ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ ॥ আসন পেতে মরিয়া বিএনপি ও জাপা

প্রকাশিত: ০৫:৫৭, ২৫ আগস্ট ২০১৮

শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ ॥ আসন পেতে মরিয়া বিএনপি ও জাপা

মানিক রায়, ঝালকাঠি ॥ ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলার দুটি সংসদীয় আসন। রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন এবং ঝালকাঠি সদর ও নলছিঠি উপজেলা নিয়ে ঝালকাঠি-২ আসন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর থেকে এই দুটি আসন আওয়ামী লীগের হাত থেকে চলে যায় এবং বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে এই আসন হাতবদল হয়। তবে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় দুটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত দুটি আসনেই নিজেদের বিজয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সাল থেকে আসনটি নিজেদের করায়ত্ত করে এ পর্যন্ত এ দুটি আসনে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। আওয়ামী লীগ চাইছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও বিজয়ের ধারা বজায় রাখতে। তবে আসন দুটিতে সাংগঠনিকভাবে কিছুটা দুর্বল বিএনপি ও জাতীয় পার্টি চাইছে তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে এলাকায় গণসংযোগ করলেও দলগতভাবে সংগঠিত হয়ে কাজ করতে পারছে না। বিএনপির প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর কোন প্রভাব নেই এ আসনে। তাদের এখন খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। তবে মনোনয়ন নিয়ে রাজনীতির মাঠে বড় দলগুলোর নেতাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তবে ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রভাবশালী প্রার্থী হচ্ছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তাঁর বিরুদ্ধে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় এক ডজন। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) ॥ রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-১ আসনের রাজনীতি এখন নির্বাচনমুখী। রাজনীতির মাঠে বড় দলগুলোর নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রে লবিং-তদ্বির শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে ১২টি ইউনিয়ন ও দুটি উপজেলা এখন সরগরম। বর্তমানে আসনটি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দখলে। আসন ধরে রাখতে ইতোমধ্যেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নৌকায় ভোট চাইতে শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বর্তমান সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন আওয়ামী লীগের মনোনয়নের প্রধান দাবিদার। বজলুল হক হারুন ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগে রয়েছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাঁরা হলেন- আওয়ামী লীগের মনিরুজ্জামান মনির, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্যদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব ইসমাইল হোসেন, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ পনির ও রাজাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন মাহমুদ বাচ্চু। অন্যদিকে মহাজোটের পক্ষ থেকে এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান, বর্তমানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। মনোয়নয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বর্তমান এমপি বিএইচ হারুন বলেন, আমি রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রথম এমপি। রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসন হওয়ার পর আমার আগে এখান থেকে কেউ নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হতে পারেনি। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কাঁঠালিয়াবাসীর শতবর্ষের দাবি আমুয়া সেতুর কাজ শেষ করতে পেরেছি। আমুয়া সেতুর জন্য আমি জাতীয় সংসদে ১৮বার দাবি তুলেছি। আমার নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলার সকল নেতাকর্মী এবং ১২টি ইউনিয়নের ১৫৬ চেয়ারম্যান-কাউন্সিলর সকলে আমার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে বিএইচ হারুনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সরব রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। যিনি বাংলাদেশের টেলিভিশন মিডিয়ার অত্যন্ত পরিচিত মুখ। টকশো করে দলের উন্নয়ন ও আগামীর ভাবনা প্রচার করে ইতোমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের চোখে পড়েছেন তিনি। এলাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে টাকা এনে সহায়তা করেছেন রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার গরিব ও দুস্থ মানুষকে এবং ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছেন। মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রায় নয় বছর আওয়ামী লীগের দুই মেয়াদে আমি এলাকার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। এলাকার মানুষ সাংসদকে কাছে না পেলেও সব সময় আমাকে কাছে পেয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এলাকার মানুষকে সহায়তা করেছি। আশা করি দলীয় সভানেত্রী এবার আমাকে মূল্যায়ন করবেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, ঝালকাঠি জেলায় যারা পোড় খাওয়া আওয়ামী লীগার তাদের মধ্যে আমি একজন। গত নয় বছরে অনেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, আবার অনেকে সুযোগ পেয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও দলের সঙ্গে বেইমানি করেছে। আমাকে রাজাপুর-কাঁঠালিয়া থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আর যাই হোক দলের সঙ্গে বা নেতাকর্মীদের সঙ্গে বেইমানি করব না। