ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

দন্ত্য বিভাগে একমাত্র যন্ত্র সাঁড়াশি ॥ প্রয়োজন এ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশিত: ০৫:১৯, ৩০ এপ্রিল ২০১৭

দন্ত্য বিভাগে একমাত্র যন্ত্র সাঁড়াশি ॥ প্রয়োজন এ্যাম্বুলেন্স

সৌমিত্র মানব, সাভার ॥ রাজধানীসংলগ্ন ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভার উপজেলা এ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। কারণ, এখানে রয়েছে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়, সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড), ডেইরি ফার্ম, ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্কের মতো দুটি বৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র, কয়েকশ’ শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দেশের অনেক জেলার জনসংখ্যার চেয়ে এ উপজেলার জনসংখ্যা বেশি। বিভিন্ন দিক থেকে এ উপজেলার গুরুত্বও অনেক বেশি। সর্বোপরি, দেশের প্রায় সব এলাকার লোকই জীবিকার প্রয়োজনে সাভারে বসবাস করেন। সেই অনুযায়ী এ উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সরকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান ‘সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ এর অবস্থানও একটু ভিন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ওষুধ বরাদ্দ থেকে শুরু করে অন্য বরাদ্দ দেশের অন্য উপজেলার মতো একই। স্বল্পতা সত্ত্বেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপযুক্ত সেবা প্রদানে যথা সম্ভব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরজমিনে দেখা গেছে, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবচেয়ে অবহেলিত বিভাগ হচ্ছে দন্ত বিভাগ। এখানে দাঁত তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ‘সাঁড়াশি’। তাও আবার অবশ করা ছাড়াই। তাই যারা সেখানে দাঁত তোলার জন্য যান, ‘সাঁড়াশি’ দেখে ভয়েই সেখান থেকে চলে আসে এবং পরে শরণাপন্ন হন বাইরে ডেন্টাল ক্লিনিকের। তাই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটিও অনেক পুরানো। এ কারণে এ মেশিন দিয়ে সব ধরনের এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীদের যথার্থ সেবা দিতে প্রয়োজন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। এ হাসপাতালে প্রতি মাসে ২৫-৩০টি সিজারিয়ান অপারেশন হয়। কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ না থাকা ও একই সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত জেনারেটর বিকল থাকার কারণে প্রায়ই অপারেশন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অপারেশনের সময় বিদ্যুত চলে গেলে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে অপারেশন করা হয়। এতে অনেক ঝুঁকি থাকলেও এছাড়া কোন উপায় থাকে না। হাসপাতালে প্রায় তিন বছর কোন বার্বুচি নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থানীয়ভাবে অনেক কষ্ট করে রোগীদের জন্য রান্নার ব্যবস্থা করে। টিকেট কাউন্টারে টিকেট ক্লার্কের পদটিও দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। এছাড়া রয়েছে এ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতা। ইউএইচও ডাঃ আমজাদুল হক ও আরএমও ডাঃ জাহিদুর রহমান জানান, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ আরও অনেক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় প্রায়ই মেডিক্যাল টিম করতে হয়। ফলে হাসপাতালের একমাত্র এ্যাম্বুলেন্সটি ওই সমস্ত প্রোগ্রামে নিয়োজিত থাকে। এ কারণে অনেক সময় রোগীদের প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত সেবা প্রদানের জন্য আরও একটি এ্যাম্বুলেন্স ও চালক বরাদ্দ দেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে।