সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

ওমিক্রন প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ করোনার আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রতিরোধে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আর এরই ধারাবাহিকতায় ওমিক্রন প্রতিরোধে শুধু আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যারা আসবে, তাদেরই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে বলে জানিয়েছে অধিদফতর। বাকি দেশগুলোর বিষয়ে অধিদফতর জানিয়েছে, আফ্রিকান দেশগুলোতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলেই তাদের জন্য বাড়তি বিধিনিষেধ। অন্য যেকোন দেশেও যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়, তাহলে তাদের বেলায়ও নেয়া হবে একই সিদ্ধান্ত।

রবিবার দুপুরে দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব কথা জানিয়েছেন অধিদফতরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ওমিক্রন মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত আছি। তবে এক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আমাদের সবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ জরুরী। একইসঙ্গে অন্যকে অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করা এবং সহায়তার মধ্য দিয়েই এই ভাইরাসটিকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব বলে মনে করি।

ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে আফ্রিকা ছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে ডাঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা একইরকম সিদ্ধান্ত নেব। কারণ হলো ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ আর ‘ইমপরট্যান্ট কেস’ কিন্তু এক নয়। আফ্রিকায় যেটি হয়েছে সেটি ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, আর ইউরোপে যেটি হয়েছে সেটি ‘ইমপরট্যান্ট কেস’।

অধ্যাপক ডাঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, সংক্রমণের হার বাংলাদেশে এখনও দুই শতাংশের নিচে। তবে ‘ওমিক্রন’ বাংলাদেশের দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই করোনা সংক্রমণ কম থাকায়ও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। কাজেই আমরা যদি এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারি, পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সঠিক উপায়ে নাক-মুখ ঢেকে আমরা যদি মাস্ক পরি, একইসঙ্গে টিকা কার্যক্রমকে যদি আরও বেগবান করতে সহায়তা করি, তাহলে সেটি ওমিক্রন হোক বা অন্য কোন ভ্যারিয়েন্ট হোক সেটিকে যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।

ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে, সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরী উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, আমরা যদি নিজেরা সচেতন হই, নিজেদের মুক্ত রাখি, তাহলে আমাদের পরিবারও সুরক্ষিত থাকবে। এমনকি এটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পুরো দেশকে সুরক্ষিত রাখবে। আমরা মনে করি রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা, উন্নয়ন সহযোগীসহ প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধের কাজটি আমরা করতে পারব।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের দিকেও আমরা গভীর মনোযোগ রেখেছি। সেখানে যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটে, তাহলে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকাকে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য এবং জনস্বার্থ রক্ষা করার জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার, তা নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর কখনই কুণ্ঠাবোধ করবে না।

শীর্ষ সংবাদ: