ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

৯ কোটি টাকার সাপের বিষসহ পাচার চক্রের ২ জন গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২২:৫৯, ২৭ নভেম্বর ২০২০

৯ কোটি টাকার সাপের বিষসহ পাচার চক্রের ২ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নয় কোটি টাকার সাপের বিষসহ পাচারকারী চক্রের দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। জব্দকৃত সাপের বিষগুলো বাংলাদেশ হয়ে বিদেশে পাচারের কথা ছিল। বাংলাদেশকে তারা সাপের বিষ পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (এ্যাডিশনাল ডিআইজি) শেখ মোঃ রেজাউল হায়দার। তিনি জানান, গত ২৫ নবেম্বর রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাপের বিষ পাচারকারীর চক্রের মূলহোতা মামুন তালুকদার (৫১) ও তার সহযোগী মামুনকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে দুটি বড় লকার ও ছয়টি কাঁচের জারে রাখা সাপের বিষ পাওয়া যায়। প্রত্যেকটি কাঁচের জারের গায়ে কোবরা সাপের বিষ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফ্রান্সের রেড ড্রাগন কোম্পানির নাম লেখা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সাপের বিষ ক্রয়-বিক্রয়ের কোন বৈধতা নেই। মূলত সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল পাচারকারীরা। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডি ঢাকা মেট্রোর একটি টিম গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে সাপের বিষ ক্রয়-বিক্রয় ও পাচারকারী একটি চক্রের কয়েক জনকে গ্রেফতার করে। এ সংক্রান্ত দায়েরকৃত মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে গ্রেফতারকৃতদের নাম। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই একাধিক চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তারই ধারাবাহিকতায় একটি চক্রের এই দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সাপের বিষ পাচার হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাপের বিষের বড় বাজার রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বেচাকেনার কোন বৈধতা নেই। দেশের বাইরে থেকে জব্দকৃত সাপের বিষ বাংলাদেশে এসেছে। কয়েক হাত ঘুরে সেটি দেশের বাইরে পাচার হওয়ার কথা ছিল। সাপের বিষ খুবই জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। যদিও বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোতে এটি ব্যবহারের কোন বৈধতা নেই। যে কারণে এটি বাংলাদেশে ব্যবহারের সুযোগও নেই। কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে সাপের বিষগুলো আনা হয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে জব্দকৃত সাপের বিষ বৈধভাবে দেশে আনা হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি চালান বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে বলেও জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।