ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

প্রকাশিত: ২৩:৫০, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

ট্রাক মালিক-চালকদের এই দখলদারিত্ব, এমন মস্তানি প্রতিরোধের যেন কেউ নেই

কী লড়াইটাই না করেছিলেন আনিসুল হক! মেয়রের সবটুকু শক্তি, সাহস ও সামর্থ্য নিয়ে রাজধানীবাসীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সাতরাস্তা মোড় থেকে তেজগাঁও রেললাইন পর্যন্ত সড়কটি অবৈধ  ট্রাকস্ট্যান্ডের পেটের ভেতরে চলে গিয়েছিল। ট্রাক মালিক, শ্রমিক ও চালকদের মস্তানি, হুঙ্কার সব ব্যর্থ করে দিয়ে সড়ক উদ্ধার করেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালের ঘটনা। দারুণ এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন আনিসুল হক।

তার সেই সাহসী সংগ্রামের কথা এখনও লোকের মুখে মুখে ফেরে। কিন্তু আজ আর আনিসুল হক বেঁচে নেই। এবং কী আশ্চর্য, তিনি নেই বলে সড়টির দিকে লক্ষ্য রাখারও কেউ নেই। ফলে পুনরায় দখল শুরু হয়। একটু একটু করে এগোচ্ছিল দখলবাজরা। দিনেরবেলায় প্রথমে এক সারি পার্কিং দেখা গেছে রাস্তায়। আর রাতে দুই সারি। নিত্য যাতায়াতকারীর দুর্ভোগ এভাবে বাড়ছিল। কিন্তু ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ এ নিয়ে কথা বলছিলেন না। ফলে এ পর্যায়ে এসে গোটা রাস্তাটি যথারীতি দখল হয়ে গেছে। ট্রাক মালিক, চালক ও শ্রমিকরা বিগত দিনের মতোই মস্তানের ভূমিকায়। রাস্তার পুরোটাজুড়ে বিশাল বিশাল ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ফেলে রাখছেন। রাত-দিন নিয়েও তারা আর ভাবছেন না। ভরদুপুরে সড়কটিকে ডিপো মনে হচ্ছে।

আর সন্ধ্যার পর তো রিক্সা ঢোকারও সুযোগ থাকছে না। প্রায় ১০০ ফুট চওড়া সড়ক দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যানজট হয়ে গেছে নিত্যদিনের ঘটনা। এ পথেই ফার্মগেট ও কাওরানবাজার থেকে সাতরাস্তা হয়ে তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, গুলশান, নিকেতনে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, বহু সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সড়কটি ব্যবহার করেন।

এখন তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আর একপাশের ফুটপাথ তো চোখেই দেখা যায় না। ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের পেছনের অংশ ফুটপাথের ওপর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ট্রাক-কাভার্ডভ্যানে ঘিরে রাখা ফাঁকা জায়গায় বসছে জুয়া ও মাদকের আসর। প্রতিবাদ করলে তাদের হামলার শিকার হচ্ছেন অনেকে। পথচারীসহ রিক্সা ও সিএনজি অটোরিক্সা যাত্রীদের গতিরোধ করে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে। সব দেখে পথটি ধরে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা বলছেন, এটা ওদের বাবা-দাদার টাকায় কেনা তালুক।

আমজনতা দুর্ভোগে পড়ছে, যানজটে নাকাল হচ্ছে; তাতে কার কী আসে যায়? আসলেই আসে যায় না। এই যেমন এখন ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে। তা করছে। মেয়র আনিসুল হক সড়ক উদ্ধারে  কোন মাথা ব্যথা নেই। মেয়র আতিকুল ইসলাম একাধিকবার সড়কটি পরিদর্শন করলেও, দখলের ব্যাপারে অজানা কারণে নীরব তিনি। এখন প্রশ্ন, এভাবেই কি চলবে?
নারী ফুটবলারদের বর্ণিল শোভাযাত্রা ॥ বিরল এ শোভাযাত্রা দেখল রাজধানী ঢাকার মানুষ। সাফ চ্যাম্পিয়ন, অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা হয়ে দেশে ফিরেছে নারী ফুটবল দল। একই কারণে সেরা বাংলাদেশ। ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরার মুহূর্তে উদ্যাপনটাও তাই যেনতেন ছিল না। বরং ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এমন বর্ণিল উদ্যাপন খুব কমই দেখা গেছে বৃহস্পতিবার। বিশেষ করে ছাদখোলা বাসে করে বিজয়ী খেলোয়াড়দের রাজধানী শহর প্রদক্ষিণ করার দৃশ্যটি ছিল একেবারেই নতুন।

ফুটবলপ্রেমী দেশগুলোতে এমন দৃশ্য হরহামেশা দেখা গেলেও বাংলাদেশে দেখা গেছে প্রথমবারের মতো। বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শুভাযাত্রা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হয়ে মতিঝিলের বাফুফে ভবনে গিয়ে শেষ হয়। দীর্ঘ যাত্রার পুরোটা সময় রাস্তার দুই ধারে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে বিজয় উদ্যাপন করেছে। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে নারী ফুটবলারদের বরণ করে নিয়েছেন তারা। গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়েছে। অপেক্ষমাণ পথিকের হাতেও ছিল লাল সবুজ পতাকা। নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ এক হয়ে গিয়েছিলেন। বর্ণিল শোভাযাত্রা থেকে নারী শক্তির উদ্যাপন, তৃণমূলের শক্তির জয়গান এবং ধর্মবর্ণ ভেদ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়া হয়েছে। সত্যি, এমন সাফল্য, এমন অর্থপূর্ণ উদ্যাপন খুব কম হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি ॥  দুর্গোৎসবের তেমন বাকি নেই। আর কিছুদিন পর শারদীয় দুর্গোৎসব। এরই মাঝে পাড়ায়, মহল্লায় ঢোকার পথে চোখে পড়ছে উৎসবের বার্তা প্রচার করা ব্যানার, ফেস্টুন। তারও আগে থেকে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এখন এ কাজ শেষের পথে। চলছে কেনাকাটাও। সব মিলিয়ে এবার জমজমাট উৎসব বলেই আশা করা হচ্ছে। ধর্ম যার যার,উৎসব সবার। সবার উৎসবের অপেক্ষায় এখন দেশ।