ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

অবৈধ দখলদারদের তালিকা যাচাই বাছাই করবে মন্ত্রণালয় ॥ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ও না’গঞ্জে ৭৩৮ একর নদীর জমি উদ্ধার

প্রকাশিত: ১০:০০, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকা ও না’গঞ্জে ৭৩৮ একর নদীর জমি উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ৯ বছরে কেবল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ৭৩৮ একর নদীর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ দখলে থাকা এসব ভূমি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের দখলে। রবিবার সচিবালয়ে নদীর নাব্য ও গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত ‘টাস্কফোর্সে’র দ্বিতীয় সভায় এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী কমিশন যেসব অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রকাশ করেছে তা যাচাই বাছাই করবে মন্ত্রণালয়। ঢাকার চারদিকের নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করছে। বিআইডব্লিউটিএ ’১০ থেকে ’১৯ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৩৮ একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ১৮ হাজার ২৫ অবৈধ স্থাপনা অপসারণ, ৬৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৪ কোটি টাকার পণ্য নিলাম করেছে। সাম্প্রতিক গত ১৮-২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দর এলাকায় দখলীকৃত ৭২০ স্থাপনা অপসারণ, প্রায় ১৬ একর জমি উদ্ধার, ৯ লাখ ২২ হাজার টাকা জরিমানা ও দু’কোটি ৩৮ লাখ টাকার পণ্য নিলাম করা হয়েছে। নদী কমিশন নদীর প্রাণ ফেরাতে সরকারকে সুপারিশ করছে। কমিশন সম্প্রতি ৪৯ হাজার ১৬২ অবৈধ দখলদারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে এক বছরের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এই সমস্যা দূর করতে দখলদারদের এই তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিপক্ষ নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। নদীতীরের অবৈধ দখল অপসারণ ও দূষণরোধে কাজ শুরু করেছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একশ’ বছর আগে কি কেউ এভাবে স্থাপনা তৈরি করেছে, ঢাকা শহর তো এমন ছিল না। সব ধরনের সার্ভে করে এটা করা হয়েছে। আমরা কাউকে কোথাও থেকে উচ্ছেদ করতে চাই না। আমরা শুধু নদীর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা যদি সব নদী রক্ষা না করি তাহলে কেউ রক্ষা পাব না, এটাই এখন বাস্তবতা। তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকেই আমরা এসব পদক্ষেপ নিয়েছি। কেউ যদি নিস্ব হয়, গৃহহীন হয়ে যায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে তাদের গৃহনির্মাণের ব্যবস্থা করে দেবে। বৈঠকে বলা হয়, ঢাকা নদী বন্দর এলাকায় তিন হাজার ৮শ’ তিনটি সীমানা পিলারের মধ্যে ২০৭ পিলার নির্মাণ শেষ হয়েছে। টঙ্গী নদী বন্দর এলাকায় দুই হাজার ছয়টি সীমানা পিলারের নির্মাণ কাজ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের আড়াই হাজার পিলার এবং ঢাকা ও টঙ্গী নদী বন্দরে ছয়টি ভারি জেটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সভায় জানানো হয় যে, ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালসমূহ থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হবে। নদী দখল ও দূষণরোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির কার্যক্রম জোরদারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। শিল্পবর্জ্যে নদীর পানি যাতে দূষিত না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঢাকা ওয়াসার স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় পতিত তরলবর্জ্যরে ৫৩ উৎসমুখ ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাতষট্টিটিসহ মোট ১২০ এবং না’গঞ্জ নদী বন্দরে ১০৫ উৎসমুখ চিহ্নিত করে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবদুস সামাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।