ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৪ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত

ডিএনডি লেক এখন বিনোদন স্পট

মো. খলিলুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ০০:০৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩

ডিএনডি লেক এখন বিনোদন স্পট

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক এখন দৃষ্টিনন্দন লেকে পরিনত হচ্ছে

কদমতলীর বাসিন্দা আলী আকবর প্রতিদিন বিকেল হলেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) লেকের (ক্যানেল) পাড়ে ঘুরতে আসেন। লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটি ও বিনোদনের আশায় ছুটে আসেন তিনি। শুধু তিনিই নন তার মতো অসংখ্য বিনোদন পিয়াসী লোকজন বিকেল হলেই চলে আসেন ডিএনডির লেকের পাড়ে। এ ছাড়াও সকালে ও বিকেলে ডায়াবেটিস রোগীসহ অসংখ্য মানুষ লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটি করতে ছুটে আসেন।

এমনকি অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীও কদমতলী, নয়াপাড়া, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার ডিএনডি লেকে ঘুরতে আসছেন। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) লেকটি (ক্যানেল) এখন দৃষ্টিনন্দন বিনোদনের স্পট হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। এখনো ডিএনডি লেকের উন্নয়ন কাজটি পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ বিনোদনের স্পটটি সিটি গভর্ন্যান্স প্রজেক্টের (সিজিপি) অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন করছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে লেকের সৌন্দর্যবর্ধন ও পুনর্খনন, এম্ফিথিয়েটার, আরসিসি ব্রিজ, ফুটওভারব্রিজ, নৌকা চালানোর ঘাট, ভাসমান মঞ্চ, ওয়াটার গার্ডেন, ঝুলন্ত বাগান ও রাস্তাসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের উপকরণ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি দৃষ্টিনন্দন লেকে পরিণত হচ্ছে। ডিএনডি লেকটি বিনোদনের একটি স্পটে পরিণত করায় সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানায়, ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ডিএনডি সেচ প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং এ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণের জন্য গোদনাইলের নয়াপাড়া হতে ডেমরা সড়ক পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার জলাধার (লেক) নির্মাণ করা হয়। পরে লেকটি আরও সম্প্রসারিত করা হয়। এ লেকটি ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার জলাধার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পড়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে এই এলাকায় জনবসতি ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় অবৈধ দখল, দূষণ ও প্রতিনিয়ত মানুষের বর্জ্য ফেলার কারণে লেকটি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে পরিণত হয় এবং কালক্রমে লেকের অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে। বিলুপ্ত জলাধারটি উদ্ধার ও নির্মল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সিটি গভর্ন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিএনডি লেক (শিমরাইল হতে নয়াপাড়া পর্যন্ত) পুনর্খননসহ লেকের পশ্চিম পাড়ে আরসিসি রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ, ওয়াকওয়ে, ল্যান্ডস্কেপিংসহ সৌন্দর্যবর্ধন শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়।
প্রকল্পে যা যা থাকছে : ডিএনডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার আরসিসি রাস্তা, ৪ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খনন, সিসি ব্লক দ্বারা খালের পাড় বাঁধাই, ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার ডিভাইডার ওয়াল নির্মাণ, ১টি এম্ফিথিয়েটার, ৯টি নৌকা চালনার ঘাট, ৩টি ভাসমান মঞ্চ, ৩টি ওয়াটার গার্ডেন, ৩টি ঝুলন্ত বাগান, ৯টি পাবলিক টয়লেট, ২টি ফোয়ারা, ২টি ওয়েটিং শেড, ১৫টি প্লান্টার বক্স, ২৮টি ডাস্টবিন, স্ট্রিট লাইট সিঙ্গেল ২৮টি এবং ডাবল ১৮২টি, ৬টি দোলনা, ২টি সুইং স্লাইট, ৭টি ঢেকিকল, ৩টি ব্রিজের মই, ১৩২টি সিটিং বেঞ্চ, ৩টি আরসিসি ব্রিজ এবং ৩টি ফুটওভার ব্রিজ অন্তর্ভুক্ত আছে। যা অধিকাংশই নির্মিত হয়েছে বলে সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছেন।
লেক তৈরি হওয়ায় পরের সুবিধা : প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের পরিবেশ উন্নয়নসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের গণপরিসরের চাহিদা পূরণ হবে। এ ছাড়া খালটি অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণের জন্য সংরক্ষিত জলাধার (রিটেনশন পুকুর) হিসেবে কাজ করবে। অপরদিকে অগ্নিকা- নির্বাপণের জন্য পানি সরবরাহের একমাত্র প্রধান উৎস হিসেবে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে বলে সিটি করপোরেশন মনে করে। সিদ্ধিরগঞ্জ লেকটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের মাধ্যমে নগরবাসীর একঘেঁয়েমি জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে সিটি করপোরেশন জানায়।
লেকটি বিনোদন স্পটে পরিণত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত : কদমতলীর নয়াপাড়ার বাসিন্দা মাসুদ হোসেন বলেন, ডিএনডি লেকটি বিনোদনের স্পট হিসেবে তৈরি হচ্ছে, এতে আমরা আনন্দিত হয়েছি। আমাদের শিশু, কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে বিনোদনের জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এ লেকটির পুরোপুরি কাজ শেষ হলে এখানে আমাদের শিশু, কিশোর-কিশোরীরা বিনোদন পাবে। বিনোদনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লোকজনও এখানে ছুটে আসবে। মিজমিজির মজিববাগের বাসিন্দা সিয়াম হোসেন বলেন, ডিএনডি লেকটি বিনোদনের স্পট হিসেবে তৈরি করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এটি এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। মিজমিজি আল-আমিন নগরের বাসিন্দা ও কলেজ ছাত্রী সায়লা আক্তার বলেন, এখনো ডিএনডি লেকের কাজ শেষ হয়নি, তবুও এখনই বিনোদনের জন্য বিকেল হলেই আমরা ছুটে আসি। কদমতলী গ্যাস লাইন, মিজমিজি মজিববাগ ও কদমতলীর নয়াপাড়া এলাকায় সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, বিকেল হলেই লোকজন এ লেকের পাড়ে এখনই ঘুরতে আসছেন। ডিএনডি লেকের মধ্যে অনেক নির্মিত স্থাপনাও দৃশ্যমান হয়েছে।
এখন ডিএনডি লেকটি বিনোদনের স্পটে পরিণত করার কাজ চলমান রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন বলেন, ৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এটির উন্নয়ন কাজ ৭০-৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প কাজের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের মালামালগুলো ভরাট করে ডিএনডি লেকে রাখা হয়েছে। এ কারণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেকের কাজটি সম্পূর্ণ শেষ করা যাচ্ছে না।

 

×