ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

পঞ্চগড়ে জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত

প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ

প্রকাশিত: ২৩:২৪, ২০ মে ২০২২

প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতা ১৮ টাকা কেজি দরে ক্রয় করবেন কারখানার মালিকরা। সেই সঙ্গে চাষী ও বাগান মালিকদের ভেজা চা পাতা সরবরাহ না করা এবং ভেজা ও পানিযুক্ত পাতা সরবরাহ করলে শতকরা ১০ ভাগ মূল্য কর্তন করা হবে। বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাঁচা চা পাতা মূল্য নির্ধারণ কমিটির জরুরী সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মোঃ জহুরুল ইসলাম এই ঘোষণা দিয়েছেন। এ সময় পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জয়শ্রী রানী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুদুল হক, বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক শাখার উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামিম আল মামুন, স্মল টি গার্ডেন ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন, পঞ্চগড়ের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মালিকগণ, চা চাষীসহ ক্ষুদ্র চা চাষী সমিতির কয়েকটি সংগঠনের নেতা এবং মূল্য নির্ধারণ কমিটির সদস্য মতামত তুলে ধরেন। বুধবার বিকেল তিনটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত চলে এই জরুরী সভা। সভায় প্রথমেই পঞ্চগড়ে চা বিষয়ে একটি প্রতিবেদন মৌখিকভাবে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন ড. শামীম আল মামুন। এ সময় কারখানার মালিকরা জানান নিলাম বাজারে চায়ের দরপতন, গুণগত মানসম্পন্ন চা পাতা সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়ছে তারা। চায়ের নিলাম বাজার যখন ভাল ছিল তখন ২৪ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে চা পাতা ক্রয় করেছেন। বর্তমানে নিলাম বাজারে সিলেটের চায়ের থেকে পঞ্চগড়ের চায়ের মান নি¤œ হয়েছে। দুটি পাতা একটি কুড়ি এই নীতি না মেনে বাগান থেকে চা পাতা সংগ্রহ করছেন চা চাষীরা। এই কারণে মানসম্পন্ন চা উৎপাদনে ব্যার্থ হচ্ছেন তারা। অপরদিকে চা চাষীরা জানান, তারা যে চা পাতা সরবরাহ করছেন সব পাতা দিয়ে উৎপাদিত চা নিলাম বাজারে না দিয়ে গোপনে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে বিক্রি করছেন বেশিরভাগ চা। স্থানীয় ভাবে নিলাম বাজারের চেয়ে বেশি দামে চা পাতা বিক্রি করলেও আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না। চা চাষীদের নেতা কামরুজ্জামান শেখ মিলন বলেন, বুক ভরা আশা নিয়ে চা বাগান তৈরি করেছে চা চাষী ও বাগান মালিকরা । বর্তমানে এক কেজি কাঁচা চা পাতায় উৎপাদন খরচ হয় প্রায় ১৭ টাকা। কিন্তু কারখানার মালিকরা চা পাতা ক্রয় করছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকায় । এভাবে চলতে থাকলে চা চাষে উৎসাহ হারাবে এ অঞ্চলের কৃষক। সভায় কারখানা মালিকদের কালোবাজারীর কথা উঠে আসলে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম একটি টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানালে জেলা প্রশাসক একটি টাস্কফোর্স কমিটি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসক মোঃ জহুরুল ইসলাম চা বোর্ডের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে চা চাষীদের উৎপাদন খরচ নির্ধারণ করতে বলেন। এরপর ড. শামীম আল মামুনের মতামতের ভিত্তিতে ১৮ টাকা প্রতি কেজি চায়ের মূল্য নির্ধারণ হয়। এর আগে ঈদের পর থেকে কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে পঞ্চগড়ের চা চাষীরা। এ নিয়ে জনকণ্ঠে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে চা বোর্ডসহ সরকারের নজরে আসে বিষয়টি। রেলমন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনসহ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে চাষীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে তাগিদ দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে কাঁচা চা পাতার দাম নির্ধারণে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, দুই পক্ষকে সভার সিদ্ধান্ত মানতে নির্দেশ দেন। এই নির্দেশ উপেক্ষা করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়ে দেন।