মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

কলম্বোর পরাজয়ে লঙ্কান অধিনায়ক হেরাথ যা ভাবছেন!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্রথম টেস্টে সফরকারী বাংলাদেশকে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। বেশ কয়েকজন অপরিহার্য ক্রিকেটারকে ছাড়াই দল গড়তে হয়েছে। একেবারে তরুণদের নিয়ে গড়া দলটিই দারুণ এক জয় এনে দেন অস্থায়ীভাবে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া রঙ্গনা হেরাথকে। এ কারণে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশকে ১৯১ রানের জয়ের লক্ষ্য দিয়েও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছিলেন নিজেদের পক্ষেই আসবে ফলাফল। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি, প্রথমবারের মতো টেস্টে বাংলাদেশের কাছে পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। এর পেছনে বাজে ক্যাচিং, খারাপ ব্যাটিংকেই দুষলেন হেরাথ। তবে দাবি করেছেন আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কারণে এ পরাজয় আসেনি। বাংলাদেশ দলও টেস্ট ক্রিকেটে অনেক উন্নতি করেছে বলেই মনে করেন তিনি।

হেরাথ বল হাতে বেশ ভুগিয়েছেন বাংলাদেশ দলকে। উভয় ইনিংসে তার স্পিনের দাপটে কোণঠাসাই ছিল সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। পি. সারা ওভালে চতুর্থ ও পঞ্চমদিন হয়ে ওঠে স্পিনের স্বর্গ। কিন্তু সেখানে তরুণ লক্ষণ সান্দাকানকে নিয়ে হেরাথ ঠেকাতে পারেননি বাংলাদেশকে। যদিও হেরাথ দারুণ বোলিং করেছেন। পঞ্চমদিন সকালে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস ৩১৯ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯১। এই রান নিয়ে জেতার স্বপ্ন দেখেছিল স্বাগতিক দলের সবাই। শুরুটাও বোলাররা দারুণভাবেই করেছিলেন। দলীয় ২২ রানের মধ্যে দুটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন হেরাথ। টানা দুই বলে তিনি সাজঘরে পাঠান ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে। কিন্তু পরের দিকে তামিম ইকবাল ও বাংলাদেশের মিডলঅর্ডারকে সেভাবে দমাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে হেরাথ বলেন, ‘আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে আমরা এই রান নিয়ে জিততে পারব। কারণ আমরা ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এর আগে ক্ষুদ্র স্কোর নিয়ে খেলে জিতেছিলাম। তাছাড়া আমাদের তিনজন স্পিনার ছিল। যখন দ্রুত দুটি উইকেট আমরা তুলে নিলাম তখন মনে হয়েছে আমার ভাবনা অনুসারেই এগিয়ে চলেছে সবকিছু। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর তারা আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে শুরু করে এবং দ্রুত কিছু রান তুলে নেয়। আর এভাবেই চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচটা আমাদের আওতার বাইরে চলে গেছে।’

ম্যাচের দ্বিতীয়দিনের শেষভাগে লঙ্কান ফিল্ডারদের ক্যাচ হাতছাড়া করার বিষয়টিকেও নিজেদের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে মনে করেন হেরাথ। বিশেষ করে সাকিবের ক্যাচগুলো ছেড়ে দেয়াতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। ব্যক্তিগত ১১ রানে স্কয়ার লেগে উপুল থারাঙ্গার কাছে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাকিব। ওই ক্যাচটি ধরতে পারলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ইনিংসের চিত্রটা দাঁড়াত ৬ উইকেটে ২১০। কিন্তু পরে সাকিব শতক হাঁকান এবং ১২৯ রানের লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এ বিষয়ে হেরাথের মন্তব্য, ‘আমার মনে হয় আমরা প্রচুর পরিমাণে ভুল করেছি যখন ফিল্ডিং ও ব্যাটিং করেছি। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা ক্যাচ ছেড়েছি এবং সেটাই আমাদের ম্যাচ হারার মূল কারণ। সাকিবের ক্যাচ হাতছাড়া করাটা বিশেষ করে অনেক বাজে ছিল আমাদের জন্য। কারণ তিনি পরে শতক হাঁকিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি দলের বিরুদ্ধে আমরা এ ধরনের ছোটখাটো ভুল করে কোনভাবেই জিততে পারি না।’ কিন্তু বাংলাদেশ দল টেস্ট ক্রিকেটে অনেক উন্নতি করেছে সেটাও স্বীকার করলেন হেরাথ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রচুর উন্নতি করেছে। এর আগে তারা যখন জুটি গড়তে চাইতো আমরা চেপে ধরতাম এবং সেটা সামলাতে পারতো না তারা। কিন্তু এই দলটা এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকার অনেক চেষ্টা করে এবং আমাদের পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতেও পারে। তারা এখন অনেক চতুর একটা দলে পরিণত হয়েছে।’

শীর্ষ সংবাদ: