শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

খোদ হাসপাতালেই বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

খোদ হাসপাতালেই বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির
  • আউটডোরে হাজারো রোগীর ভিড়
  • পিপিই তো নেইই, উপরন্তু মাস্কও পরছেন না অনেক ডাক্তার
  • পার্শ্ববর্তী দেশের মতো গণহারে ডাক্তারদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার উর্ধমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সরকার ঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধ চলছে। এমন অবস্থায় সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দফতর-পরিদফতর। কিন্তু যেখানে সবচেয়ে বেশি রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা সেখানেই চরমভাবে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। বিভিন্ন রোগে-শোকে ভোগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া হাসপাতালগুলোতে নেই সামাজিক দূরত্বের বালাই। রাজধানীর প্রত্যেকটি সরকারী হাসপাতালের আউটডোরগুলোতে ডাক্তার দেখানোর আশায় প্রতিদিন ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে হাজারো মানুষ। এদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক নেই ন্যূনতম মাস্কের ব্যবহারও। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় চিকিৎসকদের মাঝে তৈরি হওয়া উদাসীনতা নিয়ে। দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণের প্রথম দিকে চিকিৎসকরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করতেন পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), মাস্ক, গ্লাভস, চশমা। যার ব্যবহার বর্তমানে নেই বললেই চলে। ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও গণহারে চিকিৎসকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করোনা আরও বাড়লে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার শঙ্কায় দিন পার করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আউটডোরে ঘুরে দেখা যায়, সি ব্লকের ফিজিক্যাল মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট, পেডিয়াট্রিকস, নবজাতক বিভাগ, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি, অফথালমোলজি, নাক, কান, গলা, অবস্টেট্রিকস এবং গাইনিকোলজি, সার্জারি ওয়ার্ডগুলোর বহির্বিভাগে বৃহস্পতিবার কাকভোর থেকেই ডাক্তার দেখানোর আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছে রোগী ও তার স্বজনরা। কার আগে কে দেখাবে এমনটাও রয়েছে। ফলে গা ঠেসাঠেসির মধ্যেই একে একে যাচ্ছেন কাক্সিক্ষত ডাক্তারের কক্ষে। এদের বেশির ভাগেরই মুখে নেই মাস্ক। এমনকি গত বছর যখন করোনার উর্ধগতি ছিল তখন হাসপাতালের প্রবেশ পথে যে স্ক্রিনিং এবং জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল তাও নেই। ফলে চিকিৎসকরা পুরোপুরি অনিরাপদভাবে রোগী দেখে যাচ্ছেন। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া বহির্বিভাগের কার্যক্রমে চিকিৎসকরা কোন ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই দেখছেন রোগী।

হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগে রাজধানীর মহাখালী থেকে মেয়েকে দেখাতে নিয়ে এসেছেন শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, কিছু দিন থেকেই মেয়ের কানে খুব ব্যথা। করোনা বেড়ে যাওয়ায় ডাক্তার দেখানোর সাহস পাচ্ছিলাম না। কিন্তু দুইদিন ধরে তা সহ্যের বাইরে তাই আজ নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানকার অবস্থা এমন যে এখন ভয় হচ্ছে কানের চিকিৎসা করাতে এসে না আবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। বেশিরভাগ রোগীরই মুখে মাস্ক নেই। কেউ যে এগুলো তদারকি করবে এমনটাও চোখে পড়ছে না। নিজে মাস্ক পরেও খুব আতঙ্ক নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। একই অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের আউটডোরেও। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ রোগীই এসেছেন রাজধানীর বাইরে থেকে। কাক্সিক্ষত চিকিৎসককে দেখাতে সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রুপসা বেগম। কিন্তু বেলা ১১টা হলেও এখনও ডাক্তারের কক্ষ অবধি পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুখে থাকা মাস্কও একসময় খুলে পরে গিয়েছে বলে জানালেন। বলেন, এখন যে আরেকটা মাস্ক কিনে নিয়ে আসব সেই সাহসও হচ্ছে না। যদি লাইনে আমার জায়গায় অন্য কেউ এসে দাঁড়িয়ে যায়। তাহলে তো আবার পিছিয়ে পড়তে হবে। শুধু রুপসা নন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে এমন অনেকেই মুখ থেকেই মাস্ক খুলে পরে যাওয়ার কথা বলেন। ফলে সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় চিকিৎসকদের কক্ষে প্রবেশ করছেন এসব রোগী। এতে করে শঙ্কিত চিকিৎসকরাও। নাক, কান, গলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আবির্ভাব নাহা জনকণ্ঠকে বলেন, গত বছর করোনার শুরুতে যেমনটা ছিল এখন কিন্তু পরিস্থিতি তেমনটা নেই। আমরা যারা নাক, কান, গলা বা দাঁতের চিকিৎসা করি তারা মানুষের মুখের কাছাকাছি যেতে বাধ্য। প্রথম দিকে আমরা মাস্ক, পিপিই এসব পরতাম। টেবিলের চারপাশে একটা কাঁচের ঘেরও দেয়া থাকত। কিন্তু এখন আর তেমনটা নেই। হাসপাতালেও স্ক্রিনিং কার্যক্রমে ঢিলেভাব চলে এসেছে। এরকম চলতে থাকলে ভারতের মতো একটা অবস্থা আমাদেরও পোহাতে হতে পারে। তাই আমি মনে করি আবারও আগের মতো স্বাস্থ্যবিধিতে কড়াকড়ি করা উচিত। শুধু তাই নয় জটিল রোগীদের জন্য র্যা পিড টেস্ট করার ব্যবস্থা করা জরুরী। যেমন ক্যান্সার, কিডনি বা জটিল কোন অপারেশনের রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত করোনার টেস্টের ব্যবস্থা থাকলে রোগীরাও নিরাপদ থাকবে। চিকিৎসকরাও। আর সাধারণ সর্দি, কাশিতে এ সময়টা ঘরেই থেকেই ভার্চুয়ালি বা মোবাইলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

রোগীদের গাদাগাদি অবস্থা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরেও। হাসপাতালের প্রত্যেকটি বিভাগের আউটডোরসহ জরুরী বিভাগে রোগীর চাপ অনেক বেশি হলেও নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। কারও কারও মুখে মাস্ক থাকলেও অনেকেই ঘোরাফেরা করছেন মাস্ক ছাড়া। এখানেও চিকিৎসকরা রোগী দেখছেন পিপিই ছাড়া। কেন পিপিই ছাড়া রোগী দেখছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও করোনা গবেষক ডাঃ তুষার মাহমুদ জনকণ্ঠকে বলেন, আসলে করোনার সংক্রমণ কমা যখন শুরু করা তখন থেকেই পিপিই’র ব্যবহার কমতে থাকে। তবে করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ডগুলোতে যারা ডিউটি করছেন তারা পিপিই পরেই দায়িত্ব পালন করছেন। এখন আবারও সংক্রমণ বাড়ছে। এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। তাই সবার উচিত হবে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সর্বোচ্চটা করা।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পিপিই বা রোগী দেখতে গিয়ে কতটুকু দূরত্ব মানতে হবে এমন কোন নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ ইকবাল আর্সনাল জনকণ্ঠকে বলেন, করোনার সংক্রমণ যখন শুরু হয় তখন যে ধারণা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ছিল তা এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তবে সংক্রমণের ধরন একই রয়েছে। আক্রান্ত মানুষ থেকেই ছড়াচ্ছে ভাইরাসটি। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ॥ কাদের         বৃহস্পতিবার দেশে আসবে গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ         কিডনিতে ২০৬ পাথর !         কৃষক ও যুবকসহ বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু         বৃত্তির ফল নিয়ে ভোগান্তিতে জবি শিক্ষার্থীরা         যে অপরাধ করবে তাকেই শাস্তি পেতে হবে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি মাইলফলক : সেতুমন্ত্রী         ইভিএম পদ্ধতির ভুল প্রমান করতে পারলে পুরস্কৃত করা হবে ॥ ইসি আহসান হাবিব         অভিবাসীদের জীবন বাঁচাতে প্রচেষ্টা বাড়াতে হবে         অস্ত্র মামলায় ছাত্রলীগ নেতা সাঈদী রিমান্ডে ॥ জোবায়েরের জামিন         ইসলাম বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষকে ঘুষি মেরে বক্সিং-এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জারিন         স্ত্রীর কবরের পাশে চিরশায়িত হবেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী         শিগগিরই সব দলের সঙ্গে সংলাপ : সিইসি         চাঁদপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের দুই পরীক্ষার্থী নিহত         তীব্র জ্বালানি সংকটে শ্রীলঙ্কায় স্কুল ও অফিস বন্ধ         মঠবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২         নগর ভবনে দরপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা         রাজধানীর বাজারে প্রায় সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি         শনিবার গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়