ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২৩

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

ডিজিটাল যুগেও রাজধানীতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সনাতন পদ্ধতিতে

সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের অন্দরমহল আসলে কেমন হয়? বিশালাকার পাঁচিল ঘেরা বাড়ি। বাড়ির ভেতরে কী থাকে? শোবার ঘর। বসার ঘর। আরও কত শত কামরা। কেমন হয় সেগুলো দেখতে? সাজানো-গোছানো হয় কতটা? সাধারণ মানুষের মনে এমন হাজারটা প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর জানার সুযোগ এতকাল হচ্ছিল না। তবে সবসময় সাধারণের কাতারে নিজেকে রাখা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ সুযোগ করে দিয়েছেন।

প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের দরজা কিছুটা হলেও খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ‘বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি’র আজকের গল্পের শুরুতে এ প্রসঙ্গটিই টানা যাক। জানা যাচ্ছে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ইচ্ছায় অন্তত এক বছর ধরে বিভিন্ন সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হচ্ছিল বঙ্গভবনে। এর অংশ হিসেবে কম্পাউন্ডের ভেতরে বহু কাল জীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ভবনকে ভেঙে নতুন করে সাজানো হয়েছে। বিমান হামলা থেকে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষার জন্য ষাটের দশকে বঙ্গভবনের ভেতরে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সামনে আসা ভবনের মূল নাম শেল্টার হাউস।

দর্শনার্থীরা এটি ঘুরে দেখতে পারবেন। তাদের জন্য  অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে তোশাখানা জাদুঘর। ‘তোশাখানা’ বিষয়টি আগে পরিষ্কার করা যাক। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিজ দেশের বাইরে বিশ্বের নানা দেশ সফর করেন। সফরকালে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে বিচিত্র উপহার সামগ্রী পেয়ে থাকেন তারা। এগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের নিয়ম রয়েছে। সে লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে বঙ্গভবনের ভেতরে তোশাখানা ভবন নির্মাণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে পরবর্তী সময়ে তোশাখানায় তেমন কোনো উপহার সামগ্রী জমা পড়ত না বলে জানা যায়। ভবনটিও ক্রমে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

জরাজীর্ণ এই ভবন ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এটিই এখন তোশাখানা জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। তারও আগে তোশাখানার কিছু নিদর্শন নিয়ে একই নামে বিজয় সরণিতে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে বঙ্গভবনের জাদুঘরটি ঘিরে আলাদা কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে আছে দানা দিঘি, সিংহ পুকুর ও পদ্মপুকুর। সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজের পর এইসব পুকুর ও দিঘি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গভবনের ভেতরে একটি পুরনো ঐতিহাসিক মার্সেডিজ গাড়ির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এসব প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তখন থেকেই দারুণ কৌতূহলী হয়ে উঠেছে ঢাকাবাসী। তাদের কৌতূহলের বিপরীতে বঙ্গভবন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর জানাচ্ছে, দর্শনার্থীদের জন্য পরিসরটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিদায়ের আগে তিনি এটির বাস্তবায়ন দেখতে চান। তবে কোন পদ্ধতিতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করা যাবে, সে সম্পর্কে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। মূলত সীমিত আকারে বঙ্গভবনের একটি অংশ দর্শনার্থীদের জন্য চালু করা হবে।

অনলাইনে টিকিট কেটে দর্শনার্থীরা বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থী, দেশের ভালোর জন্য কাজ করা ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন। এখন দেখার বিষয় রাষ্ট্রপতির এই চাওয়া, একইসঙ্গে সাধারণের স্বপ্ন কতটা পূরণ করা হয়। 
ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি যেন এক পরিহাস ॥ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে। এর পক্ষে সরকারিভাবে নানা প্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার রাস্তায় নামলে এগুলোকে অর্থহীন অসার বলে মনে হয়। সব মিলিয়ে যে ছবি চোখে পড়ে শহরের, সেটিকে এক কথায় বলা যায় ‘বিচ্ছিরি।’ অন্যান্য অসঙ্গতি বিশৃঙ্খলা তো আছেই, জনদুর্ভোগ বহুগুণে বাড়িয়েছে ট্রাফিক সিস্টেমের দুর্বলতা। এখানে ‘সিস্টেম’ মানে, ‘সিস্টেম লস।’ সিগন্যাল বাতি যেন পরিহাস। ঢাকার কোথাও সবুজ-হলুদ-লাল আলো জ্বলে উঠতে দেখা যায় না। ঢাকা সেনানিবাসের কথা আলাদা।

আম জনতার ঢাকায় সিগন্যাল চির অন্ধকারে ডুবেছে। কোনো কোনো রাস্তায় খুব খেয়াল করলে বাতি চোখে পড়বে। সেগুলো অতি অবশ্যই বিকল। যদিওবা আলো জ্বলে ওঠে, সেটি দেবে ভুল বার্তা। গোটা দুনিয়ায় সিগন্যাল বাতি দ্বারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর বাইরে কেউ কিছু কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে হাত উঁচু করে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। যখন খুশি হাত উঠাচ্ছেন। নামাচ্ছেনও একই নিয়মে। শুধু অবশ্য হাত নয়, গাছের কাঁচা ডাল ভেঙে হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। একটু উনিশ-বিশ করলেই ওই ডান্ডা হাতে রিক্সাচালকদের উপর চড়াও হন।

দিনভর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশ কষ্ট করেন, সে কথা স্বীকার করতে হবে। তবে উপড়ি কামাইয়ের বিষয়টিও কারও অজানা নয়। অভিযোগ রয়েছে, এই উপড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়েই ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি চিরতরে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্মার্ট এবং ডিজিটাল বাংলাদেশও কি ছবিটা বদলাবে না? আমরা, আসুন, আশা করি। আশাটুকু ধরে রাখা জরুরি। 
নতুন স্টেশনে মেট্রো ॥ রাজধানীর উত্তরা থেকে ছেড়ে আসা মেট্রোরেল এখন পল্লবী স্টেশনে থামছে। মিরপুরের পল্লবী থেকে আগারগাঁও আসতে যাত্রীদের সময় লাগছে মাত্র ৭ মিনিট। এর ফলে বেড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিনের প্রয়োজনে মেট্রো ব্যবহার করতে শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীরা। গত ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেল চালু হয়। এতদিন দুটি স্টেশনে যাত্রীরা চলাচল করতে পারতেন। বুধবার থেকে পল্লবী স্টেশনে ট্রেন থামতে শুরু করেছে। এখানেই শেষ নয়, সহসাই আরও কয়েকটি স্টেশন চালু করা হবে। আর তা হলে দারুণ উপকৃত হবেন রাজধানীবাসী। আপাতত সে সময়ের অপেক্ষা। 

×