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপিরও রয়েছে শক্ত অবস্থান। আওয়ামী লীগের মতো এ আসনেও রয়েছে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে বিএনপির প্রধান প্রার্থী হচ্ছেন চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের সময় তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। এ কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। তবে আগামী নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন এটা শতভাগ নিশ্চিত। এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বলেন, বিএনপি রাজপথের দল। এখানে সুযোগসন্ধানীদের কোন প্রশ্রয় দেয়া হবে না। রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার মানুষ আমাকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এখানে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু বলেন, ঝালকাঠিতে বিএনপির অভিভাবক হিসেবে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের বিকল্প নেই। ঝালকাঠি-১ আসন থেকে তিনি (শাহজাহান ওমর) নির্বাচন করবেন এটা দলীয় ফোরামে চূড়ান্ত। শাহজাহান ওমর ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন-যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা প্রকৌশলী এ কে এম রেজাউল করিম ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে পরাজিত ঢাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জামাল। এদের মধ্যে বিএনপির বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসী নেতা প্রকৌশলী একেএম রেজাউল করিম এ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ ব্যাপারে রেজাউল করিম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপির প্রচার সেলে কাজ করেছি। রাজাপুর-কাঁঠালিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সবসময় নির্বাচনে ভূমিকা রেখেছি। এলাকায় গণভিত্তি তৈরি করেছি। এখন সাধারণ মানুষ যুবকদের নেতৃত্ব চায়। তাঁরা চায় ভাল মানুষ রাজনীতিতে আসুক, তাই আমি দলের প্রার্থী হয়ে কাজ করতে চাই। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আমি বিএনপির মনোনয়ন চাইব, কারণ ২০০৭-০৮ সালে নেতাকর্মীদের অসহায় অবস্থায় ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন শাহজাহান ওমর সাহেব। তখন বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই দেশনেত্রী আমার হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমাকে হারানো হয়েছিল। দলের কাছে অবশ্যই আমার দাবি আছে এবং দলের যে কোন সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব। গত দশ বছর নেতা কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলাম। বরিশাল-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) ॥ বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী জাতীয় নেতা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। একাদশ নির্বাচনেও এ আসনে তিনি দলের একক প্রার্থী। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে এক ডজন। মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যেই তাঁরা দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। একদিকে নিজের সমর্থন আদায়ের জন্য নেতাকর্মীদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন, তেমনি মনোনয়ন পেতে লবিং শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। এ আসনের দুটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়নের সবখানেই এখন সরগরম। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা যে কোন সময়ের তুলনায় এখন অনেক ভাল। জেলা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগে নেই কোন গ্রুপিং। দুই উপজেলাতেই শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ। ১৯৯৬ সালের পূর্বে নলছিটিতে প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কমিটি করার মতো লোক পাওয়া যেত না। সেখানে এখন প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর অভাব নেই। আর ঝালকাঠি সদরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা সব সময়ই ভাল ছিল। এমনকি এরশাদের জাতীয় পার্টির শাসন আমলেও ঝালকাঠি পৌর এলাকায় নৌকা প্রতীক বেশি ভোট পেত। মূলত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর আমির হোসেন আমু টেকনোক্র্যাট কোটায় খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এ সময় তিনি নলছিটি এবং ঝালকাঠিতে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেন। ২০০০ সালে এ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর আকস্মিক মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে আমির হোসেন আমু এমপি নির্বাচিত হয়ে উন্নয়নের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। ঝালকাঠি সদর আসনে আমির হোসেন আমুই প্রথম পূর্ণমন্ত্রী। তিনি ছাড়া এ আসনে এখন পর্যন্ত অন্য কোন রাজনীতিবিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পাননি। তাই ঝালকাঠি জেলাজুড়ে আমির হোসেন আমুর ব্যাপক প্রভাব, প্রতিপত্তি এবং জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছে জাতীয় পার্টি এরশাদের সমর্থন। ফলে এ আসনে নৌকা প্রতীকে ভোটের পাল্লাও ভারি হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মোঃ শাহ আলম বলেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আলহাজ আমির হোসেন আমুর নাম জেলা কমিটিতে অনুমোদন করে কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে অন্য কোন আগ্রহী ব্যক্তির নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। তাই বলা চলে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পেতে আগামী নির্বাচনে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, সাংগঠনিকভাবে এখানকার আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী সংগঠনে রূপলাভ করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো নতুন করে গঠন করা হচ্ছে। দলকে আরও গতিশীল রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নেই আমরা যাচ্ছি। আর আওয়ামী লীগ সরকারের গত দুই মেয়াদে ঝালকাঠি জেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। নির্মিত হয়েছে নার্সিং কলেজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ, পিটিআই, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, বিসিকসহ নানা প্রতিষ্ঠান; তাই খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু সমাজের এলিট শ্রেণীও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর হাত ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে আমরা ঝালকাঠির দুটি আসন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব। নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নলছিটি পৌরসভার মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নলছিটির মানুষ আমির হোসেন আমুর সঙ্গে থাকবে। তাঁর হস্তক্ষেপে নলছিটি শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লাইন স্থাপন, নলছিটি উপজেলা হাসপাতাল ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। নলছিটি পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে। অন্যদিকে এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলেও বিএনপির চিত্র উল্টো। এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ডজন খানেক। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবাই আবার বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের সদস্য নয়। ঝালকাঠি এবং নলছিটিতে বিএনপির জনসমর্থন থাকলেও নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল দলটির পিছু ছাড়ছে না জন্ম থেকে। বিএনপি থেকে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন-জেলা বিএনপির সহসভাপতি মিয়া আহমেদ কিবরিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহবুবুল হক নান্নু, বর্তমান ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা নূরুল ইসলাম বাবুল, সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জেবা আহমেদ খান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, জেলা যুবদলের সভাপতি এম কামরুল ইসলাম ও ঝালকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রয়াত বিএনপির সাংসদ গাজী আজিজ ফেরদৌসের ছোট ভাই আব্দুল হালিম গাজী। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে ২০ দলের মনোনয়ন চাইবেন জেলা জামায়াতের আমির এ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ও জাগপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন। এ ব্যাপারে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা মিঞা আহমেদ কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময় তৈরি আছি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভা করে আমরা নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা মামলা-হামলার ভয় করি না। বর্তমানে ১৪/১৫টি মামলায় আমরা কয়েক হাজার নেতাকর্মী আদালতে হাজিরা দিচ্ছি। আমি দল করতে এসে অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছি, বাস পোড়ানো মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। কর্মসূচী পালন করতে এসে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হয়েছি। আশা করি দল আমাকে নির্বাচনের সময় পুরস্কৃত করবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, বিএনপি তৃণমূলে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী একটি দল। যারা ঢাকায় থেকে আগামী নির্বাচনে বসন্তের কোকিলের মতো এসে মনোনয়ন হাসিল করতে চায়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাদের কোন যোগাযোগ নেই। আন্দোলন সংগ্রামে কোন ভূমিকা নেই। তারাই দলের মধ্যে কোন্দল টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। এদের প্রতিহত করার জন্য আমরা জেলা বিএনপি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করব। বিএনপি নেতা মাহাবুবুল হক নান্নু বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় অনেকে পালিয়ে গেলেও আমি তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। সে কারণে দেশনেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন। যারা দলের মনোনয়ন চাইছেন তারা সাংগঠনিক ও তৃণমূলে জনপ্রিয় কেউ নয়। দলের ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দিলে এসব গ্রুপিং আজ থাকত না। এছাড়া ঝালকাঠি-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চাইবেন জেলা জাতীয় পার্টির সমন্বয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান। তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরশাদের ঘাঁটি হিসেবে ঝালকাঠি-২ আসন পরিচিত। আগের চেয়ে এখানে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে দলের অথবা জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচিত হতে পারব। সংশোধনী ॥ গত ১৩ আগস্ট দৈনিক জনকণ্ঠে ‘আসন ধরে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি’ শিরোনামে প্রকাশিত বরিশালের জেলা নির্বাচনী নিউজের বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নামের তালিকায় অসাবধানতাবশত একজনের নাম দু’ভাবে ভুল ছাপা হয়েছে। ডক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুলকে সাবেক এমপি পারভীন তালুকদারের স্বামী এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য উল্লেখ করা হয়েছে। যার কোনটিই ঠিক নয়। সঠিক তথ্যটি হবে- ডক্টর মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুব্বর আমিনুল হচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির সদস্য।