সোমবার ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বই -আগুনস্বপ্নের দেবিসংরাগ

  • মাসুদ মুস্তাফিজ

কবি শেখ আতাউর রহমানের আমার গোপন নিষিদ্ধ প্রেমিকেরা গ্রন্থ পাঠে এক ধরনের ব্যক্তিক দ্বন্দ্বের নির্দ্বন্দ্বরূপ ধারণা প্রতীয়মান। এ প্রসঙ্গে ফ্রানজ কাফফার ধারণা স্মরণযোগ্য- ‘মানুষের দিক থেকে ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর আর কোন রাস্তা নেই, কেবল ঈশ্বরের দিক থেকে যদি কোন রাস্তা থাকে।’এই ধারণার উপস্থাপন লাখ করা যায় the cattle উপন্যাসেও। আসলে আমি বলতে চাচ্ছি একজন লেখককে ধরতে অর্থাৎ তার কাছে পৌঁছতে একটা রাস্তা আবিষ্কার করতে হয়। এই ভাবনা ভাবতে ভাবতেই হাতে এলো ষাটের অন্যতম প্রতিভাধর কবি শেখ আতাউর রহমান রচিত ভিন্নস্বাদের গ্রন্থ-আমার গোপন নিষিদ্ধ প্রেমিকারা। পাঠের শুরুতেই ভেবেছিলাম লেখক বোধহয় তার ঐশ্বরিক হুরপরি কিংবা গোপনবিহারের স্বপ্নরমনীর সাতকাহন উদ্ধার করবেন আমি যুথবদ্ধ রোমন্থন হবো। প্রেমের গভীর আস্বাদনে নিজেকে হারিয়ে নতুন প্রত্যয়ে নিজেকে ফিরে পাব। দেখা যাচ্ছে পাঠক হিসাবে এই ক্ষুদ্র প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা ভেঙে এক প্রকার অর্জনের ভেতর কম্পনও স্পর্শ আমাকে টান টান উত্তেজনা স্বীকার করে মধুর সমাপ্তিতে সমর্পিত হয়ে রাখে-পাঠ নিচ্ছি শেখ আতার রচনা থেকে। এই বইয়ের ভেতরের বিষয়াবলি মননকে আলোড়িত করে। শেখ আতার সামষ্টিক বয়ান-নির্মিতি-জগৎ ও চেতনা এমনভাবে চেতনায় শেকড় গড়ে বসে যে তা আর উবরে ফেলা যায় না। বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে অভিজ্ঞান আর চেতনার যোগাযোগ স্থাপন হয়ে যায়। এবার তবে দৃষ্টি ফেলা যাক গ্রন্থের অন্দর মহলেÑ‘আমাকে উতরোল করে এসব বিমূর্ত প্রেমিকারা প্রতিরাতে-অন্তহীন প্যানোরমার মতো’ এ রকম উজ্জ্বল পঙ্ক্তি কবির ২১তম কবিতায় পাঠককে দারুণভাবে চমকে দারুণভাবে শিহরিত করে ‘আমার গোপন নিষিদ্ধ প্রেমিকারা’ কবিতায়। কবির ১ম কবিতায়- ‘নদীকে বলেছি, নদী তুমি অন্তহীন বয়ে যাও? পাহাড়কে বলেছি, পাহাড় তুমিও সবুজে ছাও/পাখিকে বলেছি, ও পাখি হৃদয় ফুঁড়ে গান গাও/বলেছি বেহুলাকে, নিরবধি ভেলা বাও (অন্তিম আশ্রয়)। কী আসাধারণ ব্যঞ্জনা-কী সুর-অপার মুগ্ধতা। কবিতায় এক পর্যায়ে ‘বেহুলা বলেছে, অমরাবতী শুধুই কি দেবতার? অন্য আরেক কবিতায় কবি বলছেন-‘বন্ধু গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস/ শোনো আমার নিষিদ্ধ প্রেমের অবোধ্য সংলাপ/তোমার অবিশ্বাস্য অপ্রাপনীয়া অনন্য রেমেদিওস’.. ‘বেছে নেব আত্মধ্বংসী মেঘের জীবন’ (রেমেদিওস), অন্যদিকে রাতের মেয়ে কবিতায় কবি বলে ওঠেন-‘মহাজাগতিক এ অমল ভুবন/ঈশ্বরও কেঁদে ওঠেন-এই বুঝি শখের দুনিয়া তার হলো যে পতন!/হ্যাঁ গো হ্যাঁ তাসের ঘরের মতন! কবি আবার তার হৃদয়তাড়িত কবিতায় বলেন-‘আরে এ যে দেখি এ্যাডম-ইভ আবার এসেছে ফিরে এই দুনিয়ায়,/নিষিদ্ধ ফলের বাগানে/ওরা হাত ধরাধরি করে উত্তাল হাওয়ায় হাওয়ায়। সেলেনার উড়ছে ঘন কালোকৃষ্ণ..( সেলেনা গোমেজ জাস্টিন বিবার), প্রেমের সুস্বাদু কাব্য লিখেছেন কবি এভাবে-‘আমার তো লেখার টেবিল নেই/ ঠিক আছে মেয়ে- সব কথা তোমার বুকে লিখে দেব’ (ভালবাসা) কবিতার ভেতর হাইকু-তাও আবার কাব্যিক এবং ছন্দমাত্রাজ্ঞানসম্পন্ন অন্য আঙ্গিকে উপস্থাপনা, মোট অসম ৬টি পর্বে বিভক্ত। এখানে ১ম পর্বটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য-‘মিসরের পিরামিড কি স্বাধীন/উদ্ধত সূচ্যগ্র কোণ/পিরামিড তোমারও তো আছে/কিন্তু সে ঘুমন্ত গোপন।’ (পিরামিড), মোট ৬০টি কবিতার মধ্যে সর্বশেষ কবিতাটি একটি বাংলাগল্পের নির্মিতিতে সমাপ্তি ঘটে-আমার কথাটি ফুরল/নটেগাছটি মুড়ল/নটেগাছে ধরল আগুন/পুড়ল আমার কোকিলফাগুন/লাগভেলকি লাগ/বুকের মধ্যে আগুন নিয়ে পরম সুখে থাক। (সমাপ্তি) কবি শেখ আতাউর রহমান তাঁর রচিত কবিতাগুলোর নিচে সুস্পষ্ট সন উল্লেখ্য করেছেন, ১৯৭৮ থেকে ২০১৬ পযর্ন্ত। এটি কবির ৯ম প্রকাশনা। এবার কবির গল্পের ভুবনে প্রবেশ করি-শুরুতেই একটি কবিতাকে নিয়ে গল্প-খুবই আনন্দায়ক, চমৎকার গল্প- যেনো লেখক নিজেই একটি চরিত্র হয়ে আবির্ভাব হয়েছেন। এই ছোট গল্পের অবসান ঘটে, প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতিতে অত্যন্ত বিস্ময়কর সংলাপের ভেতর-‘ও প্রান্ত তবুও চুপ। ...অধীর অপেক্ষা...রিসিভার ছাড়ি না।...রিসিভার রেখে দেবার কট শব্দে ..বুক ধক্ করে ওঠে। যেন ওখানেই আমার উজ্জ্বল উদ্ধার! বাইরে তখন হেমন্তসন্ধ্যার হিমেল কুয়াশা শীতল পারদের মতো গলে গলে পড়ছে।’পরে আরেকটি সুন্দর গল্প-যুদ্ধ এবং দীর্ঘগল্প-জাতিস্মর ছাড়াও মহারাত্রি, দৌড়াও টরিক, দৌড়াও,এক মেঘবালিকার গল্প,অন্য কোনখানে নামক গল্প মুদ্রিত হয়েছে। সর্বশেষ পর্ব-প্রাসঙ্গিকী; যার ভেতর রয়েছে বিভিন্ন শ্রেণীর রচনা-মুক্তগদ্য, ব্যক্তিগত রচনাসহ সাহিত্য-শিল্পও চিত্রকলাবিষয়ক গদ্য। বিবিধ ধারার গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে শিক্ষাবিদ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে। একটি কবিতার উপস্থাপনায় উৎসর্গ পত্রটি রচিত- পরের পাতায় ‘এই জীবন লইয়া আমি করিব কী?’ এবং I have offended God and mankind because my work did not reach the quality it should have.- Leonardo da Vinci এবং গ্রন্থের ভেতর প্রতিটি রচনা কী কবিতা, কী গল্প কিংবা প্রাসঙ্গিকীতে বিশ্ব সাহিত্যের বরেণ্য লেখকদের বাণী খচিত রয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ:
আমরা বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যে আছি ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী         দেশে ফিরতে চান পি কে হালদার         সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা দরকার ॥ বিএসএমএমইউ         ‘রাজধানীতে বসে সমালোচনা না করে গ্রামে গিয়ে পরিবর্তনটা দেখুন’         আজ দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে         স্পেনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর         গুলশানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ২         অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিট         পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ চলছে         বাবার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন         রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ॥ কঠোর অবস্থানে সরকার         পি কে হালদার তিন দিনের রিমান্ডে         ‘ফাতেমা’ ধানে নতুন আশা         দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার সাইমন্ডসের অকালমৃত্যু         এক হৃৎপিন্ডে জোড়া লাগা দুই শিশু         নিউইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহরে বন্দুক হামলা ॥ নিহত ১০         বছরে পানিতে ডুবে মারা যায় ১৯ হাজার শিশু         গমের বিকল্প উৎসের সন্ধান করছেন আমদানিকারকরা         ৭৮০ এজেন্সি এবার হজ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পেলো         ভারত সরকারীভাবে গম রফতানি বন্ধ করেনি ॥ খাদ্যমন্ত্রী