ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

মুহম্মদ শফিকুর রহমান

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে...

প্রকাশিত: ০৪:০৬, ১৭ মার্চ ২০১৮

বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে...

‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না।’ -বঙ্গবন্ধু আমরা যারা মধ্য ষাটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তখনকার ক্যাম্পাস দেখেছি, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুনেছি সরাসরি, ১০-১২ লাখ মানুষের ভিড়েও মঞ্চের অদূরে দাঁড়িয়ে তখন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) আকাশে ২টি হেলিকপ্টার গানশিপ উড়ছিল, উদ্যানের চারদিকে ঘুরছিল মোটা মোটা ব্যারেলের কামানবাহী কয়েকটি গান-ক্যারেজ এবং পেছনের রমনা গ্রীন ছিল পাকিস্তানী মিলিটারি সৈন্যে ভরা- এই বৈরী ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই রচিত হয়েছিল বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না।’ এ মহাকাব্যের কবি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিছু মানুষ ইতিহাস সৃষ্টি করেন, ইতিহাস কিছু মানুষকে সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধু ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। তিনি যখন ভাষণটি দিচ্ছিলেন তখন তিনি ছিলেন এক যুগেরও অধিককাল জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে করে নিজেকে খাঁটি সোনারূপে গড়ে তোলা দৃপ্ত যৌবনের প্রতীক। ফর্সা চেহারা, গৌরবর্ণ মেদবিহীন ছ’ফুট লম্বা শরীর, মোটা কালো ফ্রেমের চশমার মাঝে রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের মতো তীক্ষè দুটি চোখ, ব্যাকব্রাশ করা চুল, মোটা গোপ, একেবারেই আলাদা, ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। বঙ্গবন্ধু যখন উচ্চারণ করছিলেন ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’ তখন ভ্রম হচ্ছিল এ কার কণ্ঠ? একি আব্রাহাম লিঙ্কনের, নাকি ভøাদিমির ই লেনিনের? না, এ আমাদের একেবারেই আপনজনের কণ্ঠে। সে নাম মা শেখ সায়েরা খাতুন ও বাবা শেখ লুৎফুর রহমানের খোকা, হাজার বছরের বাংলা ও বাঙালীর কাছে টুঙ্গিপাড়ার শেখের বেটা বা শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের কাছে বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালীর জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সারাজীবন আপামর বাঙালী জনগোষ্ঠীর রাজনীতি করেছেন। এ প্রশ্নে এক বিন্দুও ছাড় দেননি। তাই ‘দাবায়া রাখতে পারবা না’ কথাটি বলার আগে আরেকটি কথা বলেছেনÑ ‘আমি, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।’ এই কথা বলে তিনি হাজার বছরের আপামর বাঙালীকে সঙ্গে নিয়ে নিলেন। লক্ষ্য করার বিষয় হলো তিনি যখন ‘প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না’ বলেছিলেন তখন তিনি দু’বার ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। সঙ্গে সঙ্গে যখন ‘মানুষের অধিকার চাই’ তখন ব্যবহার করেন ‘আমরা’ শব্দটি। এই ‘আমরা’ শব্দ ব্যবহার করে তিনি ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে নিলেন। ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না’ এটি কথার কথা ছিল না। যুক্তফ্রন্টের সময়ও তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দলের সাধারণ সম্পাদক পদ গ্রহণ করেছিলেন। বস্তুত যে রাজনৈতিক কর্মী ভবিষ্যত দেখতে পান না তিনি নেতা হতে পারেন না। বড় জোর কুদেতা বা ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচার বা মস্তান হতে পারেন। নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই ভবিষ্যত দ্রষ্টা হতে হবে। কেবল তখনই তিনি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারবেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম বা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্ব দিতে পারবেন। যে রাজনৈতিক কর্মী জনগণকে চেনেন না, বোঝেন না তিনি পেছনে হাঁটেন। আর যে মানুষটি আমরণ মানুষের সামনে হেঁটেছেন তিনি বঙ্গবন্ধু। এজন্যই মাত্র ৫১ বছর বয়সে একটি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। মাত্র ৫৫ বছর তাঁকে বাঁচতে দিয়েছে ঘাতকরা। আজ আমাদের গড় আয়ু ৭১ বছর এবং এই বয়সটিও তিনি যদি পেতেন তাহলে অনুন্নত দেশের গহ্বর থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে আসতে আমাদের এতদিন লাগত না বা যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করতে হতো না। কতই দেখলাম, ছড়ি ঘোরানো মিলিটারি, ম্যাডাম চেয়ারপার্সন দেখলাম, কোন অবদান তো দেখলাম না। বরং ম্যাডাম এখন দুর্নীতির মামলার রায়ে কারাগারে। বিদেশে পলাতক দুর্নীতিবাজ পুত্র। