শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

পদ্মার চরে স্পীডবোট যাত্রীকে ধর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মার চরে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণ করেছে স্পীডবোট চালক ও তার সহকারী। রবিবার স্বামীর বাড়ি বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে স্পীডবোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় স্পীডবোট চালক রাজিব ও তার সহযোগী মিঠু তাকে চরে নিয়ে ধর্ষণ করে।

লৌহজং থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনিচুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আনুমানিক দশটায় ভিকটিম তার স্বামীর বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া উপজেলার পলাশপুর গ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ফেরিতে করে লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাটে আসার জন্য রাত ১২টা নাগাদ তিনি কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এসে পৌঁছান। ফেরিটি দেরি করায় ওই গার্মেন্টসকর্মীসহ আরও কয়েকজন কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট থেকে একটি স্পীডবোটে উঠে পদ্মা পাড়ি দেয়। স্পীডবোটটি শিমুলিয়া ঘাটে পৌঁছলে অন্য যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে নেমে যান। পাঁচ শ’ টাকা নোটের ভাংতি না থাকায় মেয়েটিকে দেরি করায় স্পীডবোট চালক রাজিবসহ মিঠু নামে আরও একজন যুবক। লোকজন দূরে চলে গেলে স্পীডবোট চালক সেটিকে ঘুরিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পদ্মার চরে যায়। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চড়-থাপ্পড় মেরে চরে নামিয়ে ধর্ষণ করে তারা। এক ঘণ্টা পর রাত আড়াইটায় মেয়েটিকে শিমুলিয়া ঘাটে নামিয়ে দিয়ে ধর্ষক দু’জন স্পীডবোটটিকে ঘাটে রেখে পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় এক রিকশাচালক লৌহজং থানায় নিয়ে আসে। মেয়েটির বর্ণনা অনুযায়ী লৌহজং থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদা রঙের স্পীডবোটটিকে শিমুলিয়া ঘাট থেকে জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ধর্ষক দু’জনের পরিচয়ও উদ্ধার করেছে। একজন স্পীডবোট চালক লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের ওয়ারী গ্রামের মজিদ কম্পানীর ছেলে রাজিব কম্পানী অপরজন উপজেলার মেদিনীম-ল ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক শিকদারের ছেলে মিঠু শিকদার।

পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এই বিষয়ে মেয়েটি নিজে বাদী হয়ে সোমবার লৌহজং থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মেয়েটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে লৌহজং থানার ওসি আনিচুর রহমান জানিয়েছেন, আসামিদের শনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শীর্ষ সংবাদ: