ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে খালেদা জিয়া ভাল আছেনÑ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক

খালেদার পছন্দের ডাক্তার দিয়েই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বঙ্গবন্ধুতে

প্রকাশিত: ০৫:৫০, ৮ এপ্রিল ২০১৮

খালেদার পছন্দের ডাক্তার দিয়েই তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বঙ্গবন্ধুতে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অসুস্থবোধ করায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার বেলা এগারোটার দিকের তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। এখানে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশে কয়েকটি এক্স-রে করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে খালেদা জিয়া ভাল আছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বেলা পৌনে ২টায় তাকে ফের কারাগারে নেয়া হয়। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বর্তমানে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত দুর্নীতির অভিযোগে তার ৫ বছরের সাজার ঘোষণা করেন। ওইদিন তাকে কারাগারে নেয়া হয়। সেই অবধি তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সম্প্রতি বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল খালেদার সঙ্গে সাক্ষাত করে তার অসুস্থতার কথা জানায়। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানান তারা। এর পরিপেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। বোর্ডের সদস্যরা হলেনÑ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অধ্যাপক মোঃ শামছুজ্জামান (অর্থোপেডিকস), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)। পরের দিন চিকিৎসক মোঃ শামসুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তবে গুরুতর নয়। গত বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে জানান খালেদা জিয়ার অনাস্থা আগের চেয়ে বেড়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসদের মাধ্যমে তার সুচিকিৎসার দাবি জানান। বিএনপির মেডিক্যাল টিমের রিপোর্ট এবং বিএনপি নেতারদের দাবি পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়াকে পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। এ সময় নাজিমুদ্দিন রোডসহ আশপাশে এলাকায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এছাড়া তার আনা নেয়ার পথে যান চলাচলও সীমিত করা হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তার কয়েকটি এক্স-রে করা হয়। খালেদা জিয়া কারাগার থেকে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কিছুটা হেঁটে গিয়ে লিফটে ওপরে ওঠেন। তার চারপাশে ছিল পুলিশ, চিকিৎসক, নার্স ও কারারক্ষী। হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ও খালেদা জিয়ার কয়েকজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মধ্যে নিউরো মেডিসিনের ওয়াহিদুজ্জামান এবং মেডিসিনের এফএম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপার্সনের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি ও তার দুই মেয়ে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন। খালেদা জিয়াকে কেবিন ব্লকে নেয়ার পর সেখানে কারাগারের চিকিৎসক ডাঃ শুভ ছাড়াও তার (খালেদা জিয়া) ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাঃ মামুন, ডাঃ ওয়াহিদুর সিদ্দিকীসহ চারজন কথা বলেছেন। আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, কেবিনে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর লিফটে নেমে হেঁটে হেঁটেই তিনিই রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে যান। হাসপাতালের পরিচালক বলেন, সুস্থ নেই এটা বলা যাবে না। তিনি হেঁটেই এক্স-রে রুমে গেছেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে তিনি ভাল আছেন। আমরা উনার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম। কিন্তু তিনি আমায় বলেছেন, হুইল চেয়ার তার প্রয়োজন নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে তাকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতাল থেকে বের হয়ে কারাগারের দিকে রওনা হয়। দুপুর পৌনে দুইটায় তিনি কারাগারে পৌঁছান। খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে আনা-নেয়ার সময় ওই সব সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচুর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা এবং কারাগারে ফেরত যাওয়ার সময় এই দুই এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ হাসপাতালের সামনে জড়ো হওয়া বিএনপির কিছু কর্মীকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খলেদা জিয়া কারাগারের উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির সমর্থকেরা আজিজ মার্কেটের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি কাঁটাবন মোড় হয়ে হাতিরপুলের দিকে গেলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ জানায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনার খবরে হঠাৎ করেই শাহবাগ এলাকায় বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী জড়ো হন। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুলসহ ১০ নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। এদিকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে খালেদা জিয়া ভাল আছেন। তিনি হেঁটে হেঁটেই এক্স-রে রুমে গেছেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে বলা যাবে। হাসপাতালের বি-ব্লকে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখানকার রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। রবিবার খালেদা জিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে জানিয়ে হাসপাতালের বলেন, রিপোর্ট পেলে আমরা তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। এরপর তারাই মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে এসব রিপোর্ট হস্তান্তর করা হবে। সে অনুযায়ী চিকিৎসা চলবে উল্লেখ করেন।