ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

সুনামগঞ্জে কৃষিজমি চাষাবাদে শ্রমিক সংকট

প্রকাশিত: ২৩:১৩, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

সুনামগঞ্জে কৃষিজমি চাষাবাদে শ্রমিক সংকট

নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ ॥ সংকট আর সমস্যা যেন ছাড়ছেনা হাওর এলাকার কৃষকদের। হিমেল হাওয়া ও শীত উপেক্ষা করে হাওড়াঞ্চলে কৃষকরা বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় কাটালেও শ্রমিক সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা। শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকে দেরিতে চারা রোপণ শুরু করেছেন। কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গতবার বোরো ফসলের শতভাগ ক্ষতি হওয়ায় এলাকার কৃষক ও শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহের জন্য চলে গেছেন ঢাকা, সিলেট, গাজীপুর, ভোলাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যে কারণে শ্রমিক সংকট প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। হাওড়ের নিচু জমিগুলো এবছর চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে না বলেও জানিয়েছে অনেক কৃষক। কারণ এসব পানি নিষ্কাশন হচ্ছে ধীরগতিতে। ফলে নিচু জমিগুলোতে পানি এবার থেকেই যাবে। হাওড় বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, কৃষিকাজে শ্রমিকের ব্যাপক সংকট রয়েছে। গত বছর হওড় এলাকায় ফসল বিপর্যয়ে পর অধিক সংখক কৃষি শ্রকিক শহরে মাইগ্রেট করেছে যার ফলে এখন চারারোপনের সময় কৃষি শ্রমিকের সংকট প্রকট আকার ধারণ কছে। অধিক টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। এ চিত্র জেলার সর্বত্র। সরেজমিন দেখা যায়, শ্রমিক সংকটের কারণে এলাকার বেশকিছু জায়গায় নারী ও শিশুরা ক্ষেতে কৃষিকাজ করছে। তারা বলছে, তাদের জমি সময়মতো রোপণ করার জন্যই তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে নেমেছে। বসে নেই নারীরাও। তারা বলছেন, আগামী ফসল ঘরে তোলার জন্য তারাও পুরুষদের সহযোগিতা করছেন। জেলা কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক বলেন, এ বছর জেলায় জেলায় ২ লক্ষ ২২ হাজার ৫৫২ হেক্টর বোরো জমি চাষাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এ বছর জেলায় তিন লক্ষ কৃষককে বিজ, সার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। যার সুফল ইতিমধ্য কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। তিনি জানান, শ্রমিক সংকট থাকার পরও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার কৃষকের ঘরে ফসল উঠবে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষদের এ সময়ে করনিয় বিষয়আশয় নিয়ে পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন ফলে ভাল ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদি। চারা রোপনে বিলম্ব হলে ধানে কিছু ফলন কম হতে পারে বলেও জানান তিনি।