সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

চলে গেলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জীবন রহমান

চলে গেলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জীবন রহমান

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ দীর্ঘদিন রোগভোগের পর অবশেষে চলেই গেলেন বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা জীবন রহমান। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৭টার পর টাঙ্গাইলের কাটিয়াদির বোনের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তাহমিনা রহমান মিতু ও এক মেয়ে মেয়ে তানজিনা রহমান মিমকে রেখে গেছেন। জীবন রহমানের স্ত্রী তাহমিনা রহমান মিতু জানান বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলায় তাকে সমাহিত করা হয়।

বরেণ্য এই নির্মাতার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষরা। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন এই নির্মাতা। চিকিৎসার জন্য পাননি কোন অর্থ সাহায্য। সর্বশেষ তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থ সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোন সাহায্য পাননি বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। এমন একজন নির্মাতা অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন। এ নিয়ে যারপর নাই সমালোচনার স্বীকার হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি ডায়বেটিকস, কিডনি, লিভার ও ব্রেন স্টোকে আক্রান্ত্র হয়েছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক ছিল যে, তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারতেন না। বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে গেছেন তিনি। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনে পরপারে চলে গেলেন খ্যাতিমান এই নির্মাতা।

জীবন রহমান ১৯৬৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার চরখামা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাকুন্দিয়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকা কর্মাস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং বিকম পাস করেন তিনি। সে সময় চলচ্চিত্র পরিচালক খসরু নোমানের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই সুবাদে ধীরে ধীরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৮২ সালে খসরু নোমানের সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে নাম লেখান। নির্মাণ করেন ‘সোহেল রানা’। এরপর দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, কাজী হায়াৎসহ বেশ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ করেন এবং পাশাপাশি অভিনয় করেন। ৯০ দশকের গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তার পদযাত্রা শুরু। খ্যাতিমান পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জীবন রহমান। তার নির্মিত ১৫টি চলচ্চিত্রই ব্যবসা সফল হয়। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘গহর বাদশা বানেছা পরী’ সুপারহিট হয়। এতে চলচ্চিত্র জগতে সাড়া পড়ে যায়। এরপর তিনি একে একে নির্মাণ করেন ‘হুলিয়া’, ‘আজকের সন্ত্রাসী’, ‘প্রেম যুদ্ধ’, ‘আশার প্রদীপ’, ‘আলী কেন গোলাম’, ‘মহা সংগ্রাম’ এবং এ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘উত্তর দক্ষিণ’ এর মতো ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র ‘মহা সংগ্রাম নির্মাণ করে ২০০৫ সালে তারুণ্য যুব কল্যাণ সংঘ জীবন রহমানকে শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। খ্যাতিমান এই নির্মাতার বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

শীর্ষ সংবাদ: