মঙ্গলবার ৫ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ফের প্রশাসনের হাতে ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃৃঙ্খলা ও আচরণ বিধির গেজেট প্রকাশের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ আবারও প্রশাসনের হাতে গেলো যা দুর্ভাগ্যজনক। বিচার বিভাগকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করে বিরোধী মতকে দমন করতেই নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভয়াবহ চক্রান্তের অংশ এটি। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কমরেড তোয়াহা’র ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী ও রাজশাহীর তানোরে সাম্যবাদী বিপ্লবী শহীদদের স্মরণে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল সাম্যবাদী দল আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৮ বছর ধরে মামলা চললো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মামলা। সেই মামলার রায় হলো বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে হবে, বিচার বিভাগে প্রশাসনের কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। এ ব্যাপারে রায় দিয়েও দিয়েছিলেন, রায় বাস্তবায়নও করতে বলেছিলেন শাসন বিভাগকে। আর তা বলার কারণে আমাদের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধির গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সরকারের হাতেই থাকছে নিয়ন্ত্রণ। বিচার বিভাগের যে শৃঙ্খলা বিধান করেছে, এটি ভয়াবহ রকমের একটি বিচ্যুতি। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেই ভিন্ন মতকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান থেকে বাদ দেয়ার সামলোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংবিধান বাইবেল নয়, তাই জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, যার মাধ্যমে তারা তাদের সরকার নির্বাচিত করবে। ধানাই-পানাই করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে নির্বাচন হবে না।

ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে কল্পিত সম্পদের তথ্য দিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার নামে বিদেশে সম্পদ রয়েছে বলে যেসব গণমাধ্যমের কথা বলা হচ্ছে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। এই ধরনের ভিত্তিহীন তথ্য তারাই প্রচার করে যাদের পায়ের নিচে কোনো মাটি নাই।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, সরকারী দলের কোন কোন বড় নেতা যারা বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকেন তারা মাঝে মাঝে এসে বড় বড় কথা বলেন। আগে একবার বলেছেন, তার কাছে তথ্য আছে আওয়ামী লীগ জিতবেই। এখন বলছেন, আওয়ামী লীগ আরও বেশি ভোটে জিতবে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে কোন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলেন। তাহলে দেন না একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন তাহলেই তো প্রমাণ হয়ে যাবে। এমন নির্বাচন দিন যে নির্বাচনে আপনারা সরকারে থাকবেন না। নিরপেক্ষ ভোট হবে, জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এমন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ কত ভোট পায় আর বিএনপি কত ভোট পায় দেখুন। তিনি বলেন, জনগণই হচ্ছে একমাত্র শক্তি যার ওপর আমরা নির্ভর করি। আমরা বাইরের কোন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের উপর নির্ভর করি না। তাই আমাদের বাইরে থেকে ঘুরে এসে বলতে হয় না আমরা জিতব।

সরকার অনর্গল মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র হলো দেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ফেলা। যারা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যায়, তারাই গুম, খুন, হত্যা করে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চায়। নেপালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে বিরোধী দল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে। তাদের শক্তি জনগণ। তেমনিভাবে জনগণই আমাদের শক্তি।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সভাপতি রেহেনা প্রধান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতনিধি নির্বাচন-২০১৭ উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আঠারো বছর আগে মাসদার হোসেন মামলার পর বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ হয়েছিল। বিচার বিভাগ নিয়ে আমরা বহু কথা বলেছি। এমনকি সংসদে আইন পাস হয়েছে। কিন্তু সেই বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ আবারো প্রশাসনের হাতে নিয়ে গেলো এবং কোনোভাবেই তা আটকানো গেল না। তিনি বলেন, যখনই আমরা কোন কথা বলতে যাই এবং প্রতিবাদ করি তখন আমাদের ওপর মামলা দেয়া হয়।

রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী প্যানেলকে স্বাগত জানিয়ে ফখরুল বলেন, এ ধরনের নির্বাচনে বিএনপি আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই অংশ নেয়। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এই গণতন্ত্রের আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বেরিয়ে আসতে হবে। মুক্তচিন্তা ও অধিকার রক্ষার আন্দোলন করতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, যতক্ষণ না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন আন্দোলন শুরু হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই আন্দোলন লক্ষ্যে পৌঁছায় না। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট নির্বাচনকে শুধু সিনেট নির্বাচন হিসেবে না নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত চিন্তার অধিকারকে মুক্ত করার নির্বাচন হিসেবে নিতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
বুধবার থেকে ভার্চুয়ালি চলবে সুপ্রিম কোর্ট         তৃণমূলের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও মনোযোগী হোন ॥ ডিসিদের প্রধানমন্ত্রী         পারিবারিক কলহের জেরে চিত্রনায়িকা শিমুকে হত্যা         মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ১ এপ্রিল         হাফ ভাড়া দেওয়ায় ঘড়ি-মানিব্যাগ রেখে তিতুমীরের দুই ছাত্রকে মারধর         শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস         নাইকো দুর্নীতি মামলা ॥ খালেদার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ৮ মার্চ         উখিয়ার ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা         আফগানিস্তান শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে নিহত ২৬         সোনারগাঁয়ে ২ এসআই নিহত : গাড়ি চালাচ্ছিলেন মামলার আসামি         হত্যা মামলায় বিজিবির বরখাস্ত সদস্যের মৃত্যুদন্ড         বাড়তে পারে শৈত্যপ্রবাহ         হাতিয়ার সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে পাচার, চক্রের এক সদস্য আটক         মরক্কো উপকূলে নৌকাডুবিতে ৪৩ অভিবাসীর মৃত্যু         মেসি-সালাহকে হারিয়ে ফিফা বর্ষসেরা জিতলেন লেভানদোভস্কি         বিচারকাজ ফের ভার্চ্যুয়ালি পরিচালনা করতে হবে ॥ প্রধান বিচারপতি