ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

ছয় ছক্কার রেকর্ডে হুইটলি

প্রকাশিত: ০৬:৪৬, ২৫ জুলাই ২০১৭

ছয় ছক্কার রেকর্ডে হুইটলি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ২৩৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করছিল উস্টারশায়ার। জো ক্লার্ক, জন হাস্টিংসরা দলকে সঠিক পথেই রেখেছিলেন। প্রতি ওভারে প্রায় ১০ রান করে তুলছিল দলটি। তবে ১২তম ওভারে এসে জো ক্লার্ককে হারিয়ে বেশ বিপদেই পড়ে যায় উস্টারশায়ার। রান তখন ৪ উইকেটে ১১৭। উস্টারশায়ার জিতবেÑ এই বাজি ধরার লোক তখন আর কেউই ছিল না। তবে উইকেটে চারটা বল দেখেশুনে খেলেই ঝড় শুরু করেন রস হুইটলি। ঝড় যখন থামে, উস্টারশায়ার প্রায় হেরে বসেছে ম্যাচটা, হুইটলির নামের পাশে তখন ২৬ বলে ৬৫ রান। এর মধ্যে কার্ল কারভারের এক ওভারে ছয় বলে ছয় ছক্কা মেরে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন ডার্বিশায়ারের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। হুইটলি ঝড় তুললেও ইয়র্কশায়ারের কাছে তার দল হেরে গেছে ৩৭ রানে। ক্রিকেট ইতিহাসে ছয় বলে ছয় ছক্কা মারার রেকর্ড অবশ্য এটি প্রথম নয়। ১৯৬৮ সালে প্রথমবারের মতো এ ঘটনার সাক্ষী হয় ক্রিকেটবিশ্ব। সেবার নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামরগনের বাঁহাতি স্পিনার ম্যালকম ন্যাশের ছয় বলে ছয় ছক্কা মারেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্স। এরপর ১৯৮৫ সালে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে বারোদার বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনার তিলক রাজের বলে ছয় ছক্কা মারেন রবি শাস্ত্রী। এরপর প্রায় ২২ বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটান দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস। ২০০৭ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই অতিমানবীয় কা- ঘটান গিবস। সে বছর দ্বিতীয়বারের মতো একই ঘটান ভারতের যুবরাজ সিং। টি২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় বলে ছয় ছক্কা মারেন যুবি। পেসার হলেও ব্যাট হাতেও দারুণ পারদর্শী উইলি। ২০১৫ সালে সাসেসেক্সের বিপক্ষে ৪১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয়টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন এই ক্রিকেটারের। ২৩৪ রান তাড়া করতে নেমে ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েই দিয়েছিলেন রস হুইটলি। ২৬ বলে আট ছয় ও দুটি চারে ৬৫ রান করেন তিনি। তবে এই ব্যাটসম্যানের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান সেঞ্চুরি করা ডেভিড উইলি। ল্যানিংয়ের তালুবন্দী করে হুইটলিকে ফেরত পাঠান তিনি। এর আগে ইনিংসের ১৬তম ওভারে কার্ল কারভারের ওভারে টানা ছয় ছয় মারেন হুইটলি। পরপর চারটি ছক্কা হজম করার পর পঞ্চম বলটি ওয়াইড করেন কারভার। পরের দুই বলে আবার দুটি ছক্কা। ‘এভাবে ব্যাট করার উপযুক্ত সময় ছিল তখন। হয় কিছু করতে হবে, নয়ত মাঠ ছাড়তে হবে। আমি এমন এক ইনিংস খেলব ঠিক করেই মাঠে নেমেছিলাম। দলের জন্য এটা করতে চেয়েছিলাম, কোন ব্যক্তিগত অর্জনের জন্য নয়। আমি কখনও ভাবিনি পেশাদার ক্রিকেটে এমনটা করতে পারব। বোলারের দুর্ভাগ্য যে লেগ সাইডে বাউন্ডারি খানিকটা ছোট ছিল।’ ঝড় তোলা ইনিংসের পর প্রতিক্রিয়া ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেয়া ২৮ বছর বয়সী হুইটলির।