সোমবার ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

সংবিধানের বাইরে অন্য সরকারের দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই

  • বিএনপির প্রতি কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সংবিধানের বাইরে অন্য কোন সরকারের দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই। এটাই আওয়ামী লীগের শেষ কথা। নির্বাচনে কোন দল অংশগ্রহণ করল কিংবা করল না, তার দায় আওয়ামী লীগের নয়। কোন দলের নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার ওপর গণতন্ত্রের চলার পথ নির্ভর করবে না।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনে হবে। আর বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মত ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু সরকারের রুটিন ওয়ার্ক করবেন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ যারা নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যাবে। এর বাইরে অন্য কোন দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই, এটাই শেষ কথা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন মাঠে প্রস্তাবিত স্বামী বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি গৌরগোপাল সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)’র চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রকৌশলী সারোয়ার কায়নাত মোঃ নূর, রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ স্বামী অমেয়নন্দ মহারাজ, স্বামী ধ্রবেশানন্দ মহারাজ প্রমুখ।

এর আগে ওবায়দুল কাদের প্রস্তাবিত স্বামী বিবেকানন্দ ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় হর্ষবর্ধন শ্রীংলাসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রামকৃষ্ণ মিশনে ২০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক উপ-কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন সারোয়ার কায়নাত মোঃ নূর এবং মিশন থেকে প্রকাশিত ‘প্রবোধন’ ত্রৈমাসিক পত্রিকার উদ্বোধন করেন কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি।

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। তখন আপনার (খালেদা জিয়া) বিবেক কোথায় ছিল? তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে যখন সংলাপের জন্য গণভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ফোন করেছিলেন তখন আপনার (খালেদা জিয়া) অশালীন বক্তব্য দেশের মানুষ ভুলে যায় নি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে আজ আওয়ামী লীগকে এধরনের কথা শুনতে হতো না।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গণভবনে আসতেন তাহলে দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস ভিন্ন রকম হতো। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আপনারাই এ পথে ঠেলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি গত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও ইন্টার পার্লামেন্টারি এ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)’র আন্তর্জাতিক সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে কোন সমস্যা হয়নি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতা আপনারা উপলব্ধি করুন। মাঝে মাঝে বিছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে। এ সকল ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও মন্দিরে হামলা হয়। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যদি কোন হামলা হয় তবে তা হবে রাজনৈতিক।

শীর্ষ সংবাদ: