ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

উচ্চ আদালতের মন্তব্য

অর্থপাচারকারীরা কোন দেশে গিয়েই শান্তি পাবে না

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ১৮ মে ২০২২

অর্থপাচারকারীরা কোন দেশে গিয়েই শান্তি পাবে না

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অর্থপাচার-কারীদের কোন ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন আদালত। অর্থপাচারকারীরা পৃথিবীর কোন দেশে গিয়েই শান্তি পাবে না বলেও উল্লেখ করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেছেন। পরে আদালত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে গ্রেফতার ও দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত জারি করা রুল শুনানির জন্য আগামী ১২ জুন দিন ঠিক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অগ্রগতির তথ্য জানাতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক। অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আদালতের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘আমরা আদেশ দিলে পৃথিবীর কোন দেশে গিয়েই অর্থপাচারকারীরা শান্তি পাবে না। আমাদের আদেশের কারণেই আজ পি কে হালদার সারাবিশ্বের মানুষের কাছে অর্থপাচারের অভিযোগে ভিন্নভাবে আলোচিত। এটা ভাবার সুযোগ নেই যে, অন্য দেশে গেলে আমরা তার বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারব না। শুধু অর্থপাচারকারীর অবস্থানটা চিহ্নিত করে দিলেই আমরা তার বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারি। দেশের অর্থপাচারকারীর বিষয়ে কোন ছাড় নেই।’ ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল একে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, গত বছরের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারকে গ্রেফতারে রেড এ্যালার্ট জারি করে ইন্টারপোল। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ও তার কয়েক সহযোগীকে গত শনিবার গ্রেফতার করে ভারতের ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি)। পর দিন আদালতের মাধ্যমে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয় গ্রেফতারের পর ইডি সাংবাদিকদের জানায়, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর শিব শঙ্কর হালদার নামে ভারতীয় নাগরিকের সনদ জোগাড় করে পি কে হালদার। পশ্চিমবঙ্গের নকল রেশন কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং অন্যান্য কার্ডও তৈরি করান পি কে। সংস্থাটি আরও জানায়, পি কে হালদার এবং তার সহযোগীরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করছেন। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় নকল নাগরিক সনদ দেখিয়ে জমি কিনেছেন। পি কে হালদার জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া হতে বসে এবং গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। গোপনে দেশ ছাড়ার পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে পি কে হালদারের বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার গ্রেফতারের কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানতে চান হাইকোর্ট। হাইকোর্টে দাখিল করা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, পি কে হালদার কা-ে ৮৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের সব এ্যাকাউন্ট এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আর এসব তথ্যের আলোকে দুদক কাজ করছে। এই রিপোর্টের মাধ্যমে পি কে হালদারের অর্থপাচারের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি পাচার করেছেন এবং পাচার করা অর্থ কানাডা, সিঙ্গাপুর ও ভারতে পাঠিয়েছেন। তবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বাংলাদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। তিনি শিব শঙ্কর হালদার নামে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতেন।