সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ কোন কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়

  • আঞ্চলিক সমাবেশে বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ মুক্তিযোদ্ধাদের আঞ্চলিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে উদ্বেলিত হয়ে স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ফেলে যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের ত্যাগকে কোন কিছুর সঙ্গেই তুলনা করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে আমরা সেই স্বপ্ন পূরণের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধারা ছিল সুবিধাবঞ্চিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতির বীর সন্তানদের যথাযথ সম্মান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বীর নিবাসসহ বিভিন্নভাবে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহযোগিতায় বর্তমান সরকার সর্বদা পাশে থাকবে।

‘বিজয়ের পথে পথে’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার দুপুরে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আঞ্চলিক সমাবেশ ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সকাল ১০টায় দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে প্রায় দুইশ বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরিফুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদ সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্তুজা আল মুইদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মুকাদ্দেস হোসেন বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ লোকমান হাকিম, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম অরু ও মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরের রণাঙ্গনে তাদের সম্মুখ যুদ্ধের বীরত্বগাথা কাহিনী উপস্থিত শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। মুক্তিযোদ্ধদের সেসব কাহিনী শুনতে শুনতে শ্রোতারা হারিয়ে যান সেই গৌরবগাথা একাত্তরে। সে দিনে কাহিনী শুনে অনেকেরই দুচোখ জলে ভরে যায়। অনুষ্ঠানে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান একটি পদক সকলের সামনে তুলে ধরেন, যে পদকটি তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনে সম্মুখযুদ্ধে একজন পাক হানাদার সেনাকে হত্যা করে তার বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এই পদকটি তিনি মুক্তিযুদ্ধের মহান স্মৃতি হিসাবে ৫০ বছর ধরে সযত্নে আঁকড়ে রেখেছেন।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এই সমাবেশ ও অবহিতকরণ সভা বেলা ১টা পর্যন্ত চলে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ছিল ভার্চুয়ালি উপস্থাপনা। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অতিথিবৃন্দ। বক্তব্যর পর ভিডিও ডকুমেন্টারি পরিবেশন করা হয়। আগামী ২ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আঞ্চলিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

শীর্ষ সংবাদ: