ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

না’গঞ্জের ৭ খুন মামলার আপীলের রায় আজ

গ্যাটকো মামলা চলবে, খালেদার লিভ টু আপীল খারিজ

প্রকাশিত: ০৫:৪৮, ২২ আগস্ট ২০১৭

গ্যাটকো মামলা চলবে, খালেদার লিভ টু আপীল খারিজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপীল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার লিভ টু আপীল খারিজ করে দিয়েছে আপীল বিভাগ। এর ফলে মামলা চলতে আর বাধা নেই। রাঙ্গামাটির লংগদুতে পাহাড়ীদের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ঔষধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় স্বাস্থ্য সচিবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। সোমবার আপীল বিভাগ ও হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলো এ আদেশ প্রদান করেছেন। মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিং ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। মামলার শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিল আদালত। এরপর ১৩ আগস্ট আদালত রায় ঘোষণা করেনি। ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে ২২ আগস্ট করা হয়। এর আগে গত ২২ মে এ মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপীলের শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, এ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান, এ্যাডভোকেট মোঃ আহসান উল্লাহ। এর আগে গত ১৭ মে আলোচিত এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপীল শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপীলের শুনানি শুরু হয়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত নূর হোসেনসহ আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপীল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ আসামিরা খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপীল দায়ের করেন। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি সাত খুন মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদ-াদেশ দেয় আদালত। বাকি ৯ আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। সব মিলিয়ে ৩৫ আসামির মধ্যে কারাগারে আটক আছে ২৭ জন। আর পলাতক আছে ৮ জন। সাজাপ্রাপ্ত ২৫ জন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র‌্যাবে কর্মরত ছিলেন। অপরাধের সময় তারা সবাই র‌্যাব-১১-তে কর্মরত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন সেনাবাহিনীর, ২ জন নৌবাহিনীর, ৩ জন বিজিবির, ৭ জন পুলিশ ও ২ জন আনসার সদস্য। সাত খুনের মামলার পর তাদের নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। গ্যাটকো মামলা চলবে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা প্রশ্নে খালেদা জিয়ার লিভ টু আপীল খারিজ করে দিয়েছে আপীল বিভাগ। এর ফলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে থাকা এ মামলার কার্যক্রম চলতে আর কোন আইনী বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করা একটি রিট আবেদন দুই বছর আগে হাইকোর্টে খারিজ হয়ে যায়। ওই রায়ের বিরুদ্ধেই আপীলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপীল বেঞ্চ সোমবার তা খারিজ করে দেয়। আপীল বিভাগে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন এজে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে মামলার বাদী দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন। লংগদুর ঘটনা তদন্তে কমিশন কেন নয় রাঙ্গামাটির লংগদুতে পাহাড়ীদের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া তদন্ত কমিশন গঠনে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা তিন মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত আগামী ৩ নভেম্বর এ মামলার পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এর আগে গত ১২ জুন লংগদুর ঘটনায় বিচারিক তদন্ত ও ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠান সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী নিকোলাস চাকমা। নির্ধারিত সময়ে নোটিসের জবাব না পাওয়ায় এই রিট দায়ের করা হয়। স্বাস্থ্য সচিবকে তলব রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ঔষধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় স্বাস্থ্য সচিবকে তলব করেছে হাইকোর্ট। এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মোঃ আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। স্থাস্থ্য সচিবকে আগামী ২৩ আগস্ট আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। ২০০৯ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ সেবন করে সারা দেশে ২৮টি শিশু মারা যায়। ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম ওই ঘটনায় ঢাকার ড্রাগ আদালতে একটি মামলা করেন যাতে রিড ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার রায়ে গত বছর নবেম্বরে পাঁচ আসামির সবাই খালাস পেয়ে যান। বাকি চার আসামি হলেনÑ মিজানুরের স্ত্রী কোম্পানির পরিচালক শিউলি রহমান, পরিচালক আবদুল গণি, ফার্মাসিস্ট মাহবুবুল ইসলাম ও এনামুল হক। ঢাকার ওষুধ আদালতের বিচারক আতোয়ার রহমান ওই রায়ে বলেন, মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তখনকার সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম ও উপপরিচালক আলতাফ হোসেনের ‘অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে’ রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের ওই রায় আসার পরও ঔষধ প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস এ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি আবেদন করলে গত ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করে।