ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

মিয়ানমারের সদিচ্ছার অপেক্ষায় আছি ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫:৪৯, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

মিয়ানমারের সদিচ্ছার অপেক্ষায় আছি ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমার উদ্যোগী হবে বলে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমারের সদিচ্ছার জন্য অপেক্ষায় আছি। তারা আমাদের কথা দিয়েছেন, দ্রুত সঙ্কটের সমাধান হবে। দু’দিনের সফর শেষে মিয়ানমার থেকে ফিরে বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সফরে আমরা আমাদের দাবি উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, সব কিছু হবে। দেখা যাক, আমরা অপেক্ষা করছি তাদের (মিয়ানমার সরকার) সদিচ্ছার ওপর। তারা ৩০ নবেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করবে বলে জানিয়েছে।। তিনি বলেন, আমরা তাদের এটা বলেছি, দ্বিপক্ষীয়ভাবে এর সমাধান করা উচিত এবং আমরা সেটাই চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাই চান। তিনি বলেন, রেহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান না করলে তাদের বলেছি যে, আমরা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জায়গায় যাব। তাদের সমস্যা আমাদের ঘাড়ে তো এসে পড়েছে। কয়েক যুগ ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গার ভার বহন করছে বাংলাদেশ। তাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে উল্টো উস্কানিমূলক নানা আচরণও মিয়ানমার থেকে আসে। এবার রাখাইন প্রদেশে নির্যাতনের মুখে গত ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ঢল নামলে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফেরত নেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর মিয়ানমারের মন্ত্রী আউং সান সুচির দফতরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে অক্টোবরের শুরুতে ঢাকায় এলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই দেশ একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার জন্য ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রস্তাব করে তার খসড়াও হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে সে বিষয়ে মিয়ানমারের জবাব এখনও জানা যায়নি। এই দফায় বাংলাদেশে এসেছে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তারপর মিয়ানমার সফরে গিয়ে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এলেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, আমরা হাঁটা শুরু করেছি, লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব। কোন্ প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা তো জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কথা বলেছি। সেই গ্রুপ কোফি আনান কমিশনের সুপারিশ সামনে রেখে কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা সামনে রেখে কাজ করবে। তারা বলেছেন, তারা ৩০ নবেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করবেন। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশ্বজুড়েই চলছে আলোচনা। মুসলিম বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সমালোচনামুখর। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করছে রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য। তবে চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষে বলেই বিভিন্ন ফোরামে তাদের অবস্থানে স্পষ্ট হয়েছে। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক চাপে আছে বলে কি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ‘আইওয়াশ’ করেছে কিনা, আসাদুজ্জামান কামালকে সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন, আমি কোন কিছুই নেগেটিভলি দেখি না। আমি মনে করি, এটা তাদের সমস্যা তারা সমাধান করবে। এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং মনে করি। আমরা মনে করি আমাদের এই সমস্যা ওভারকাম করতেই হবে। আমরা সেটাই মনে করি। শরণার্থী সঙ্কট চললে মিয়ানমারকেও যে তার ফল ভোগ করতে হবে সে কথাও তাদের জানিয়ে এসেছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল। এরা (রোহিঙ্গা) যদি বেশিদিন থাকে। যে সন্ত্রাস ও জঙ্গীদের আমরা কন্ট্রোলে নিয়ে এসেছি, তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যেতে পারে। তখন আমাদের কিছু করার থাকবে না। আমরা যে রকম অসুবিধায় পড়ব। তোমরাও (মিয়ানমার) সে রকম অসুবিধায় পড়বে। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির নেত্রী সুচির সঙ্গেও আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা সবই রাজি হয়েছেন; কিন্তু তারা বলছেন, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব ফাইনালাইজড করবে। রাখাইনে সেনা অভিযানের আগে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন মিয়ানমারের কর্মকর্তারা। কামাল বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলেছি, এই দেশে কোন দুষ্কৃতকারীকে আমরা স্থান দিই না। এক ইঞ্চি জায়গাও ব্যবহার করতে দেই না। তাদের বলেছি, কোন জঙ্গীর তালিকা বা আস্তানা থাকলে আমাদের দাও, আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। তারা দুষ্কৃতকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। তবে শুধু নাম আছে; বাবার নাম, বাড়ি, ঠিকানা কিছুই নেই। সংখ্যা কত, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই সংখ্যা আমার কাছে নেই। আইজিপি বলেছেন, তিনি এটা (তালিকা) পেয়েছেন। ইয়াঙ্গুনে বুধবার আউং সান সুচির সঙ্গে বৈঠক ॥ সুচির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে কামাল বলেন, তাকে বলেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছেন; আপনিও (সুচি) মিয়ানমারকে সে জায়গায় নিতে পারবেন- বাংলাদেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করে।