বৃহস্পতিবার ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের উদ্যোগে রাজধানীর অনতিদূরে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ রিভারভিউ আবাসিক এলাকায় একটি অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি নিঃসন্দেহে সুসংবাদ। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির তত্ত্বাবধানে ওয়েসিস মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ১ অক্টোবর থেকে। সরকারী-বেসরকারী সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের জন্য নিরাময় কেন্দ্রটির দরজা খোলা থাকবে। সেখানে স্বল্প খরচে পাওয়া যাবে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা। এর জন্য নিবেদিত থাকবেন দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও কর্মী বাহিনী। এর পাশাপাশি পুলিশেরই উদ্যোগে মানিকগঞ্জে নির্মাণ করা হচ্ছে একই মানের ৩০০ শয্যার একটি হাসপাতাল। উল্লেখ্য, দেশে সরকারী হিসাবে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৩৬ লাখ। তবে বেসরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮০ লাখের বেশি। সেই অনুপাতে আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবার পরিমাণ খুব সীমিত ও ব্যয়বহুল। সব মিলিয়ে ৩টি সরকারী হাসপাতালে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ শয্যা সংখ্যা বড় জোর ২৪৯টি। এগুলোর চিকিৎসা সেবাও সর্বাধুনিক ও মানসম্মত নয়। মাসকাসক্ত অনুপাতে দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই বললেই চলে। বেসরকারী পর্যায়ে সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো বেশ কিছু মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে উঠলেও সেগুলোর অধিকাংশই বলা চলে একরকম নির্যাতন কেন্দ্র। সেসব স্থানে রোগীর অভিভাবকদের গুচ্ছের খরচের পাশাপাশি টাকার শ্রাদ্ধ তো হয়ই, উপরন্তু মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার নামে ধরে-বেঁধে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে একাধিক। থানা-পুলিশ মামলা-মোকদ্দমাও কিছু কম হয়নি এর জন্য। সে প্রেক্ষাপটে পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন ও পরিচালিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রটিয়ে একটি অত্যন্ত আশার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে, যে বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি কেবল নেশা নয়, বরং একটি ব্যাধি। যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে আক্রান্ত করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রীতিমতো হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে দেশ ও জাতির জন্য। দেশের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ যখন ইয়াবা, ফেন্সিডিল, এলএসডি, আইস, খাত, ম্যাজিক মাশরুম ইত্যাদি ভয়াবহ মাদকে আসক্ত ও আক্রান্ত হয়ে এমনকি আত্মহননের পথে ধাবিত হয়, তখন পুলিশের উদ্যোগে এরকম একটি নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। উল্লেখ্য যে, দেশে মাদকের নিয়ন্ত্রণ এবং বিস্তার প্রতিরোধেও পুলিশের সবিশেষ ভূমিকা রয়েছে। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যই পুলিশ বাহিনী। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের পুলিশ বাহিনীকে সর্বদাই আইনের রক্ষকের ভূমিকায় জনবান্ধব হিসেবে অবতীর্ণ হতে হবে। জনসাধারণের সমস্যাকে দেখতে হবে আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে।

শীর্ষ সংবাদ: