সোমবার ৮ আষাঢ় ১৪২৮, ২১ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

মায়ের লাশ দেখতে গিয়ে আদুরী ফিরলেন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে

মায়ের লাশ দেখতে গিয়ে আদুরী ফিরলেন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে
  • মাদারীপুরে শিবচরে নৌ দুর্ঘটনা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে কাঁদছিলেন ৩৫ বছর বয়সী আদুরী বেগম। তাঁকে সান্ত্বনা দেয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে স্পিডবেট দুর্ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর স্বামী আরজু মিয়া (৪০) ও দেড় বছর বয়সী ছেলে ইয়ামিন প্রাণ হারিয়েছে। আদুরীর বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে। স্বামী– সন্তান নিয়ে থাকতেন ঢাকার হাসনাবাদে। রবিবার রাতে আদুরীর মা মনোয়ারা বেগম মারা যান গ্রামের বাড়িতে। মায়ের লাশ দেখতে স্বামী–-সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তিনি। সোমবার সকাল ৬টার দিকে ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। উদ্ধারকারীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন। মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন আদুরির স্বামী ও ছেলে। আর জীবিত উদ্ধার হন আদুরি। সকাল ১০টার দিকে আদুরি স্বামী-সন্তানের খোঁজে ছুটে যান নদীর পাড়ে। সেখানে কাউকে না পেয়ে যান দোতরা স্কুলের মাঠে। স্বামী–-সন্তান নেই জেনে তাঁর কান্না আর থামছিল না। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান আদুরির দুই চাচা ও ফুফু। তাঁরা লাশের সারি থেকে আদুরির স্বামী আরজু মিয়া ও ছেলে ইয়ামিনকে শনাক্ত করেন।

আদুরির চাচা বলেন, ‘মায়ের লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন স্বামী-সন্তানের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে। আমরা কী বলে সান্ত্বনা দেব ওকে? বাড়িতে একটি কবর খুঁড়ে এসেছি। ফোনে আরও কবর প্রস্তুত করতে বলেছি। বিধাতা কেন এমন করল!’

আদুরি কান্না করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে ঢাকায় আটকা পড়েছিলাম। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামে যাচ্ছিলাম। দেড় বছরের ছেলে আমার কোলে ছিল। স্পিডবোটটি অতিরিক্ত গাদাগাদি করে ছাড়ে। চলছিল অতিরিক্ত গতিতে। আমি এক হাতে ছেলেকে ও আরেক হাতে স্বামীকে ধরেছিলাম। হঠাৎ সজোরে ধাক্কা লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়ে গিয়ে শুনি, আমার সব শেষ।

শীর্ষ সংবাদ:
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির জমি ক্রয়ে ৮৭ কোটি টাকা লোপাট         টেকসই উন্নয়নের সমতাভিত্তিক আইনী কাঠামো অপরিহার্য ॥ আইনমন্ত্রী         ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এমন পৈশাচিকতা         পদ্মা সেতুতে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শেষ         বিটকয়েন বিক্রির টাকায় পর্নোগ্রাফির বাণিজ্য         সন্ধান দিলে         ভারত থেকে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া এখনো অনিশ্চিত : হাইকমিশনার         যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৮২         ক্ষমতা মানে ভোগ বিলাস নয়, ক্ষমতা হলো মানুষের সেবা করা         ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক আইনি কাঠামো অপরিহার্য ॥ আইনমন্ত্রী         বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক সম্মানী পাবেন ২০ হাজার টাকা : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী         রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক শক্তির জোর তৎপরতা দরকার         রাজশাহীতে ধসে পড়ল বহুতল ভবন         খুবির সকল পরীক্ষা স্থগিত         ‘দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে’         প্রথম ধাপের ২০৪ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সোমবার         ‘নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল বাইরে বের হতে পারবে না’         হাসপাতালে মাহবুব তালুকদার