ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ আগস্ট ২০২২, ৫ ভাদ্র ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত: ০৫:৪০, ২ ডিসেম্বর ২০১৬

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ শহর ঢাকার জন্য খুবই আনন্দের খবর। প্রতিবছর এ শহরেই আয়োজন করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রার। বাঙালীর বর্ষবরণ উৎসবের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ বুধবার অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বাংলাদেশের অনন্য সাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের মর্যাদা দিয়েছে ইউনেস্কো। ইথিওপিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারগবর্নমেন্টাল কমিটি ফর দ্য সেফগার্ডিং অব দ্য ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের একাদশ অধিবেশন শেষে এই ঘোষণা দেয়া হয়। অধিবেশনে যোগ দেয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন। হোয়াটসএ্যাপে আনন্দ সংবাদটি মুহূতেই এই প্রতিবেদককে জানিয়ে দেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পরে গোটা শহরে। এরপর থেকে নতুন করে আলোচনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা। সবাই জানা, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে চারুকলা অনুষদ। একমাস আগে থেকে অনুষদের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কাজ শুরু করে দেন। যোগ দেন সাবেক শিক্ষার্থী শিক্ষক ও বরেণ্য শিল্পীরাও। লোক সংস্কৃতির নানা উপাদান তারা বিভিন্ন মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তাদের জীবন ও সংগ্রামের আলেখ্য শিল্পের ভাষায় মূর্ত করেন। সময়ের কথাটি বলতে থাকে প্রতিকী উপস্থাপনা। হাতি ঘোড়া বাঘ পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর গড়ন তৈরি করা হয়। বাঁশ ও কাঠের তৈরি বিশাল বিশাল কাঠামো নিয়ে রাস্তায় নামেন আয়োজকরা। তাদের মিছিলে যোগ দেয় গোটা শহর। সবাই মিলে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ান। নিজস্ব কৃষ্টির কাছে নত হন। এইসব আচার আনুষ্ঠানিকতা আমলে নিয়েছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান ও শিল্প সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থাটি। এর ফলে শুধু ঢাকার হয়ে থাকা নয়, গোটা দুনিয়ায় ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি পেল মঙ্গল শোভাযাত্রা। তবে শহর ঘুরে মনে হয়েছে, অনেকেই অর্জনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তাদের জন্য বলা- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের অসংখ্য উপাদান। সংশ্লিষ্ট দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব উপাদান যাচাই-বাছাই ও সুনির্দিষ্ট করে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরার কাজ করে ইউনেস্কো। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির স্বীকৃতি লাভের মধ্য দিয়ে একটি দেশ ওই উপাদানের আঁতুড়ঘর হিসেবে বিশ্ব দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। মর্যাদা লাভ করে। সনদে স্বাক্ষর করা সব দেশ প্রতিবছর নিজেদের যে কোন একটি উপাদানের স্বীকৃতি চেয়ে ইউনেস্কোতে আবেদন করতে পারে। এ বছর বাংলাদেশ ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ। ‘পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা’ শিরোনামে ফাইল প্রেরণ করে। কয়েক ধাপ পর্যালোচনা শেষে বুধবার স্বীকৃতির কথা জানায় আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। ঢাকায় শুরু হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আর্ট ভিয়েন্নাল দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় বুধবার উদ্বোধন করা হয়েছে মাসব্যাপী প্রদর্শনীর। ১৭তম আসরে এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫৫ দেশ অংশগ্রহণ করেছে। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ৫৪ দেশের ১২৭ শিল্পীর ২৭৭ শিল্পকর্ম। বাংলাদেশের ১৪৮ শিল্পীর ১৫৪ শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। রয়েছে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ৫৪ জন আমন্ত্রিত চিত্রশিল্পীর ৫৪ শিল্পকর্ম। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো থেকে শিল্পী, শিল্প সমালোচক, মিউজিয়াম কিউরেটরসহ মোট ১৪৬ বিদেশী অতিথি এসেছেন। মাসব্যাপী প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকছে সেমিনার, পারফর্মেন্স আর্টস প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক আর্ট ক্যাম্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে দারুণ উৎসমুখর এখন শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। শহর ঢাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মেলার এখনও অনেক বাকি। কিন্তু প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। এরই মাঝে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে প্রস্তুতি কমিটি। বুধবার বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মেলার সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, বইমেলার প্রস্তুতি যথারীতি এগিয়ে চলেছে। কিছুদিনের মধ্যে মাঠের বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এবার বইমেলায় অধিকাংশ স্টল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশ থেকে কমিয়ে রাস্তা সংলগ্ন পশ্চিম পাশে দেয়া হবে। দর্শনার্থী ও প্রকাশকদের সুবিধার কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত। বইমেলায় স্টল থাকবে পাঁচ শ’ ৬৩টি। চত্বর থাকবে ১২টি। প্রবেশ পথ থাকবে তিনটিÑ টিএসসি, মূল গেট এবং তিন নেতার মাজার। বাহির পথ থাকবে তিনটি।