সোমবার ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়ে হয়রানি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের

  • ঋণ পরিশোধের মেয়াদ না বাড়ালে অর্ধেক ব্যবসায়ী খেলাপী হয়ে যাবেন ॥ এফবিসিসিআই সভাপতি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ভ্যাট ও টাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে রাজস্ব কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা অভিযোগ করে বলেছেন, ভ্যাট ও আয়কর কর্মকর্তারা কোভিড-১৯’র মধ্যেই কর আদায়ের জন্য চাপ দিচ্ছেন। হয়রানি বন্ধে দ্রুত এফবিসিসিআইকেও করুণীয় নির্ধারণে তাগিদ দিয়েছেন তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এসএমই খাতের জন্য প্রণোদনার অর্থ দ্রুত ছাড়করণ, ব্যাংক খাতে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো, সরকারী পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী বৈঠকে বেসরকারী খাতের প্রতিনিধি রাখা এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদানসহ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর উদ্যোক্তারা জোর দিয়েছেন।

শনিবার কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টস-২০২২’র মতবিনিময় সভায় ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন। কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টসের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এই কাউন্সিল সভার আয়োজন করে। সভায় তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ী, চেম্বার সভাপতি, বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, সচেতনতা বাড়াতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে এফবিসিসিআই শীঘ্রই আট বিভাগীয় শহরে ব্যবসায়ী ও এনবিআর কর্মকর্তাদের নিয়ে আটটি সেমিনার করবে। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে ৮২ শতাংশ অবদান রাখছেন বেসরকারী খাতের ব্যবসায়ীরা। অথচ ট্যাক্স ও ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ের দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ না বাড়ালে ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী খেলাপী হয়ে যাবেন।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে আগে ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে হবে। তাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য করার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। অন্যথায় দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে না। পুরোদমে অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ চালু করতে হলে বেসরকারী খাতের দিকে সরকারের সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সমস্যা, দাবি ও অভিযোগগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। এফবিসিসিআই সব সময় তৃণমূল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ছিল এবং থাকবে। ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির দাবি সারাদেশের ব্যবসায়ীদের। তিনি বলেন, সময় না বাড়ালে ৫০ শতাংশ ব্যবসায়ী খেলাপি হবেন। করোনা মহামারীর মধ্যে এখনওা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। এমন অবস্থায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অন্তত জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছেন সারাদেশের ব্যবসায়ী নেতারা। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশে যেসব খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল সে খাতগুলোই এখনও প্রণোদনার ঋণ পায়নি। মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু অন্যান্য প্রণোদনা তহবিলের অর্থ প্রায় শতভাগ ছাড় হলেও, এসএমই প্রণোদনার বড় অংশ বিতরণ হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ছোট আকারের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোর অনীহা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো মনে করে ছোট আকারের ঋণ দেয়া লাভজনক নয়। বড় ব্যবসা খাতে ঋণ দিলে ব্যাংকের জনবল ও খরচ কম হয়। কিন্তু এ ধারণা ভুল, বরং এতে মন্দ ঋণের ঝুঁকি বাড়ে। এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ নেই বললেই চলে।

ওয়ানস্টপ সার্ভিস চান চেম্বার নেতারা ॥ আলোচনায় ৬৪ জেলা চেম্বার সভাপতিসহ বিভিন্ন জয়েন্ট চেম্বারের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, জেলা পর্যায়েও কারখানা স্থাপনে ৩৩টি লাইসেন্সের দরকার হয়। এসব সনদ নিতে বিপুল পরিমাণ ভোগান্তির শিকার হতে হয় উদ্যোক্তাদের। এই সমস্যা সমাধানে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে লাভ -ক্ষতি নির্বিশেষে টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান বাতিল করে শুধু আয়ের ওপর কর আরোপের দাবি জানান তারা। চেম্বার নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মহামারী করোনার এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কুটির, ক্ষুদ্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের উদ্যোক্তারা। অথচ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা থেকে ২০ ভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও কোন ঋণ সহায়তা পায়নি।

এ কারণে দ্রুত ঋণ ছাড় করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। তারা বলছেন, নতুন করে করোনা আবার ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে সরকার চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে কিনা সেটা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এই সঙ্কট থেকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করতে হবে। করোনার ২য় ধাক্কার পর এখন ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে আবারও ব্যবসাবাণিজ্যে নাজুক পরিস্থিত তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর ঋণের কিস্তি দেয়ার সক্ষমতা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক সময় না বাড়ালে ঋণগ্রহীতার অনেকেই খেলাপি হবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে। সভায় মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, দেশে এখনও শুল্ক-কর ও ভ্যাট আদায়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কোম্পানি আইন, আমদানি ও রফতানি আইন নতুন করে হচ্ছে। এসব আইন যেন ব্যবসাবান্ধব হয় সেজন্য এফবিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে।

এফবিসিসিআই সভাপতিকে প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদা দেয়ার দাবি জানান সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন চেম্বারের সভাপতি ও সহসভাপতিবৃন্দ। তারা বলেন, সরকারী কর্মকর্তারা বাস্তবতা না বুঝে নিজেদের মতো করে নীতি প্রণয়ন করে। ফলে অনেক সময় এসব নীতি বাস্তবায়নযোগ্য হয় না। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী সভায় এফবিসিসিআই’র মতামত দেয়ার সুযোগ থাকতে হবে। এসময় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, করোনা মহমারীতে বিপর্যস্ত ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেও রাজস্ব আদায় করতে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা। স্থানীয় পর্যায়ে চাঁদাবাজিরও শিকার হচ্ছেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরেও জেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। এ কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে মহামারী পরবর্তী উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ছাড়াও অডিটে সিঙ্গেল এ্যাকাউন্ট বাস্তবায়ন হলে তা পুরো অর্থনীতিতে বিপর্যয় আনবে বলে মত দেন ব্যবসায়ীরা।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বেলাল, রাজশাহী ওমেন চেম্বারের সহসভাপতি তাহেরা হাসেন, সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ গোলার জাকারিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বারের সভাপতি আলহাজ আজিজুল হক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মোঃ এরফান আলী, পটুয়াখালী ওমেন চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইসমত জেরিন খান, বাগেরহাট চেম্বারের সভাপতি এসকে লিয়াকত হোসেইন, ফিকির সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়, নীলফামারী চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ ফারহানুল হক, লালমনিরহাট চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবির, খুলনা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শরীফ আতিয়ার রহমান, নরসিংদী চেম্বারের সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক আলী হোসেইন শিশির, গোপালগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন, দিনাজপুর চেম্বারের সভাপতি রেজা হুমায়ুন ফারুক শামীম, বান্দরবান চেম্বারের সহসভাপতি লক্ষীপদ রায়, ঝিনাইদহ চেম্বারের সহসভাপতি মোঃ নাসিম উদ্দিন, দিনাজপুর উইমেন চেম্বারের সভাপতি জান্নাতুস সাফা শাহীনুর, লক্ষীপুর চেম্বারের এমআর মাছুদ, সিরাজগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ ইসহাক। এছাড়া এফবিসিসিআইর পরিচালকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ রেজউল করিম রেজনু, তাহমিন আহমেদ, প্রীতি চক্রবর্তী, মোঃ নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি মোঃ আমিনুল হক শামীম, মোঃ আমিন হেলালী, সালাহউদ্দীন আলমগীর, হাবীব উল্লাহ ডন ও এমএ রাজ্জাক খান রাজ।

শীর্ষ সংবাদ:
কালোবাজারি চলবে না ॥ তালিকা নিয়ে মাঠে নামছে রেল পুলিশ         বুঝেশুনে উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা নিতে হবে         বিএনপিকে নিয়ম মেনেই নির্বাচনে আসতে হবে ॥ কাদের         ঢাকায় আইসিসি প্রধানের ব্যস্ত দিন         দুদুকের মামলায় হাজী সেলিম কারাগারে         সিলেট নগরীর পানি নামছে ॥ সুনামগঞ্জ হাওড়বাসীর দুর্ভোগ         দুই সন্তানসহ স্ত্রী হত্যা ॥ স্বামী আটক         বিশ্বের সবচেয়ে দামী আম চাষ হচ্ছে দেশে         সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণা ॥ জামাই-শ্বশুর আটক         দেশে কালো টাকা ৮৯ লাখ কোটি, পাচার ৮ লাখ কোটি         সব ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক         সরকার পরিবর্তনের একমাত্র উপায় নির্বাচন ॥ কাদের         ভারত থেকে গমের জাহাজ এলো চট্টগ্রাম বন্দরে, কমছে দাম         কারাগারে হাজী সেলিম, প্রথম শ্রেণির মর্যাদা         অর্থনীতি সমিতির ২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ         কোভিড-১৯ : ভারত-ইন্দোনেশিয়াসহ ১৬ দেশের হজযাত্রীদের দুঃসংবাদ         বাইডেনসহ ৯৬৩ মার্কিন নাগরিকের রাশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         পেছাচ্ছে না ৪৪তম বিসিএস প্রিলি         পরিবেশ রক্ষায় যত্রতত্র অবকাঠামো করা যাবে না ॥ প্রধানমন্ত্রী         রাজধানীর গুলশানে দারিদ্র্য কম, বেশি কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে