ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ॥ শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক

প্রকাশিত: ০৭:১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ॥ শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক

ডিজিটাল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার প্রত্যয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ। সরকারের ঘোষিত ১২টি জেলায় আইসিটি পার্ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিভাগের যশোর জেলায় বেজপাড়া শঙ্করপুর এলাকায় ২ লাখ ৩২ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তুলতে ব্যয় করা হয়েছে ৩০৫ কোটি টাকা। যশোর জেলায় আইটি পার্ক স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে সফটওয়্যার রফতানি করা। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, এই পার্কে দেশী-বিদেশী মোট ৪০টি আইটি কোম্পানিকে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জায়গা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা কোম্পানিগুলোর মধ্য থেকে আরও ১৫টিকে বাছাই করে রাখা হয়েছে। এসব কোম্পানিকে পর্যায়ক্রমে জায়গা বরাদ্দ দেয়া হবে। এখানে ৫০০০ তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। বিগত ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশ্বমানের আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের এপ্রিলে যশোরের বেজপাড়া শঙ্করপুর এলাকায় আইটি পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু“ হয়েছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গনভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পার্কটির উদ্বোধন করেণ ডিসেম্বর ১০, ২০১৭। প্রকল্পের সার্ভে প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এই পার্কে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ রয়েছে ১৫ তলাবিশিষ্ট মূল ভবন, ফাইভ স্টার বা পাঁচ তারকা মানের ১২তলা আবাসিক ভবন। রয়েছে অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টারের সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। বিদেশী উদ্যোক্তাদের চাহিদা বিবেচনা করে আবাসন ভবনের ১১তলা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের জিম। আর সব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে ভূমিকম্প প্রতিরোধক কম্পোজিট (স্টিল ও কংক্রিট) কাঠামোতে। প্রতিটি ফ্লোরে জায়গার পরিমাণ হচ্ছে ১৪ হাজার বর্গফুট। এতে থাকছে ৩৩ কেভিএ পাওয়ার সাবস্টেশন, ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট লাইন এবং অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিস বা উপযোগ সেবার সুবিধা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই পার্ক মোট ১২ হাজার মানুষের আয়ের উৎস হবে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেছেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। এ খাতে ২০ লাখ যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আইসিটি সেক্টর থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যা দেশটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ আইটি বা আইটি সক্ষম সেবা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল যা গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রতিষ্ঠিত। ২০১০ সালে সরকার হাইটেক পার্কগুলোর নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা, পরিচালন ও উনয়ন, আইসিটি শিল্পকে বিকাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ গঠন করেছিল। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, এই উদ্যোগগুলো আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করবে। ডিজিটাল অর্থনীতির কাছাকাছি যাওয়ার জন্য সরকার ১৭৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২টি আইটি এবং হাইটেক পার্ক স্থাপনের অনুমোদন দেয়। ২০১২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই প্রকল্পটিকে অনুমোদন করে, যেখানে ১৫৪৪ কোটি টাকা ভারত থেকে ক্রেডিট আকারে আসবে এবং বাংলাদেশ সরকার বাকি অংশটি বহন করবে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, নাটোর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, জামালপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা ও সিলেটে আইটি পার্ক নির্মাণ করা হবে। আইসিটি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উৎপাদন শিল্পে বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশে বেশকিছু হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নতুন হাইটেক পার্কগুলো সফটওয়্যার শিল্পের বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কেন্দ্র হবে। তারা দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান, ভারত ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, হাইটেক পার্কগুলোর প্রবর্তনের ফলে রফতানির রাজস্ব আয় বৃদ্ধির নতুন মাত্রা যোগ করবে। আইসিটি শিল্পে সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে উঠছে। বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি (বিএইচটিসি) বাংলাদেশে প্রথম আইটি বা আইটিইএস এবং হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সরকারের ‘দৃষ্টি ২০২১’-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, এটি এখন সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকার প্রকল্প। সামিট টেকনোপোলিস ২০৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভেতরে বিএইচটিসির দ্বিতীয় এবং পঞ্চম ব্লকের উন্নয়ন করছে। তার একটি অংশ এই বছর সম্পন্ন করা হবে। বিএইচটিএর সঙ্গে কনসাস এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ টেকনসিটি লিমিটেড (বিটিএল) ডিজাইন, বিল্টইন, ফাইন্যান্স, অপারেট, ওয়ান এবং ট্রান্সফার (উইঋঙঙঞ) মডেলের ব্লক ৩ বিকাশ, প্রচার এবং প্রচারের জন্য পাবলিক অধীনে বেসরকারী অংশীদারী উদ্যোগ বিটিএল প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য বিএইচটিসি ব্লকের ৩টি বিশ্বব্যাপী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সুবিধার বিকাশে এবং বাংলাদেশ ও বিএইচটিসিকে জাতীয় ও বহুজাতিক কর্পোরেশনের উভয়ের জন্য আকর্ষণীয় বিনিয়োগের স্থান হিসেবে উন্নীত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএইচটিসি ব্লকের ৩টি প্রথম বাণিজ্যিক মাল্টিটেন্যান্ট ভবন (বিটিএলের সোলারিস) নির্মাণাধীন এবং শীঘ্রই কার্যকরী হতে পারে বলে আশা করা যায়। যেমন- এটি ইতোমধ্যে বিটিএলের সোলারিসে ছোট থেকে মাঝারি একত্রিত ইউনিট স্থাপনের জন্য মেঝেতে অবস্থানের পাশাপাশি লিজ-আউট বাণিজ্যিক স্থানগুলিতে শুরু হয়েছে। মাল্টিটেন্যান্ট বিল্ডিং ছাড়াও, অন্যান্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শিল্প শাড়গুলি, মাঝারি আকারের বড় উৎপাদন প্লান্ট স্থাপনের জন্য, ব্লক ৩ এ আগ্রহী সংস্থাকেও দেয়া হচ্ছে। এর শুরু থেকেই হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ সফলভাবে জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোর শেখ হাসিনার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করেছে এবং সারাদেশে বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। যার মধ্যে সিলেট হাইটেক পার্ক (সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি) উন্নয়ন করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী যা ১ হাজার ২৪.০২ কোটি টাকা খরচে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেছেন, বিশ্ব মানের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সুযোগ সুবিধাদি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশী-বিদেশী আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আইটি/আইটিএস প্রতিষ্ঠান এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে পার্কে আকৃষ্টকরণ; আইসিটি পেশাজীবীদের জন্য চাকরির ক্ষেত্র তৈরি করা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ-ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। প্রায় ২ লাখ বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এখানে। বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও দ্রুত বাস্তবায়নের ফলে ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। সফটওয়্যার শিল্পের বিনিয়োগকারীরা এ দেশের আইটি সেক্টরে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তিক জাতি গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবেÑ এটাই প্রত্যাশা।