শুক্রবার ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২০ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

আসছে নতুন শিক্ষাক্রম, সময়মতো চালুর বিষয়ে শঙ্কা

  • ‘সংখ্যাতত্ত্বে শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে’

সমুদ্র হক ॥ চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা শুরু হওয়ার কথা। তবে সময়মতো শুরু হবে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কথা ছিল ২০২২ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়ে পরের বছরে (২০২৩) বাস্তবায়নের পালা শুরু হবে। চার বছর পর (২০২৫) সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রমের পথে যাত্রা শুরু করবে দেশ। তবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে সমন্বিত শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত সময়ে সংসদে উঠবে। এদিকে কোভিডকালের পালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার পর সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ফের বন্ধ করা হয়েছে।

সুধীজনের কথা ॥ গত ৫০ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংখ্যাতত্ত্বে অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার যে হাল তাতে শিক্ষার মানে তেমন উন্নতি হয়নি। আশা করা হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমে উন্নীত হবে। কোভিড-১৯ কালে দেশের শিক্ষার্থীর পাঠ্যক্রমে বিঘœ ঘটিয়েছে। চার মাস আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর সেই বিঘœতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হয়। মাঝপথে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আপাতত দুই সপ্তাহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে কিনা সেই নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, করোনার ধাক্কায় দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় অগ্রগতিতে দেখা যায় ॥ ১৯৭২ সালে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬ শতাংশ। ৫০ বছর পর বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইজ) হিসাবে এই হার ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের মোট জনগোষ্ঠীর তিন চতুর্থাংশ অন্তত লিখতে পড়তে পারে। ব্যানবেইজ ৫০ বছরের শিক্ষায় সংখ্যার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস ২০২০ এ। বলা হয়েছে ১৯৭২ সালে দেশে ৭ হাজার ৭শ’ ৯১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ। বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৪৯টি। যেখানে এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। দেশে ৫২৬টি কলেজ ছিল ১৯৭২ সালে। ৫০ বছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭শ’টি। শিক্ষার্থী ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ১২১ জন। সারাদেশে সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার দুটি। এর মধ্যে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজারের বেশি। সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজরের বেশি প্রাথমিক স্কুলকে সরকারীকরণ করেছে। প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৯১ জন। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর হার ৫১ শতাংশ। দেশে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত মেয়ে শিক্ষার্থীর হার ৫৫ শতাংশ। কলেজ শিক্ষায় মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর সমতা এসেছে। বিশ^বিদ্যালয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে। আবার মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। দেশে ৯ হাজার ৩শ’৫টি আলিয়া ও দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী অন্তত ২৫ লাখ। বর্তমানে দেশের প্রতিটি স্থানে প্রায় শতভাগ শিশু কিশোর বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলগুলোতে ঝরে পড়ার হার ২০০৫ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে নেমে ১৮ শতাংশে এসেছে। শিক্ষকরা বলছেন ঝরে পড়ার হার ক্রমেই কমছে।

এদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের চিত্র খুব সুখকর নয়। ১৯৭২ সালে পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় ছিল ৬টি। বর্তমানে পাবলিক ও প্রাইভেট (বেসরকারী) বিশি^বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৫৮টি। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের মধ্যে কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় আছে। বেসরকারী বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলো ভালভাবে চলছে না। তাদের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তথ্য গবেষণা কার্যক্রমের দিক থেকে বেশিরভাগ প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় পিছিয়ে আছে। ২০২০ সালের রিপোর্টে বলা হয় ২৭টি বিশ^বিদ্যালয় গবেষণা খাতে কোন অর্থ ব্যয় করেনি।

এদিকে ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর বলা হয়েছিল এটি একটি বড় অর্জন। প্রায় এক যুগেও এই নীতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় অর্জন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই শিক্ষানীতিতে আছে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চমের স্থলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত হবে। আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। শিক্ষানীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো কাগজেকলমে রয়ে গেছে। এই শিক্ষানীতিকে টপকে জাতীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) নেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে বলা হয়েছে দশম শ্রেণীর আগে কোন পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পিইসি পরীক্ষা স্থায়ী করতে চাইছে। দেখা যাচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। প্রাথমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম বই প্রণয়ন করতে পারেনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এসসিটিবি) প্রাথমিক শাখা। ২০০৮ সালে শিক্ষায় সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয়। তাও ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন ॥ সংখ্যার দিক থেকে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়েছে। এই অগ্রগতি ধরে রেখে শিক্ষার মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আগামীর পৃথিবী প্রথাগত শিক্ষায় থাকবে না। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামনের পৃথিবীর অনুকূলে ঢেলে সাজাতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
জড়িত ৮৪ রাঘববোয়াল ॥ পি কে হালদারের অর্থপাচার         স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নাম পরিবর্তন হবে না         এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে         কোরানে হাফেজ হয়েও পেশা চুরি !         সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী দুর্ভোগ চরমে         চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা         গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে এ মাসেই         ছয় মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ॥ ১০ কাউন্সিলরের বাতিল         দক্ষ স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবাই আমাদের অঙ্গীকার         প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ         কারসাজি বন্ধে বাজারে বাজারে মনিটরিং সেল গঠনের তাগিদ         লিচুতে রঙিন রাজশাহীর বাজার ॥ ৪৪ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা         নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে ১০-১৫ লাখ টাকায় চুক্তি!         শেখ হাসিনার সততার সোনালি ফসল পদ্মা সেতু ॥ কাদের         দেশে সব ধর্মের মানুষ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ধর্মীয় অধিকার ভোগ করছে : আইনমন্ত্রী         কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ছয় মেয়রসহ ১৫৪ প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা         বিএনপি থেকে সাক্কুর পদত্যাগ         সহসাই গ্যাস পাচ্ছেন না কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৫         আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই ॥ মির্জা ফখরুল