ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়ার্কওয়েটি এখন জরাজীর্ণ

​​​​​​​মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৫৯, ১৪ জুন ২০২৪

শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়ার্কওয়েটি  এখন জরাজীর্ণ

জরাজীর্ণ ওয়াকওয়ে (হাঁটাচলা রাস্তা) দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পথচারী ও দর্শনার্থীদের চলাচল

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফায়ার ঘাট, ড্যান্ডি ঘাট সেরোসিন ঘাটসহ বিভিন্ন জায়গায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীর রক্ষার্থে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়ার্কওয়েটি (হাঁটাচলা রাস্তা) এখন জরাজীর্ণ হয়েছে পড়েছে। ওয়াকওয়েটির বিভিন্ন স্থানে রেলিং ভেঙে অত্যন্ত বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীসহ দর্শনার্থীরা। ওয়াকওয়ের পিলারসহ বিভিন্ন স্থানে আস্তর খসে গিয়ে ইট-সুরকি রড বের হয়ে এসেছে। এমনকি ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থান ফাঁটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায়, অবহেলায় অযতেœ ওয়াকওয়টি এখন জীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার বুধবার নারায়ণগঞ্জ শহরের ফায়ারঘাট, কেরোসিনঘাট ড্যান্ডিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন গিয়ে ওয়াকওয়েটি জীর্ণ দশায় দেখতে পাওয়া যায়। সময় স্থানীয় লোকজন বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা কর্মচারীদের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জরুরি ভিত্তিতে ওয়াকওয়েটির জরাজীর্ণ অংশের সংস্কার কাজ করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দা দর্শনার্থীদের জানান।

জানা যায়, ২০১৫ সালের দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর রক্ষার্থে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। ওয়াকওয়েটি স্থানীয় জনগণের বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। এমনকি ওয়াকওয়ে প্রতিদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন অসংখ্য দর্শনার্থী। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দা আশপাশের মানুষের নানা ধরনের উপকার হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা উৎফুল্ল প্রকাশ করছেন। কিন্তু মাত্র -১০ বছর আগে নির্মিত ওয়াকওয়েটির অনেক স্থানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় পিলারের ওপর নির্মিত ওয়াকওয়ের রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে। ওয়াকওয়ের আস্তর খসে গিয়ে ইট-সুরকি, পাথর রড বের হয়ে এসেছে। এমনকি ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থান ফাঁটল দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে জীর্ণ দশায় পরিণত হয়েছে ওয়াকওয়েটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর চরম উদাসীনতা, অবহেলা অযতেœ কারণে ওয়াকওয়ের করুণ দশায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের ফায়ারঘাট, কেরোসিন ঘাট, দাদার ঘাট, খাল ঘাট ড্যান্ডি ঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত ওয়াকওয়ের অবস্থা খুবই করুণ। ওয়াকওয়েটি এখন খুবই জরাজীর্ণ। এখানকার ওয়াকওয়েটি পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে। ওয়াকওয়ের আস্তর খসে খসে পড়ছে। অনেক স্থানে রেলিং ভেঙ্গে পড়েছে। ইট, পাথর, সুরকি রড বের হয়ে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল ধরেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় বিআইডব্লিউটিএর শীতলক্ষ্যা নদীর ২২ নম্বর সীমানা পিলার এলাকা থেকে ২৭ নম্বর সীমানা পিলার এলাকার অংশটুকু একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে। জীর্ণ দশায় রয়েছে অংশটুকু। যে কোনো সময় ওয়াকওয়ে ভেঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা।

ফায়ার ঘাট এলাকার একটি কারখানার কর্মচারী রনজিৎ বলেন, ১০-১২ বছর আগে এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। ওয়াকওয়েটি স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা ধরনের উপকার হয়েছে। ওয়াকওয়ে লোকজন এখন বেড়াতে আসছেন। বিকেলে হলেই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়ে যায়। আবার ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন উৎসবে ওয়াকওয়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। পহেলা বৈশাখসহ নানা বন্ধের দিনগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীর ভিড় ভেড়ে যায়। কিন্তু এলাকায় ওয়াকওয়েটি গত - বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। ভেঙেছে রেলিংও। আস্তর খসে গিয়ে রড, সুরকি পাথর বের হয়ে এসেছে। ফায়ার ঘাট থেকে কেরোসিন ঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ের অবস্থা একেবারেই জরাজীর্ণ। একই এলাকার আয়নাল হক বলেন, ১০-১১ বছর আগে এলাকায় নদীর তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। মাত্র ১০-১১ বছরেই ওয়াকওয়েটি এত জীর্ণ দশায় পরিণত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মনে হয় নির্মাণ কাজের সময় অনেক ত্রুটি ছিল। কাজের মান সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, যদি ১০ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকে সেখানে ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হলে মান সঠিক থাকে না। ধরনের অনিয়ম হয়েছে এখানে। তাই ওয়াকওয়ের জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে।

নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা টুটুল মিয়া বলেন, - বছর ধরে ওয়াকওয়ের বেহাল দশায় পড়ে আছে। ওয়াকওয়েটি নির্মাণের পর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। অযত্ন-অবহেলায় করুণ দশায় পরিণত হয়েছে। একই এলাকার বাসিন্দা আরিফ মিয়া বলেন, নির্মাণের - বছর পর থেকেই ওয়াকওয়েটি জরাজীর্ণ হতে শুরু করে। এখন হালকা লাথি দিলেই ওয়াকওয়ের আস্তর ভেঙে যাচ্ছে। অনেক স্থানে ইট, সুরকি, পাথর রড বের হয়ে গেছে। মনে হয় যে কোনো সময় ভেঙ্গে পড়বে। সুজন মিয়া বলেন, রাতে বেলা জরাজীর্ণ ওয়াকওয়েটি চলাচল করা বিপদজনক হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে রেলিং না থাকায় ওয়াকওয়ে দিয়ে চলাচল করা রাতের সময় মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ওয়াকওয়েটি সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তা না হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের প্রকল্প পরিচালক মো. শাহনেওয়াজ কবীর উক্ত স্থানে ওয়াকওয়ের জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ওয়াকওয়েটি ২০১৫ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান প্রকল্পের অধীনে এটি নির্মাণ হয়নি। ঢাকা নারায়ণগঞ্জে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়মতো সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে নির্বাহী প্রকৌশলী যারা আছেন তারা সংস্কার কাজ করছেন। তবে বাজেটের কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রতিবছর সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন। তবে বাজেট সংকটের কারণে সংস্কার কাজ করা হয়নি এটি সত্য। সংস্কার কাজ বাৎসরিকভাবে টুকটাক করা হচ্ছে। তবে জরাজীর্ণ অংশের সংস্কার কাজ পর্যায়ক্রমে করা হবে।

 

 

 

×