ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ॥ নাসিম

প্রকাশিত: ০৫:৫২, ৮ এপ্রিল ২০১৮

খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ॥ নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসা সেবা নিতে গেছেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তার চিকিৎসা সেবার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাই কারাবিধি মেনে তার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা খালেদা জিয়াকে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার দেয়ার জন্য দাবি করেছিলেন। বিএসএমএমইউ হাসপাতালটি বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ হাসপাতাল। এখানে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আমাদের ওপর আস্থা রাখুন, তিনি সুচিকিৎসা পাবেন। স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রশংসিত হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে। স্বাস্থ্য বিষয়ক সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। এমন মজবুত অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের মাত্রার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ ভাগ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিসেবার ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতিমাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। দেশে অনুর্ধ ১২ মাস বয়সের শিশুদের সব টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ ভাগ। হ্রাস পেয়েছে মাতৃ ও শিশুর মৃত্যুহার। পোলিও ও ধনুষ্টংকারমুক্ত হয়েছে দেশ। বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি উপখাত সমূহের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের বিশেষ করে মহিলা, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবা প্রাপ্তির চাহিদা বৃদ্ধি, কার্যকর সেবাপ্রাপ্তি সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর হার হ্রাস এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা। দেশব্যাপী একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ নাসিম। স্বাস্থ্য সচিব সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্নভাবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা আজ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। তবে এর কার্যক্রমসমূহ আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করে তুলতে হবে। ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য সেবায় টেলিমেডিসিন কার্যক্রম বর্তমান সরকারের আর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জটিল ও কঠিন রোগী এলাকার যে কোন হাসপাতালে বসে বিশেষায়িত হাসপাতালের ডাক্তারসহ মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিনামূল্যে অত্যাধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে একটি সর্বক্ষণিক কল সেন্টার চালু করা হয়েছে।