ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

জামালপুরে প্রায় দেড় লাখ দরিদ্রের কাছে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি

অভাবের আতঙ্ক কেটে মুখে আনন্দের হাসি

প্রকাশিত: ০৪:৩৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

অভাবের আতঙ্ক কেটে মুখে আনন্দের হাসি

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর, ২৯ সেপ্টেম্বর ॥ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের টুপকারচর এলাকার ষাটোর্ধ হতদরিদ্র বিধবা রহিমা ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পেরে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার আঙ্গরে (আমাদের) ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াইতাছে। ১০ টাকা কেজির চাল পাইয়া এ বছর আঙ্গরে অভাব দূর হইছে।’ একই কথা বলেছেন টুপকারচরের কোহিনুর বেগম ও রহমত আলীসহ অনেকেই। শ্যামপুর ইউনিয়নের টুপকারচর এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় ডিলার এসএম গোলাম মোস্তফার গুদাম ঘর থেকে হতদরিদ্র কার্ডধারীরা ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন। ওই হতদরিদ্র কার্ডধারীদের মাঝ থেকে ষাটোর্ধ বিধবা রহিমা বেওয়া, কোহিনুর বেগম ও রহমত আলীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘সস্তায় চাল পাইয়া এ বছর আঙ্গরে গরিব মাইনষের ঘর থেইকা কার্তিক মাসের অভাব দূর হইছে।’ টুপকারচর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসএম সায়েদুর রহমান সাইদ জানান, প্রতি বছর এ সময় টুপকারচর এলাকার হতদরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে অভাব থাকে। তবে ১০ টাকা কেজিতে চাল পাওয়ায় এ বছর আশি^ন ও কার্তিক মাসে তাদের ঘরে আর কোন অভাব নাই। তাই এ বছর টুপকারচর এলাকার হতদরিদ্রদের মাঝে অভাবের আতঙ্ক কেটে আনন্দের হাসি ফুটেছে। জামালপুর জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাবুদ্দিন খান জানান, সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় সারা জেলায় ১৪৪ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। ডিলারদের মাধ্যমে জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের এক লাখ ৪৫ হাজার ১৮২ জন হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে মাথাপিছু ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। ইউএনওসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা নিজস্ব সংবাদদাতা বাউফল থেকে জানান, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির তালিকায় স্বাক্ষর না দেয়ায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেনÑ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দশ ইউপি সদস্য বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সহকারী জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। জানা গেছে, গত ১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির জন্য দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি হলেন একাডেমিক সুপারভাইজার কেএম সোহেল রানা, সদস্য সচিব হলেন সংশ্লিষ্ট ইউপির সচিব মোঃ রাজ্জাক হাওলাদার। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তি হলেন ওই কমিটির সদস্য। ১১ আগস্ট কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দাশপাড়া ইউনিয়নের ১ হাজার ২শ’ ৫১ জন হতদরিদ্র সুবিধাভোগীর চূড়ান্ত নামের তালিকা প্রস্তুত করে সভাপতির কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু সভাপতি কেএম সোহেল রানা ওই তালিকায় স্বাক্ষর করেননি। সদস্য সচিব মোঃ রাজ্জাক হাওলাদার জানান, সভাপতি ওই তালিকা থেকে ২শ’ সুবিধাভোগীর নাম কর্তন করে তার পছন্দমতো ২শ’ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এতে ওই কমিটির অন্য সদস্যরা দ্বিমত পোষণ করেন। এ কারণে ওই কমিটির ১০ জন ইউপি সদস্য মামলা করেন। দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এনএন জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তালিকা প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কেএম সোহেল রানার খামখেয়ালিপনার কারণে তার ইউনিয়নে সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। বগুড়ায় বাধার মুখে স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের কর্মসূচী বাধার মুখে পড়েছে বগুড়ার গাবতলি উপজেলায়। গাবতলির ডিলারদের সমন্বয়কারী ফজলুল বারী নয়ন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, স্বচ্ছতার সঙ্গে ডিলার নিয়োগ হওয়ার পরও এলাকার উশৃঙ্খল কিছু তরুণ উপজেলা খাদ্য অফিস ভাংচুর ও খাদ্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেছে। এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পর ডিলাররা হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল ঠিকমতো বিতরণ করতে পারছে না। এদিকে এই সন্ত্রাসের প্রতিবাদে গাবতলি উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা প্রতিদিন সকালে এক ঘণ্টা করে মানববন্ধন করছে। সূত্র জানায় সরকার আপৎকালীন সময়ের পাঁচ মাস হতদরিদ্র পরিবারের প্রতিটি কার্ডের অনুকূলে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে এই কর্মসূচী প্রতিটি ইউনিয়নে চলছে। বগুড়া জেলার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫ জন হতদরিদ্র কার্ডধারীর মধ্যে এই চাল বিতরণ চলছে। গাবতলি উপজেলায় পূর্বের ১৮ জন ও নতুন নিয়োগ করা ১০ জন মোট ২৮ ডিলার হতদরিদ্র কার্ডধারীদের মধ্যে এই চাল বিতরণ করছে। গাবতলি সদর, মহিষাবান, নশিপুর, দুর্গাহাটা, নেপালতলি, নাড়ুয়ামালা, রামেশ্বরপুর, সোনারায়, কাগইল ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে চাল বিতরণের পর্যায়ে এক শ্রেণীর উশৃঙ্খল তরুণ উপজেলা খাদ্য অফিসে চড়াও হয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে। এই ঘটনার পর ডিলাররা হতদরিদ্রদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। বরিশালে কালো বাজারে স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, উদ্বোধনের আগেই ফেয়ার প্রাইজের দুইজন ডিলারের বিরুদ্ধে ২০ টন চাল কালো বাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে মিডিয়া ম্যানেজের নামে ওই দুই ডিলার ও তার লোকজনে বৃহস্পতিবার দিনভর মরিয়া হয়ে ওঠে। ঘটনাটি গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের। সূত্রমতে, সারাদেশের মতো গৌরনদী উপজেলার সাত ইউনিয়নে পল্লী রেশনিং কার্ডভোগী (ফেয়ার প্রাইজ) দুস্থ পরিবারের মধ্যে দশ টাকা মূল্যের চাল বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নের সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করা হয়। এরই মধ্যে সরিকল ইউনিয়নের ডিলার ওই ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি হিরা ও রতন বেপারি বুধবার দুপুরে তাদের নামে বরাদ্দকৃত চালের মধ্য থেকে ১০ টন করে দুইজনে ২০ টন চাল কালো বাজারে বিক্রি করে দেয়। বুধবার সরিকল ইউনিয়ন এ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়নি। অভিযোগে আরও জানা গেছে, ওই চাল বার্থী ইউনিয়নের ডিলার আজিজুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেনের মধ্যস্থতায় মাদারীপুরের কুদ্দুস নামের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি অন্যান্য ডিলাররা তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন।