বৃহস্পতিবার ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা

চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা
  • অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ১

আজাদ সুলায়মান ॥ পশ্চিমা দুনিয়া কিংবা হলিউডের ফিল্মেই দেখা যায়, যৌন রাক্ষুসীরা টিনএজ ছেলে কিংবা সুদর্শন ও সুঠাম দেহের পুরুষদেরকে অপহরণ করে নিজের লালসা চরিতার্থ করে। তারপর এ নিয়ে হৈচৈ পড়ে যায়। ঠিক এ ধরনের অবিশ্বাস্য কা-ের অবতারণা ঘটেছে গাজীপুরের ভাওয়াল নিরাময় কেন্দ্রে। ফিরোজা নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক এখানে মাদকাসক্তের চিকিৎসার নামে বিকৃত যৌনাচার, মাদক সেবন, বেচাকেনা ও টাকার জন্য নৃশংস কায়দায় নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর দেশে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর কাজের পদ্ধতি নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়েছে সেগুলো আবারও সামনে এসেছে।

প্রকৃতপক্ষে চিকিৎসাসেবার অঙ্গীকার করে অনুমোদন নিলেও তা মানা হচ্ছেনা। সেবা বলতে কিছু নেই। অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রেই নেই মাদকাসক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা। মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীকে একই ধরনের চিকিৎসা দিতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তালগোল পাকিয়ে ফেলা হয়। মাদকাসক্তের প্রকৃত চিকিৎসারও নেই কোন কারিকুলাম। যে যেভাবে পারছে- সেভাবেই দিচ্ছে চিকিৎসা। ভর্তি হওয়ার পর কেউ দিচ্ছেন প্যারাসিটামল আর ঘুমের ওষুধ। আর কেউ দিচ্ছেন মাদকদ্রব্যই। দাবি করছেন অনেকেই ইয়াবাসক্ত রোগীকে প্রথমে ইয়াবা খাইয়েই চিকিৎসা করতে হবে। নইলে রোগী রাখা ও বাঁচানো যাবেনা। এজন্য অনেক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয় ইয়াবা গাঁজা ও হেরোইনের মতো মাদক। এমন চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে নিরাময় কেন্দ্রগুলো। মাদক বিভাগই স্বীকার করেছে- একসময় যারা মাদকাসক্ত ছিলেন-তারাই এখন বেসরকারী মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিক। সেখানে চিকিৎসার নিয়মকানুন মানা হয় না। এসব কেন্দ্রে চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। মোট কথা- বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চোখে পড়ে এসব কেন্দ্রে প্রবেশের পরই। বাইরে নিরিবিলি ছিমছাম ও সুন্দর সাইনবোর্ড ও গেট তৈরি করা কেন্দ্রগুলোর ভেতরে যাওয়ার পর আঁতকে ওঠতে হয়। চিকিৎসার নামে মাসের পর মাস আটকে রেখে রোগীর অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় লাখ লাখ টাকার বিল। রোগীর অভিযোগ করার উপায় থাকেনা। অভিভাবকের কাছে অভিযোগ গেলেই- পেটানো হয় মোটা লাঠি দিয়ে। খাবার ও ফ্যান বন্ধ করে দেয়ার মতো যন্ত্রণা দেয়া হয়।

অথচ চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ। এটা সমন্বিত চিকিৎসার বিষয়। অথচ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসাব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। বাস্তব অবস্থার বিচারে এগুলোর দায়িত্বে থাকা উচিত স্বাস্থ্য অধিদফতর বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোঃ ফারুক আলমের মতে-‘মাদকাসক্তিও একটি মানসিক রোগ। দুটিরই চিকিৎসা দেন মানসিক চিকিৎসকরা।’ সেই কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত ব্যবস্থা থাকতে হবে। বেসরকারী মানসিক হাসপাতাল ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে।

যার যার মতো চিকিৎসা ॥ রাজধানীর অলিগলিসহ সারাদেশে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক, মনোচিকিৎসক, ওয়ার্ডবয় বা নার্স থাকেন না। চিকিৎসায় মানা হয় না সরকারী নিয়মনীতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিরাময় কেন্দ্রে রোগীকে মারধর, মানসিক নির্যাতন ও অপদস্থ করা নিয়মিত ঘটনা। কেন্দ্রগুলোতে একেকজন একেক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিচ্ছেন। কেউ আটকে রাখছেন- কেউ মারধর করছেন। কাউকে আবার মাদকও খেতে দেয়া হচ্ছে। শ্যামপুরে সোনার তরী নামের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নোংরা পরিবেশে কয়েকটি বেডে গাদাগাদি করে রাখা হয় রোগীদের। তাদের কোন ওষুধ দেয়া হয় না। প্রতিদিন দুতিন বার করে গোসল করানো হয়। তাদের বাধ্যতামূলক মেডিটেশন করানো হয় প্রতিদিনই। নিয়মিত সবাইকে এ দুটো কাজ করতে বলা হয়। এটাই নাকি মাদকের চিকিৎসা। এভাবেই এখানে অনেক রোগী ভাল হয়ে বাসায় ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।

রাজধানীর অভিজাত এলাকার এক বিত্তবান পরিবারের অষ্টাদশী কন্যা যিনি একটা নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী জানিয়েছেন-তিনি কখনই মাদকাসক্ত ছিলেন না। কিন্তু তাকে মানসিক চিকিৎসার জন্য একটি মাদক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, ‘আমার কোন শারীরিক এ্যাক্টিভিটিজ ছিল না। আমাকে কিছু ওষুধ দিয়ে রেখে দিত। তখন আমার কোন কিছুতে আসক্তি ছিল না। শুধু ডিপ্রেশন ছিল। আমি বিশ দিনের মাথায় সেখান থেকে বের হয়ে যাই। যেটা হয়েছিল সেখানেই আমি আমার সোর্স খুঁজে পেয়েছিলাম। ড্রাগস রিলেটেড কিছু দরজা আমরা সামনে খুলে গিয়েছিল অন্য যারা ভর্তি ছিল তাদের মাধ্যমে। এরপর আমি ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত হই। এর কারণ হলো সেখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তি ও মানসিক রোগীদের একসঙ্গে রাখা হয় যা আরও অনেক নিরাময় কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেন্দ্রগুলোর নাম শুনলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়। এর পরে আমাকে আবার জোর করে রিহ্যাবে ভর্তি করা হয়। সেখানে আমার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ ছিল যে স্মৃতি আমাকে এখনও তাড়া করে বেড়ায়।’

উত্তরার একটি কেন্দ্র্রে দেখা যায়, রোগী যদি ইয়াবা আসক্ত হয়- তাহলে তাকে প্রথম প্রথম একটা করে ইয়াবা খেতে দেয়া হয়। প্রথমে সপ্তাহে ৭ দিন, পরে সপ্তাহে দুদিন, পরে একদিন একটি করে ইয়াবা খেতে দেয়া হয়। এভাবে কমিয়ে আনতে আনতে তিন মাসের মধ্যে সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়।

প্রকৃতপক্ষে এগুলো কোন চিকিৎসা নয়, অপচিকিৎসা। বেশির ভাগ কেন্দ্রেই শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ধরনের নির্যাতনের বড় উদাহরণ হয়ে আছে- রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড এ্যান্ড সাইকিয়াট্রি ডি-এ্যাডিকশন হাসপাতালে মারধরের পর সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনা। এরপরই বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। বাধ্য হয়েই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে ঢাকার ১৫টি অবৈধ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়।

র‌্যাবের অভিযানের পর ওই কেন্দ্রের ভেতর চিকিৎসার নামের যে ধরনের নৈরাজ্য ধরা পড়েছে- তা গোটা দেশের অধিকাংশ মাদক কেন্দ্রেরই প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করেছে খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একাধিক সূত্র। ভাওয়াল মাদক নিরাময় কেন্দ্রে একজন অভিনেতাকে চিকিৎসার নামে জোরপূর্বক আটকিয়ে একদিকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চালানো হয়েছে তার ওপর বিকৃত যৌনাচার। তাকে সেখান থেকে উদ্ধারের পর এ ধরনের অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এটাই সারাদেশের অধিকাংশ কেন্দ্রের প্রতিচ্ছবি বলেও দাবি করছেন অধিকাংশ অভিভাবক।

এ ঘটনার পর রাজধানীর অন্তত এক ডজন নিরাময় কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, মাদকাসক্তদের চিকিৎসার নামে চলছে ভয়ঙ্কর সব পদ্ধতি, মুদির দোকানের মতো লেনদেন- ওষুধের পরিবর্তে মাদকদ্রব্য দিয়ে চিকিৎসা, আটকে রেখে টাকার জন্য নির্যাতনসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। রাজধানীসহ দেশের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো যেন কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। এমনকি টাকার জন্য আটকে রেখে চরম নির্যাতনের মাধ্যমে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটলেও চালিয়ে দেয়া হচ্ছে অপমৃত্যু বলে। খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তদন্তেই ১০৫টি কেন্দ্রের বেশিরভাগই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) মেনে চলার কোন লক্ষণ নেই। রাজধানীতেই প্রায় দুশো মাদক নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও মাত্র ১০-১৫টি ছাড়া বাকিগুলো নির্ধারিত মানদ-ে উন্নীত হতে পারেনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের কথা কাগজে কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার ছিটেফোটাও নেই। অধিকাংশ কেন্দ্রেই অস্বাস্থ্যকর এবং নোংরা পরিবেশ। স্বল্প পরিসর জায়গায় গাদাগাদি করে রাখা হয় মাদকাসক্তদেরকে। মোট কথায় মাদক নিরাময়ের নামে চলছে অপচিকিৎসার নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। এগুলো দেখভাল করারও যেন কেউ নেই। মাদক বিভাগের কর্মকর্তারা মাঝে মাঝে লোক দেখানো পরিদর্শন ও তদারকি করলেও নেই কঠিন নজরদারি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- মাদক বিভাগের পরিদর্শকদের এসব কেন্দ্র পরিদর্শন করার এখতিয়ারই নেই। সহকারী পরিচালক পদমর্যদার নিচে কোন কর্মকর্তা এগুলো পরিদর্শনে যেতে পারেননা। যে কারণে স্বল্প জনবলের মতো সঙ্কট দেখিয়ে অনেকেই বরাবরই দায় এড়াচ্ছে মাদক বিভাগ। অভিযোগ আছে- মাদকের একটি বিশেষ সিন্ডিকেটকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই চালানো হচ্ছে নিরাময় কেন্দ্রগুলো।

মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন খোদ মাদকদ্রব্য নিরাময় অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর ম-ল। বলেছেন- এসওপি মেনে সবাই চলছেনা। এ নিয়ে কাজ চলছে। সেগুলো কার্যকর হলে প্রত্যাশা অনুযায়ী চিকিৎসা মিলতে পারে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৯০ ভাগই ইয়াবাসক্ত ॥ মাদকাসক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইয়াবায় আসক্ত। নিরাময় কেন্দ্র পরিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, মাদকাসক্তির জন্য চিকিৎসাধীন রোগীর ৯০ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। বাকিরা হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ অন্য মাদক গ্রহণ করেন। মাদক গ্রহণ না করলেও মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবার নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন এমন নজিরও পাওয়া গেছে। নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে অনেকেই মানসিক হাসপাতাল বলে মনে করেন। এ কারণে কেন্দ্রগুলোতে মানসিক রোগী ভর্তি হতে দেখা যায়। অথচ নিরাময় কেন্দ্রে মানসিক রোগের চিকিৎসা বা রোগী ভর্তির সুযোগ নেই। মাদকাসক্তি এবং মানসিক রোগ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অবশ্যই প্রয়োজন ও চাহিদা রয়েছে। দিন দিনই বাড়ছে মানুষের আগ্রহ। বতর্মানে সারা দেশে বেসরকারী নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৫৫টি। এছাড়া সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪টি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- অধিকাংশ নিরাময় কেন্দ্রেই মাদকাসক্তি শনাক্তে ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা নেই। মৌখিক স্বীকারোক্তি অথবা অভিভাবকের কথার ভিত্তিতে রোগী ভর্তি করা হয়। মাদকাসক্তের পাশাপাশি মানসিক রোগীদেরও ভর্তি করা হয় এখানে। মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রটোকল প্রতিপালনের বিধান থাকলেও সেগুলোর কোন কিছুই মানা হয় না। এত অনিয়ম জেনেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। মাঝে মাঝে অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে দু একটা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি নিরাময় কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ডাক্তার, মনোবিজ্ঞানী, নার্স, ওয়ার্ডবয়, সুইপার থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রোগীদের সরবরাহকৃত খাবারের তালিকা, রোগীদের মানসিক বিনোদনের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের সুবিধা, প্রয়োজনীয় শৌচাগার, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধপত্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব, রোগীদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ক্লাসরুম ইত্যাদি থাকা আবশ্যক। মাদকের দুর্বল বিধান মতেও- নিরাময় কেন্দ্রে একজন মাদকাসক্ত রোগীর জন্য গড়ে কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা , পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ থাকা বাধ্যতামূলক। এতে একজন মেডিক্যাল অফিসার, একজন মনোচিকিৎসক, একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও জীবন রক্ষাকারী উপকরণ এবং ওষুধপথ্য থাকতে হবে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে এই আইনের বিধিমালা শতভাগ মানা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে মাদক নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কার্যকর কোন নীতিমালা না থাকায়- ব্যঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠছে এ ধরনের কেন্দ্র। যদিও সরকারীভাবে ছয়টি বিভাগে একটি করে মানসিক চিকিৎসালয় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু জেলা পর্যায়ে এই ধরনের সরকারী কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এজন্যই দেশে বেসরকারীভাবে মাদকাসক্তি নিরাময় বা পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে উঠছে। এটা দিন দিনই বাড়ছে। দেশে বর্তমানে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ায় নিরাময় কেন্দ্রও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এসবের অধিকাংশেরই নেই ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা।

মাদকের চিকিৎসা কি ধরনের হওয়া উচিত এ সম্পর্কে জানা যায়-মাদকাসক্ত ব্যক্তি এসব কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার পর তাকে প্রশিক্ষিত লোক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাউকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তাকে বিশেষ কক্ষে রাখতে হবে। ওই কক্ষের মেঝে ও দেয়ালে ফোম জাতীয় পদার্থ থাকবে, যাতে রোগী পড়ে গিয়ে এবং কোনভাবে মাথায় আঘাত না পান। মাদক গ্রহণ করতে না পারায় রোগীর শরীরে কাঁপুনি, মলমূত্র ত্যাগ করাসহ বিভিন্ন উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ওষুধ দিতে হবে। মাদকাসক্তি ছাড়াতে রোগীকে কাউন্সেলিংয়ের মধ্যে রাখতে হয়। প্রয়োজনে তাকে প্রথম প্রথম সীমিত আকারের মাদকও দিতে হয়।

শীর্ষ সংবাদ:
জড়িত ৮৪ রাঘববোয়াল ॥ পি কে হালদারের অর্থপাচার         স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নাম পরিবর্তন হবে না         এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে         কোরানে হাফেজ হয়েও পেশা চুরি !         সিলেটে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দী দুর্ভোগ চরমে         চট্টগ্রামে ড্র করেই সন্তুষ্ট মুমিনুলরা         গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে এ মাসেই         ছয় মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ॥ ১০ কাউন্সিলরের বাতিল         দক্ষ স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবাই আমাদের অঙ্গীকার         প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৮ টাকা নির্ধারণ         কারসাজি বন্ধে বাজারে বাজারে মনিটরিং সেল গঠনের তাগিদ         লিচুতে রঙিন রাজশাহীর বাজার ॥ ৪৪ কোটি টাকা বাণিজ্যের আশা         নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে ১০-১৫ লাখ টাকায় চুক্তি!         শেখ হাসিনার সততার সোনালি ফসল পদ্মা সেতু ॥ কাদের         দেশে সব ধর্মের মানুষ সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ধর্মীয় অধিকার ভোগ করছে : আইনমন্ত্রী         কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে ছয় মেয়রসহ ১৫৪ প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা         বিএনপি থেকে সাক্কুর পদত্যাগ         সহসাই গ্যাস পাচ্ছেন না কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দারা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৩৫         আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই ॥ মির্জা ফখরুল