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো বা হাজার বছরের নিপীড়িত বাঙালী স্বাধীন হতো এ আমি বিশ্বাস করি না। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে বেরিয়ে এমন একটি বর্বর পাকিস্তানী সামরিক জান্তার খপ্পরে আমরা বাঙালীরা পড়েছিলাম, যাদের বর্বরতা দেখেছি ১৯৭১ সালের ৯ মাস বা ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বর্বররা তাদের দখল কায়েম রাখতে মাত্র ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করল এবং ৫ লক্ষাধিক মা-বোনকে ধর্ষণ করল, হত্যা করল। পরন্তু এসব করল পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে এবং তাদের এদেশীয় দোসর গোলাম আযম-নিজামী-মুজাহিদ-সাকা চৌধুরীদের জামায়াত-শিবির-মুসলিম লীগ বাড়ি বাড়ি থেকে নারীদের তুলে নিয়ে পাকিস্তানী বর্বরদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে তুলে দিয়েছিল। কি জঘন্য ছিল পাকিস্তানী স্বৈরাচার গোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় দোসররা। যারা আজও কোন এক অর্বাচীন উর্দি পরা মিলিটারিকে ঘোষক বানাবার চেষ্টা করেন বা দুর্নীতিবাজ এক পরিবারকে রাজনৈতিক পরিবার বানাতে চান, তাদের প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে পাকিস্তানীদের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে একটি নিরস্ত্র জাতি সশস্ত্র হয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল কার অনুপ্রেরণায়? তা কি বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় নয়? জানি ওরা জবাব দেবে না, কারণ তারা বিএনপি করুক আর জামায়াত-হেফাজতই করুক কিংবা কেউ যত বামপন্থী কোর্তাই গায়ে চড়াক, তাদের মনোজগতে আজও চাঁদ-তারা পতাকা। তবে এটাও ঠিক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে যেভাবে বাংলা ও বাঙালীর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরছেন, ইতিহাস বিকৃতি সংশোধন করে চলেছেন, তাতে করে নতুন প্রজন্ম খুব দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিজেদের মধ্যে ধারণ করছে। সেদিন আর বেশি দূর নয় যেদিন চাঁদ-তারা পতাকাওয়ালারা আবার অন্ধকার বিবরে ঢুকে যাবে। নতুন প্রজন্ম তখন খুঁজে খুঁজে বের করে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা ও ৫ লক্ষাধিক মা-বোনের নির্যাতন এবং হত্যার হিসেব নেবে, এ বিশ্বাস আমাদের আছে। আমরা যারা ষাটের দশকের আন্দোলন দেখেছি, অংশ নিয়েছি, বঙ্গবন্ধুর দুনিয়া কাঁপানো অসহযোগ দেখেছি, অংশ নিয়েছি, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনেছি, সরাসরি যুদ্ধ করেছি এবং দেশ শত্রুমুক্ত করেছি, আমরা নিরাশায় ভুগি না। যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেই হতাশা ছড়ায় তারা কি কখনও ভেবেছে এই বাংলাদেশে কোন অভাব থাকবে না, পদ্মা সেতুর মেগা প্রকল্প সম্পন্ন হবে নিজস্ব অর্থায়নে? মঙ্গা-দুর্ভিক্ষ আজ আর জীবনে নেই, শব্দ দুটি এখন ডিকশোনারিতে ঢুকে গেছে। বাংলাদেশে আজ ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহৃত হচ্ছে, কারও কারও একাধিক সিম সচল; তাহলে হতাশা ছড়ানো সাহেব-ম্যাডামরা আর কি ছড়াবেন? বস্তুত বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে এমন এক শক্তি দিয়েছেন, যার বলে এবং তাঁর মতোই সাহসী, মেধাবী ও দূরদর্শী কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে চলেছি তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মাণের পথে। মাত্র ৫৫ বছরের জীবন। এই ছোট্ট জীবনেরও প্রতিটি দিন তিনি ব্যয় করেছেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে। ৩০-এর শেষের দিকে গোলাপগঞ্জ মিশন হাইস্কুল থেকে যাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু সেখান থেকে পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী নিলেন, ৪৬-৪৭ -এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেন; কিন্তু তারপর যে তথাকথিত স্বাধীনতা এলো তিনি দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখলেন এ স্বাধীনতা বাঙালীদের জন্য নয়। বরং মুহম্মদ আলী জিন্নাহ-জওহরলাল নেহরু এবং মহাত্মা গান্ধী ও মাউন্ট ব্যাটনরা মিলে ভারতটাকে ভাগাভাগি করে নিয়েছে মাত্র। তখনই বঙ্গবন্ধুও সিদ্ধান্ত নিলেন এবং ঢাকায় ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে ভর্তি হলেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা এত দ্রুত সত্যি হবে তা তখন অনেকেই বুঝতে পারেনি, পেরেছে যখন খোদ জিন্নাহ ঢাকায় এসে ঘোষণা দিলেন ‘Urdu and urdu shall be the state language of Pakistan’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘড়ঘড় বলে প্রত্যাখ্যান করল জিন্নাহর ঘোষণা, বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হলেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলো। বলা হয়েছিল মুচলেকায় সই করলে ছেড়ে দেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু মুচলেকা দেননি, প্রায় ২ বছর কারাভোগের পর বের হলেন। কিন্তু পেছনে তাকাবার তাঁর সময় কোথায়? মাত্র ৫০ বছর বয়সে তিনি ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দিলেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন : ‘This may be my last message, from today Bangladesh is independent. ও পall upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved’ এটিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে ঘোষণাটি দেয়ার পরপরই পাকিস্তানী হানাদার মিলিটারি বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে (পশ্চিম) পাকিস্তানে নিয়ে যায়। মানুষ স্বপ্ন দেখে। কেউ স্বপ্ন দেখে বাড়ি বানাবার, কেউ কোটিপতি হওয়ার, কত কত স্বপ্ন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন একটি জাতির স্বাধীনতার, বাঙালীর আপন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। তিনি অত বড় মাপের মানুষ ছিলেন বলেই অত বড় স্বপ্ন দেখতে পেরেছিলেন (অবশ্য তাঁর কন্যা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বাবার মতোই বড় বড় স্বপ্ন দেখেন, বাস্তবায়ন করে চলেছেন)। বস্তুত স্বাধীনতা ঘোষণার একমাত্র সাংবিধানিক নিয়মতান্ত্রিক অধিকার বঙ্গবন্ধুরই ছিল। ’৭০-এর নির্বাচনে বাংলার জনগণ পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে ১৬৭টি আসনে নির্বাচিত করে, যা ছিল পাকিস্তান পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর ভাষণটিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের গেটিসবার্গ ভাষণের (Gettysburg address) সঙ্গে তুলনা করেন। আমি মনে করি কোন তুলনাই চলে না। কেননা, আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। তিনি তার ভাষণটি দেন আমেরিকার স্বাধীনতার ৮৭ বছর পরে (fourscore and seven years ago our fathers brought forth on this continent, a nwe nation, conceived in liberty, and dedicated to the proposition that all men are created equal) অর্থাৎ তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাধীন জাতির বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে গৃহযুদ্ধ (ঈরারষ ধিৎ) দমনের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেন। বঙ্গবন্ধু তখনও কেবল একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের (’৭০-এর নির্বাচনে) নেতা এবং তাঁর মাথার ওপরে রাষ্ট্রশক্তি- তাও আবার ভিন্নভাষী ভিন্ন সংস্কৃতির সামরিক জান্তা। বঙ্গবন্ধু যখন বলছেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ, জয় বাংলা’ অর্থাৎ বাঙালীর জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা, আর আব্রাহাম লিঙ্কন একটি স্বাধীন জাতির রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি ঘোষণা করেছেন-That this nation, under god, shall have a nwe birth of freedom and that government of the people by the people for the people shall not perish from the earth.’ এটা বলেছি একটি দেশের স্বাধীনতার ৮৭ বছর (Fourscore and seven years ago) পরে রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কথা। তবে ৮৭ বছর আগে হলেও একটা জায়গায় দু’জনের মিল পাওয়া যায়। আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, and that this nation under god. shall not perish from the earth, আর বঙ্গবন্ধু বলেছেন, ‘৭ কোটি মানুষকে (বাঙালী) দাবায়ে রাখতে পারবা না, ... আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ যে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ তাঁর নাম ইচ্ছে করে ভুলে যেতে চায় বা যারা তাঁর পরিচয় জানে না বা গোপন করার ষড়যন্ত্র করে তাদের বলব, শোন, সে মানুষ শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ দক্ষিণ বাংলার এক ছায়া-সুনিবিড় গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার বনেদি শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ লুৎফুর রহমান ও মা শেখ সায়েরা খাতুন আদর করে ডাকতেন খোকা। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী সন্তানের হাতে দিন, ঠকবেন না। ঢাকা ॥ ১৫ মার্চ ২০১৮ লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি জাতীয় প্রেসক্লাব [email protected]