সোমবার ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

বাউফলে ১শ ৩৫ কোটি টাকার বীমা নিয়ে ৯ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি

বাউফলে ১শ ৩৫ কোটি টাকার বীমা নিয়ে ৯ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী ॥ বাউফলে মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমা দাবির ১শ৩৫ কোটি দিচ্ছেননা ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। একই প্রতিষ্ঠানের পৃথক প্রকল্পে এসবি বীমা ৭ হাজার ও একক বীমা ২ হাজারসহ মোট ৯ হাজার গ্রাহক বছরে পর বছর ধরে অফিসের বাড়ান্দায় ঘুরেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা।

ভুক্তভোগী গ্রাহক রানু বেগম, পলিসি নং ০৯২৪০০০৭৮১-৬ জানান, তার অভাবের সংসার। উপজেলা সদরের ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। স্বামীর দিনমজুর কাজে করেন। তার ঘাম ঝরানো আয়ের একাংশ ছেলের ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে লিমিটেডে। ১০ বছরের এসবি বীমা পলিসি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০২০ সালে। টাকা পেতে এক বছর ধরে অফিসের বাড়ান্দায় ঘুরছেন তিনি। ওই অফিসের মাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন নামের একজন তাকে বলেন, ‘আমাকে ম্যানেজ না করে ইউএনওর কাছে গেলেও তুমি টাকা পাবেনা। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড সরকারি প্রতিষ্ঠান, কেউ কিছুই করতে পারবেনা। কেবল প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ করলে জরুরী টাকা পাওয়া যাবে।’ তবে এ অভিযোগের ঘটনায় মাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ‘কোন গ্রাহকের সাথে আমি ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলা হয়নি।’

অভাবী পরিবারের গ্রাহক আমেনা বেগম ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড প্রতিষ্ঠান’র এসবি পলিসি নং ০০৯০০৭০৪৮। তার স্বামী ৮ বছর পূর্বে মারা গেছেন। তিন ছেলে ৩ কন্যার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার সংসার। এর মধ্যে তিনি কষ্টে অর্জিত কিছু টাকা বীমা হিসেবে ওই কোম্পানিতে জমিয়েছেন একটি ঘর তৈরীর আশায়। তার সেই আশায় এখন গুরেবালি। দীর্ঘ দিন অফিসে ঘুরেও তিনি জমাকৃত টাকা ফেরৎ পাচ্ছেননা।

ভুক্তভোগী সালমা বেগম, পলিসি নং ১২৫০০০৮৯৭৩ বলেন, ‘মাসে দুই হাজার টাকা করে ২ বছর ধরে বীমা পলিসি করেছি। অতিমারি করোনা ও পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণে আজ আমি অসহায়। বীমার জমানো অর্থ মুনাফা বিহীন তুলতে গেলেও দিনের পর দিন ঘুড়াচ্ছে অফিসে। কবে পাব আদৌ পাব কিনা কিছু বলছেনা তারা। ঘাম ঝড়ানো কষ্টার্জিত আয়ের অংশ বীমা পলিসিতে জমা করে মেয়াদ শেষে দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুড়তে হচ্ছে।’মেয়াদ উত্তীর্ণ এসব গ্রাহকের বীমা দাবি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দু’লাখ টাকা।

বীমা কোম্পানী সূত্রে জানায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ বাউফল সদরে জোনাল অফিস ও কনকদিয়া ইউনিয়নে একটি সাব-শাখা মাধ্যমে এসবি ও একক দু’টি বীমা প্রকল্পের বাস্তাবায়ন করছে। এর মধ্যে বাউফল জোনাল অফিসে এসবি বীমা প্রায় ৩০ হাজার ও একক বীমা প্রায় ৯ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ২০২০ সালে এসবি প্রকল্পে ৭ হাজার ও একক প্রকল্পে প্রায় দু’হাজার মেয়াদ উত্তীর্ণ বীমা দাবিকারী রয়েছে। এসব গ্রাহকদের বীমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে বাউফল জোনাল অফিসে ১’শ ৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দরকার বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কোম্পানী এক কর্মকর্তা জানিয়েছে।

একক বীমা উপজেলা ম্যানেজার মো: শাহদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রাহক বীমা দাবীর জন্য সরাসরি ম্যানেজারের সাথে কথা বলবেন। কেউ টাকা চাইলে দেয়া যাবেনা।’

এ ঘটনায় জোনাল ম্যানেজার মো. খায়রুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘করোনা কারণে নতুন বীমা না হওয়ায় ব্যাংক রিজার্ভ কম থাকায় বীমা দাবীর টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে কোন গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বীমার অর্থ তুলতে হলে সার্ভিস চার্জ কর্তণ করে টাকা দিতে সমস্যা নেই।’

এ ঘটনায় এসবি পলিসি উপজেলা ম্যানেজার মেজবা উদ্দিন বাদল মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন,‘ কেন্দ্রিয় অফিস কর্মকর্তা পদে পরিবর্তন আসায় গ্রাহকের অর্থ দিতে পারছিনা। ডিসেম্বরের মধ্যে বীমা দাবীর অর্থ গ্রাহকদের দেয়া হবে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।’

শীর্ষ সংবাদ: