ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

কালীমন্দির ঘিরে সম্প্রীতির ভিত

প্রকাশিত: ০৪:৪৭, ২৩ আগস্ট ২০১৭

কালীমন্দির ঘিরে সম্প্রীতির ভিত

মন্দিরটি প্রায় ভগ্নদশায় ছিল। ভেঙ্গে পড়তে পারত যে কোন সময়। সেটি নতুন করে তৈরি হলো। নক্সা তৈরি করেছেন এক মুসলিম মিস্ত্রি। আর্থিক সহায়তাও করেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডেও রয়েছেন তারা। এতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির ভিত দৃঢ় হয়েছে। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ শহরের মতিগঞ্জ এলাকার। বনগাঁ-বাগদা সড়কের পাশে ১০০ ফুট উঁচু মন্দিরটি। শহরে এত বড় এবং সুদৃশ্য কালীমন্দির আর নেই। সোমবার নব কলেবরে মন্দিরের দ্বার উদ্ঘাটন করলেন সাবেক পৌর প্রধান জ্যোৎস্না আঢ্য। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ইতোমধ্যেই মন্দির দেখতে ভিড় করছেন। এলাকাটি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। স্থানীয় কাউন্সিলর তথা বনগাঁ পৌরসভার পুরপ্রধান শঙ্কর আঢ্য মন্দিরটি তৈরি করতে উদ্যোগ নেন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের ওয়ার্ডে বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। মন্দির তৈরির নক্সা তৈরির দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয়েছিল স্থানীয় এক মুসলিম রাজমিস্ত্রিকে। মন্দির তৈরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাও সাহায্য করেছেন।’ মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম পাহাড়ি নামে এক ব্যক্তি মন্দিরের যাবতীয় নক্সা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে করেছেন। বাবু পাহাড়ি নামে এক সংখ্যালঘু মানুষ মন্দিরে পাথর বসানোর কাজ করেছেন। মন্দিরটি প্রথম নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। সতীশ গজি নামে এক ব্যক্তির দানের জমিতে সেটি তৈরি হয়। প্রবীণ বাসিন্দা পরিতোষ দাস জানালেন, কুড়ি বছর ধরে মন্দিরটি ভগ্নপ্রায়। সিমেন্টের কালী মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এলাকার মানুষ মন্দিরটি নতুন করে তৈরি করার আবেদন করেন। মন্দিরের পাশেই মাদ্রাসা। সেখানে ঈদের নামাজ পড়া হয়। ফলে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, বহু বছর ধরেই এই এলাকার দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে থাকেন। কিছুদিন আগে হিন্দু নারীর শেষকৃত্যে কাঠ সাজিয়ে খবরের শিরোনামে আসেন এক মুসলিম পুরুষ। -ওয়েবসাইট।