ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

জি-৭ ও বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৩:৪৫, ৩১ মে ২০১৬

জি-৭ ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। ভবিষ্যতে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। জাপান বরাবরই বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ এবং পরীক্ষিত বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। প্রথমদিকে যেসব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় জাপান তার অন্যতম। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর জাপান সফরের পর দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণে জাপানের সহযোগিতার কথা স্মরণীয়। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাপানে বিশ্ব অর্থনীতির সাত পরাশক্তির জোট জি-সেভেনের সম্মেলনে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। শনিবার বাংলাদেশের নিজস্ব দূতাবাস ভবন উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব নেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রেও ছিল বাংলাদেশ, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন নীতিমালা। তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটা বাংলাদেশের সাফল্য ও অর্জনের স্বীকৃতি বলতেই হবে। সম্মেলনে জি-৭-এর সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, জার্মানির চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল, ইতালির প্রেসিডেন্ট মাত্তিও রেনজি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে অংশ নেন। আর আউটরিচ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও লাওস, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, শ্রীলঙ্কা ও শাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব এবং বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইএমএফের প্রেসিডেন্ট। এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতৃত্বের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই উন্নয়নে তার নিজস্ব কৌশল ও ভবিষ্যত উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কানেকটিভিটিকে সামনে রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেন তিনি। উন্নত অবকাঠামো বিনির্মাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ে তার বৈশ্বিক চিন্তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ ইস্যুতে জলবায়ু পরিবর্তনে নিজেদের কৌশলের কথা জানান, স্বাস্থ্য খাতে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য অর্জনে বাংলাদেশ এমডিজিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, এসডিজিতেও নেতৃত্ব দেবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নারীর ক্ষমতায়নে তার কৌশলের সুনির্দিষ্ট দর্শন বিশ্ব নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নারীর ক্ষমতায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। এক. নারীকে নীতি প্রণয়ন ও রাজনীতিতে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করা, দুই. নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা আর তিন. সমাজে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব নেতৃত্বে শেখ হাসিনা আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-জাপানের অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য জাপানসহ সম্মেলনে আগতদের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে এখন বিদেশী বিনিয়োগের এক উত্তম পরিবেশ বিরাজ করছে। বিনিয়োগের নিরাপদ বলয় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। সরকার বিভিন্ন সময় বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। ভারত-চীন এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তির পাশে বাংলাদেশ। সেই বাস্তবতার আলোকেই জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তার প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে। এটাও খুশির খবর। তবে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য আরও অবকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে হলে এটা খুবই জরুরী।