এরপর যদি তারা যথাযথ পারিশ্রমিক না পেয়ে থাকেন তাহলে তাদের টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে একটা বিষয় হলো একটা দেশ অর্থনৈতিকভাবে যত স্বচ্ছল থাকবে, সে দেশের ঐতিহ্য তথা তাঁতিরা তত টিকে থাকবে আশার ব্যাপার এখন আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছি পদ্মাসেতু হলো, দিন যত যাচ্ছে অর্থনৈতিকভাবে আমরা আরও স্বচ্ছল হচ্ছি, যার ফলে আমাদের দেশের মানুষ জামদানি ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হবে

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তারাবো পৌরসভার মেয়র হাছিনা গাজী বলেন, "আমি নিজে রূপগঞ্জের বাসিন্দা প্রায়ই জামদানি পল্লীতে যেয়ে থাকি, অতি কাছ থেকে দেখি তাঁতিদের কাজ টানাপোড়েন-এর সংশ্লিষ্ট সকলে তাঁতিদের উন্নয়নের কথা ভেবে যে উদ্যোগ নিয়েছে তাদের কাছে কৃতার্থ তাদের নেয়া মহান উদ্যোগের জন্য অভিবাদন জানাচ্ছি"

পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক . নমিতা হালদার এনডিসি বলেন, "আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বুটিকে রূপান্তরিত হওয়া দেখে আমি খুবই আনন্দিত তাঁতিদের কথা ভেবে তাদের স্বচ্ছলতার জন্য টানাপোড়েন-এর উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়"

অনুষ্ঠানে মসলিন দক্ষ মোহাম্মদ রুবেল নামের একজন তাঁতি বলেন, "ঢাকায় জামদানি নিয়ে একটা বুটিক হয়েছে এতে আমি অনেক আনন্দিত আমরা তাঁতিরা আমাদের ন্যায্য মজুরি পাবো এটা আমাদের জন্য একই সাথে আনন্দের গর্বের বিষয়"

পুরষ্কার বিজয়ী তাঁতি সিদ্দিক দম্পতি বলেন, গত দশ-বারো বছর ধরে আমরা জামদানি বুননের সাথে জড়িত দেড়শো-দুইশো বছর আগের ডিজাইনের জামদানি শাড়ি তথা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি ইচ্ছে আছে সামনে আরও এগিয়ে যাবো যদি টানাপোড়েন-এর মতো বুটিকের সহায়তা আমাদের পাশে থাকে আমরা চাই আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য আরও বছরের পর বছর টিকিয়ে রাখার"

জামদানি বিশেষজ্ঞ চন্দ্র শেখর সাহা বলেন, "সব শাড়ির সাথে জামদানির তুলনা হয় না জামদানি এমন একটি শিল্প যার জন্য আমাদের তাঁতিদের করতে হয় অগাধ পরিশ্রমসবাই যদি তাঁতিদের পাশে থাকে সহায়তার হাত বজায় রাখে তাহলে আমি বিশ্বাস করি আরও হাজার বছর টিকে থাকবে জামদানি পণ্য"

জামদানি কাপড় নিয়ে এধরনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে সেবা নারী শিশু কল্যাণ কেন্দ্র -এর নির্বাহী পরিচালক সাইদা রোকসানা খান বলেন, “টানাপোড়েন কোন গতানুগতিক বিপনন কেন্দ্র নয় এখানে শুধুমাত্র তাঁতিদের নৈপুণ্যের প্রদর্শনীই নয়, এটি পরিবেশ উন্নয়নে সচেতন বিভিন্ন জামদানি উদ্যোক্তাদেরই পণ্য সামগ্রী প্রদর্শনাগার এছাড়া এটি কারিগর এবং এই কারুশিল্প সম্পর্কে তথ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে এই প্রাচীন কারুশিল্পটিকে সকলের কাছে উন্মুক্ত রাখবে