ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সংস্কৃতি সংবাদ

খুদে শিল্পীদের ক্যানভাসে উঠে এলো বিচিত্র বিষয়

সংস্কৃতি প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৫৫, ২৭ মে ২০২৩

খুদে শিল্পীদের ক্যানভাসে উঠে এলো বিচিত্র বিষয়

জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে গ্রীন আর্ট স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনীতে ছবি দেখছেন দর্শনার্থীরা

প্রদর্শনালয়জুড়ে ছড়িয়ে আছে বিবিধ বিষয়ের ছবি। খুদে চিত্রকরদের রং-তুলির আঁচড়ে মূর্ত হয়েছে যাপিত জীবনচিত্র থেকে নিসর্গের নান্দনিকতা। কারো ক্যানভাসে উঠে এসেছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। কেউবা এঁকেছে মেঠাপথের সঙ্গে বৃক্ষ আর লতা-পাতায় শোভিত গ্রামীণ জনপদের দৃশ্যকল্প। শিশু থেকে কিশোর-কিশোরীদের ভাবনার জগৎ থেকে বাদ যায়নি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি কিংবা সংস্কৃতি। কিছু ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা। কেউবা এঁকেছে গভীর সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো সাম্পানের ছবি। সেসবের মাঝে নজর পড়ে নিপুণ দক্ষতায় চিত্রিত স্টিল লাইফের কিছু চিত্রকর্ম। চারপাশে চেনা জগতের বাইরে নিজস্ব ভাবনা বা কল্পনার আশ্রয়েও আঁকা হয়েছে কিছু ছবি। সব মিলিয়ে দেখা
যায়, চিত্রকর্ম সৃজনে শিশু শিল্পীরা ধাবিত হয়েছে বিষয়ের সন্ধানে। শিল্পরসিকের নয়নে ভালো লাগার অনুভব ছড়ানো ছবিগুলো এঁকেছে গ্রিন আর্ট স্কুলের চারুশিক্ষার্থীরা। জলরং, ওয়েল প্যাস্টেল ও অ্যাক্রেলিক মাধ্যমে চিত্রিত চিত্রকর্মগুলো শোভা পাচ্ছে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে। সেসব ছবি নিয়ে চলছে প্রদর্শনী। ১৫১ শিল্পীর দুই শতাধিক শিল্পকর্মে সজ্জিত এই এই শিল্পায়োজনের সূচনা হয় শনিবার।
ক্যানভাসে নিজস্ব অনুভূতিকে মেলে ধরেছে লুবাইয়ানা তাজওয়ার আশেক। অন্তর্গত একাকিত্বের অনুভব উঠে এসেছে তার চিত্রপটে। চারপাশে ছাই রঙের প্রলেপে আবৃত ক্যানভাসে চমৎকারভাবে মূর্ত হয়েছে নারীর অবয়ব। ঊর্ধ্বমুখী ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে থাকা সে রমণীর দুই হাত আশ্রয় নিয়েছে কাঁধের ওপর। আর ওই দুই হাতের মাঝ দিয়ে ঝরছে বিষণœতার গল্পময় রক্তের স্রোতধারা। মেঘলা দিনে গ্রাম বাংলার মেঠোপথে চড়ে বেড়ানো গৃহপালিত পশুর সমান্তরালে কুঁড়ে ঘরের ছবি এঁকেছে আবিদা আশরাফ মোহনা।

নীল জলে ভাসমান সাদা শাপলা ফুলের ছবি এঁকেছে লারজানা আদন লিনিয়া। দেবলিনা ভট্টাচার্যের ক্যানভাসে উদ্ভাসিত হয়েছে নদীতটে ভিড়ে নৌকার সারি। ধান পেকে হলদে রংয়ের ঢেউ তোলা ফসলের মাঠের ছবি এঁকেছে রাইয়ান মনজুর। জলরংয়ের আশ্রয়ে ঢেঁকিতে ধানভাঙার দৃশ্যচিত্র মেলে ধরেছে রাশেদ শাহীনের চিত্রপট। বাঙালি জাতিসত্তার বীরত্বগাথার অধ্যায় একাত্তর স্মরণে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিসেনাদের লড়াইয়ের ছবি এঁকেছে অরিত্র আহমেদ।     
শনিবার বিকেলে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান শিল্পী বীরেন সোম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আরেক চিত্রশিল্পী আব্দুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রিন আর্ট স্কুলের পরিচালক মিন্টু দে। 
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, একটি শিশু যখন আঁকা শেখে তখন চারপাশ দেখতে শেখে। এতে তার মনে তৈরি হয় গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। তার জানা বোঝা হয় জগতের জীবন ও বড়, আলো ও ছায়া, দৃশ্য-অদৃশ্যের সঙ্গে। আঁকাবাঁকা কিছু রেখা টেনে সে বাতাস যেমন আঁকে তেমনি হাস্যরতম ছোট বিড়াল ছানাটাও রয়ে যায় তার শিল্পিত পথরেখার মানসভুবনে। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে ২৯ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

×