ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

’১৭ সালে ১২ আদিবাসী নারী ধর্ষিত, ধর্ষণ শেষে হত্যা ৯, শ্লীলতাহানি ৯

প্রকাশিত: ০৬:১১, ৩০ মার্চ ২০১৮

’১৭ সালে ১২ আদিবাসী নারী ধর্ষিত, ধর্ষণ শেষে হত্যা ৯, শ্লীলতাহানি ৯

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত ২০১৭ সালে বাংলাদেশের আদিবাসীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে । ২০১৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাত জনসহ দশ জনকে হত্যা করা হয়। পাহাড়-সমতল মিলে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে পাঁচটি। আদিবাসী নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪৮। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১২, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৯ জনকে এবং ৯ জনকে শ্লীলতাহানি বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। আর অপহরণ করা হয় ৮ নারী ও কিশোরীকে। কাপেং ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘বাংলাদেশের আদিবাসীদের মানবাধিকার রিপোর্ট-২০১৭’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টারের তৌফিক আজিজ খান সেমিনার হলে এক মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশ আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন। প্রধান অতিথি ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্চিতা চাকমা, অক্সফাম বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এম বি আক্তার ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। মূল রিপোর্ট উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। গত এক বছরে বাংলাদেশের আদিবাসীদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আদিবাসীদের মানবাধিকারের যে পরিস্থিতি ও সমস্যা তা কেবল আদিবাসীদের নয়, এ সমস্যা বাংলাদেশের, আমাদের সবার সমস্যা। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের জনগণ তাদের ওপর ঘটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার পাবে না তা হতে পারেনা। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চলছে, তা চলতে দেয়া যায়না। মানুষ মনে করছে কিছু করার নেই কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ঊষাতন তালুকদার এমপি বলেন, বাংলাদেশে সার্বিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সব উপাদানই বিদ্যমান। কিন্তু কোন এক কারণে আমরা কেবল পিছিয়ে যাচ্ছি। দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বাংলার জাগ্রত বিবেক আজ যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। আদিবাসীদের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যুক্ত থাকে (?) এবং সে ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজ করতে কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে যায় বলে জানালেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্ছিতা চাকমা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাবে না-মানবাধিকার কমিশনে এমন ধারা রয়েছে এবং এমন ধারার পরিবর্তন করলে কাজ করতে সুবিধা হয়। আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু তা স্বীকার করা হয় কি না, তা থেকে প্রতিকার বা বিচারের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয় কিনা সেটাই বড় কথা। যদি তা করা না হয়, তবে সেটা রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক। বাংলাদেশে আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, এ রাষ্ট্র আদিবাসীদের দেখে না, এ রাষ্ট্র অসুখে ভুগছে তাকে সারিয়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশের আদিবাসীদের মুক্তি এখনও আসেনি বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাদেকা হালিম। আদিবাসীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ঘটনা ঘটছে তার প্রতি সরকারের সদয় দৃষ্টি দেবার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে শারীরিক নির্যাতন ও মৃত্যু, আদিবাসী কর্মীদের নানা অজুহাতে গ্রেফতার করা, বিভিন্ন ঘটনায় জড়িত করে সাজানো মামলা দায়ের , আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নিয়ে অমানুষিক মারধর করা, অস্ত্র গুঁজে দিয়ে জেলে প্রেরণ করা ইত্যাদি নিপীড়ন-নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত থাকে। যা ২০১৮ সালেও চলছে।