ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

জীবন্ত কিংবদন্তি তিন ভাষা সংগ্রামী

প্রকাশিত: ০৬:২১, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জীবন্ত কিংবদন্তি তিন ভাষা সংগ্রামী

ভাষা সংগ্রামী এটিএম নূরুল হক খান ভাষাসংগ্রামী এটিএম নূরুল হক খান ছিলেন ’৫২-র ভাষা আন্দোলনে মাদারীপুর জেলার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক। পরবর্তীতে সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়দের একজন ছিলেন তিনি। জীবনের প্রতিটি স্তরে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমাজের সাফল্যের শীর্ষে অবতরণ করেছেন। অর্জন করেছেন মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসা। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিম-লে তিনি ছিলেন নীতি-আদর্শের পথিকৃৎ। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর জীবনের বড় অর্জন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ও সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তিনি যুব ও ছাত্র সমাজকে এক ছাদের নিচে এনেছিলেন। ছাত্র থাকা অবস্থায় তাঁর মতো নীতিবান, সাহসী, ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতা মাদারীপুরে বিরল। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ৩ বার ১১ মাস কারা ভোগ করেছেন। তাঁকে নিয়ে কোন লেখালেখি হয়নি। বড় বড় মানুষের ভিড়ে ইতিহাসের পাতায় তাঁর নামও নেই। অথচ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তৎকালীন সরকার তাঁকে রাষ্টিকেট করেছিল। এতে চিরকালের জন্য বন্ধ হয়েছিল তাঁর লেখাপড়া। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন বহু সংগ্রাম করে ১৯৬৫ সালে পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তিনি ছিলেন অনড়। রাজনৈতিক জীবনে রাজনীতি করার সুবাদে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ভাষা আন্দোলনের তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি, বয়সের ভাড়ে ন্যুয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। ভাষা সংগ্রামী এটিএম নূরুল হক খান ১৯৪০ সালে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী মাওলানা জহিরুল হক খান এবং মাতার নাম সফরজান বিবি। তিনি ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। গ্রামে জন্মগ্রহণ করায় নানা প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁকে বড় হতে হয়েছে। সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। তবে ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন সংগ্রামী। এটিএম নূরুল হক খান চরগোবিন্দপুর ফ্রি বোর্ড প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে ১৯৫০ সালে মাদারীপুর ইউনাইটেড ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে ৮ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করার সময় তিনি মাদারীপুরে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালে নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তিনি ভাষা আন্দেলনে নেতৃত্ব দেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে ১৯৫৩ সালে এটিএম নুরুল হক খান ও ভোলানাথ দেবনাথকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক কাজী মোহব্বত আলী ও তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতারা জোরপূর্বক রাষ্টিকেট করে দেয়। ফলে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন সরকার শুধু রাষ্টিকেট করেই ক্ষান্ত হয়নি, একই কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিন মাস কারা ভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেবারও তিন মাস পর জামিনে মুক্তি পান। ১৯৫৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছয় মাস কারা ভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বার বার কারা ভোগ ও নির্যাতনের কারণে তার লেখাপড়া পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তিনি আন্দোলন থেকে পিচপা হননি। ১৯৬৫ সালে ইউনাটেড ইসলামিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল হামিদ আখন্দ শিবচর বরহামগঞ্জ স্কুল থেকে পুনরায় ইউনাটেড ইসলামিয়া স্কুলে যোগদান করেন। এ সময়ে এটিএম নুরুল হককে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি ১৯৬৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে নাজিমউদ্দিন কলেজে ভর্তি হন। এ কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি ও ডিগ্রী পাস করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ভাষানী ন্যাপ ও পরে ন্যাশলান আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন মাদারীপুর মহকুমার আহ্বায়ক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনীতির সমাজতান্ত্রিক ধ্যান ধারণা আয়ত্ত করা ও সমাজতন্ত্র কায়েম করার উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির পক্ষ থেকে রাশিয়া সরকারের আমন্ত্রণে সোভিয়েত ইউনিয়নে গমন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৭ সালে তিনি খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন থানা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিনি স্বনির্ভর প্রকল্পের মাদারীপুর অঞ্চলের উদ্যোক্তা ছিলেন ১৯৯৩ সালে এ টি এম নুরুল হক পুনরায় খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। মূলত তখন থেকেই তিনি সর্বহারাদের টার্গেট হন। যে কারণে বাড়ি-ঘর ছেড়ে ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হন। . ভাষা সংগ্রামী গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন বাংলা ভাষা আন্দোলনের এক অন্যতম সৈনিক। ১৯৪৮ সালে মায়ের ভাষা বাংলাকে গ্রাস করার অপচেষ্টার শুরু থেকেই প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে মাদারীপুর-এর শিবচরের ছাত্র সমাজ। আন্দোলন গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালে। ১৯৫২-র রক্তঝরা ঢাকার রাজপথের সেই মিছিলেও অংশ নেন শিবচরের শিক্ষার্থীরা। ভাষা আন্দোলনের অন্যদের নেতৃত্বে ছিলেন ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন। ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় অংশ নেয়ার জন্য মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক শ’ ছাত্রের তালিকা করা হয়। তৎকালীন বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তিনি তার নেতৃত্বে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল ও শিবচরের ২০০ শতাধিক ছাত্র নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় যান। মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতেই কার্জন হলের সামনে পুুলিশের মুহুর্মুহু গুলি শুরু হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্ররা মাটিতে শুয়ে জীবন রক্ষা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা রমনী চক্রবর্ত্তীর সহকর্মী হওয়ায় পূর্ব থেকেই গোলাম মোস্তফা রতন ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তাই ভাষার ওপর আঘাত আসতেই মাদারীপুর, ফরিদপুর, বরিশালে নেতৃত্ব দিয়ে গড়ে তুলেন দুর্বার আন্দোলন। আন্দোলন শেষে গোলাম মোস্তফা ফিরে আসেন নিজ গ্রাম মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চররামরায়ের কান্দি গ্রামে। স্থানীয় উমেদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ভাষা সংগ্রামী গোলাম মোস্তফা। যুদ্ধ শেষে ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশেষ বার্তায় তাকে ডেকে নিয়ে বাসভবনে বৈঠক করে দেশের জন্য কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই থেকে জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সুবাদে জাতির পিতার বাসায় ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। জাতীয় স্বীকৃতি না পেলেও ২০১২ সালে এইমওয়ে নামের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তাঁকে সম্মাননা পদকে ভূষিত করেছে। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চররামরায়ের কান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ১২বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। ভাষাসৈনিক গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন ১৯২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার উমেদপুর ইউনিয়নের রামরায়ের কান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল গফুর আখন্দ এবং মাতার নাম জীবন নেছা। তাঁরা ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। কলেজে পড়ার সময় তিনি ভাল ইংরেজী কবিতা লিখতেন এবং অনর্গল ইংরেজী ভাষায় কথা বলতেন। গোলাম মোস্তফা আখন্দ যখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তখন তাঁর মা-বাবা মারা যান। যে কারণে তাঁর লেখাপড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। রাজনৈতিক, পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে ৪০ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে তিনি বিয়ে করেন। ’৫২ সালে শিবচর নন্দকুমার হাই স্কুলের ছাত্ররা ও যুবসমাজ আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। এখানে নেতৃত্ব দেন ভাষা সংগ্রামী গোলাম মোস্তফা আখন্দ, মতিয়ার রহমান মোল্লা, আমির হোসেন, মানিক মুন্সী, মোশারফ হোসেন। শিবচর নন্দকুমার হাই স্কুল ছিল আন্দোলনের ঘাঁটি। এখান থেকেই কর্মসূচী নেয়া হতো। তারা ছিল ঢাকামুখী, তাই গোলাম মোস্তফা আখন্দ ও মতিয়ার রহমান মোলার নেতৃত্বে ঢাকার আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, চরমুগরিয়া ও শিবচর থেকে ২০০ শতাধিক যুবক ও ছাত্র লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। তারা ২১ সকালে ঢাকার সদর ঘাটের বাদামতলী নেমে হেঁটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা দেয়। তাদের মিছিলটি কার্জন হলের কাছে পৌঁছলে পুলিশী বাধার সম্মুখীন হয়। তখন গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন ছিলেন বরিশাল বি.এম কলেজের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ফিরে শিবচর নন্দকুমার হাই স্কুলের ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ধর্মঘট পালন করে। ঐ দিন শিবচর থানার বিভিন্ন স্কুলের দেড় সহস্রাধিক ছাত্র জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিকেলে নন্দকুমার হাই স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ মোশারফ হোসেন নামের এক ছাত্রনেতা। বক্তব্য রাখেন গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন, আমির হোসেন, মতিয়ার রহমান মোল্লা, মানিক মুন্সী। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ভাষা সংগ্রামী গোলাম মোস্তফা রতন। পরে তিনি উমেদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ১২ বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ও একাধিকবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী। তাঁর মুখ বেঁকে গেছে এবং কথা অস্পষ্ট হয়ে গেছে। . ভাষা সংগ্রামী আবদুল হাই তালুকদার ভাষা সংগ্রামী আবদুল হাই তালুকদার ছিলেন ’৫২-র ভাষা আন্দোলনে মাদারীপুর জেলার নেতৃস্থানীয়দের একজন। ছাত্র জীবনে ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর জীবনের বড় অর্জন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ও সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া এই ছাত্রনেতার সম্পর্কে কোন লেখালেখি হয়নি। বড় বড় মানুষের ভিড়ে ইতিহাসের পাতায় তাঁর নামও নেই। অথচ জেলা পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এরাই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৫২ সালের উত্তাল দিনে আবদুল হাই তালুকদার ছিলেন চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ভাষা আন্দোলনের তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। বয়সের ভাড়ে ন্যুয়ে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে খুব অসুস্থ অবস্থায় চরমুগরিয়ার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভাষা সংগ্রামী আবদুল হাই তালুকদার ১৯৩১ সালে মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়ার চরখাগদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুর রহিম তালুকদার এবং মাতার নাম সাজু বিবি। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও সংগ্রামী চিন্তা-চেতনার মানুষ। ভাষা সংগ্রামী আবদুল হাই তালুকদার ১৯৩৮ সালে ৭ বছর বয়সে চরমুগরিয়া ফ্রি প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। পরে তিনি চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং ১৯৫২ সালে একই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৫৩ সালে মাদারীপুর নাজিমউদ্দিন কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং একই কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। চরমুগরিয়া মার্চেন্টস উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত তিনি ভাষা আন্দেলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। আবদুল হাই তালুকদার কর্মজীবনে প্রথমে সেটেলমেন্ট অফিসে আমীন পদে চাকরি নেন। ৮ বছর চাকরি করে পেশকার পদে পদোন্নতি পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে ১৯৬৮ সালে মাদারীপুর পৌরসভায় কালেক্টর পদে চাকরি গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ওই পদে চাকরি করে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বর্তমানে খুব অসুস্থ অবস্থায় চরমুগরিয়ার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।