সোমবার ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

সেলফোনে নিখুঁত ছবি

  • রেজা নওফল হায়দার

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে ছবি তোলার একটি মাধ্যম ক্যামেরা কমবেশি সকলের কাছেই পৌঁছে গেছে। বিভিন্ন মেগা পিক্সেলের স্মার্ট ফোন ক্যামেরাগুলো এখন প্রায় সকলের হাতে হাতে। আর তাই যখন তখন আমরা আমাদের মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখছি ক্যামেরাবন্দী করার মাধ্যমে। ছবি ধরে রাখার জন্য কিছু কৌশল প্রয়োজন। যদি আপনি ছবি ক্যাপচার করার সময় এই কৌশলগুলো মেনে চলেন তাহলে আপনার দ্বারাও সম্ভব কিছু সাধারণ বিষয়কে অসাধারণভাবে তুলে ধরা।

ষ ছবি তুলতে আলোর গুরুত্ব ॥ মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় এখনও একটি সীমাবদ্ধতা রয়েই গেছে। বেশিরভাগ মোবাইলের ক্যামেরাই লো-লাইটে ভাল ছবি তুলতে সক্ষম নয়। তাই ছবি তোলার ক্ষেত্রে প্রথমে এমন একটি দিক নির্বাচন করুন যেন সেই দিকের বিপরীতে অবজেক্টকে রাখলে অন্তত ক্যামেরা প্রয়োজনীয় আলো পেতে পারে। স্থির সাবজেক্টের ক্ষেত্রে আপনি আপনার অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। ‘সিল্যুয়েট’ ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে এই দিকনির্দেশনা বিপরীত হবে।

ষ লেন্স পরিষ্কার করতে ভুলবেন না ॥ মোবাইল ব্যবহার করতে করতে এক সময় দেখা যায় মোবাইলের বডিতে স্ক্র্যাচ (দাগ) পড়েছে। এবং ক্যামেরা পিছনে থাকায় ক্যামেরার উপরের নিরাপত্তা স্তরেও দাগের কারণে ছবি ঝাপসা আসতে পারে। এর জন্য হয় এমন কিছু ব্যবহার করুন যা আপনার মোবাইলটির ক্যামেরা প্রোটেক্ট করতে পারে। এবং যদি দাগ পড়েই যায় তবে আপনি ছবি তোলার সময় ব্যাক কভার (সব মডেল আবার এক নয়) খুলে ছবি তুলতে পারেন। আর, মোবাইলের ক্যামেরার লেন্সের ওপর মাঝে মাঝে ধুলোবালি বা জলীয় বাষ্প জমে যেতে পারে, তাই মাঝে মধ্যেই লেন্স পরিষ্কার করুন।

ষ ডিজিটাল জুম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন ॥ নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন আপনার মোবাইল ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় জুম করে ছবি তুললে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছবির মান যাচ্ছেতাই হয়। কেননা, মোবাইলের ক্যামেরাগুলোতে ডিজিটাল জুম ব্যবহার করা হয়ে থাকে ফলে জুম ব্যবহার করলে ছবি ফাটা ফাটা আসে এবং ছবিতে প্রচুর পরিমাণে আইএসও দেখা যায়। তাই, চেষ্টা করবেন জুম না করে ছবি তোলার। দরকার হলে যতটা সম্ভব সাবজেক্টের কাছে গিয়ে ছবি তুলে দেখতে পারেন।

ষ ফ্ল্যাশ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানুন ॥ এখন প্রায় মোবাইলের ক্যামেরা ইউনিটেই এলইডি ফ্ল্যাশ থাকে। ফ্ল্যাশে ব্যবহারে আপনার সতর্ক থাকা উচিত। কেননা, অটো ফ্ল্যাশ নামে যে অপশনটি ক্যামেরা অ্যাপে ইন্টিগ্রেট করা থাকে তা মাঝে মধ্যেই সঠিকভাবে কাজ করে না। দেখা গেল, আপনি ছবি তুলছেন দিনের আলোয় যেখানে পর্যাপ্ত আলো রয়েছে। কিন্তু আপনার মোবাইলের ফ্ল্যাশটা তবুও জ্বলে উঠে আপনার ছবিতে ১২টা বাজিয়ে দিল। আবার ধরুন, অন্ধকারে যখন আপনার ফ্ল্যাশ দরকার তখন হঠাৎ করে ফ্ল্যাশের অটো মোড কাজ করল না। তাই, ফ্ল্যাশ ব্যবহার করতে চাইলে আপনার প্রয়োজন বুঝে হয় ফ্ল্যাশ অন অথবা ফ্ল্যাশ অব মোডে ব্যবহার করা উচিত। আর আপনার যদি ফ্ল্যাশের আলোটা কিছুটা রাফ মনে হয় বা নির্দিষ্ট একটি মুহূর্তের জন্য অতিরিক্ত মনে হয় তবে আপনি ফ্ল্যাশের সামনে একটি সাদা টিস্যু পেপার ব্যবহার করতে পারেন, ভাল ফল পাবেন। বিশেষত দিনের পর্যাপ্ত আলোতে ফ্ল্যাশ ব্যবহার না করাই উত্তম।

ষ ছবি তুলতে রেজুলেসনের গুরুত্ব ও ব্যবহার জানুন ॥ আপনি আপনার ক্যামেরা এ্যাপের অপশনে গিয়ে বিভিন্ন রকম অপশন দেখতে পারবেন, যার মাঝে ছবির কোয়ালিটি এবং রেজ্যুলেশন নির্ধারণ করে দেয়া যায়। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে ‘যে এখনও কেন রেজ্যুলেশনে ৬৪০ী৪৮০ দেয়া থাকে?’ আসলে, আপনিতো আর একই পারপাসে ছবি তুলবেন না। ভিন্ন ভিন্ন কারণে আপনি একেক রেজ্যুলেশন নিয়ে কাজ করতে পারেন। যেমন, আপনি একজনকে একটি ছবি তুলে এমএমএস পাঠাতে চাইছেন। তখন আপনি ছোট রেজ্যুলেশনের ছবি ব্যবহার করতে পারেন। ছোট রেজ্যুলেশনের ছবিগুলোর মান কিন্তু ভাল হয় এবং মেমরিতে সেভও হয় দ্রুত। আবার তাই বলে যেন এমন না হয় যে আপনি সারাদিন ছবি তুলে বাসায় গিয়ে কম্পিউটারে ছবিগুলো ট্রান্সফার করে দেখলেন ছবিগুলো সব ছোট সাইজের। এজন্যই এই পয়েন্টটি লিখেছি।

ষ ভাল ছবির জন্য জানতে হবে হোয়াইট ব্যালান্সের ব্যবহার ॥ মূলত মোবাইলের ক্যামেরাসমূহ হোয়াইট ব্যালেন্স বেশ ভালভাবেই ডিটেক্ট করতে পারে কিন্তু সমস্যা হয় যখন আপনি ছবি তুলতে যাবেন লো-লাইট কন্ডিশনে। তাই, লো-লাইট কন্ডিশনে ছবি তোলার ক্ষেত্রে ক্যামেরা এ্যাপ চালু করেই ছবি না তুলে ক্যামেরাকে নির্দিষ্ট সাবজেক্টের ওপর ফোকাস করতে যথেষ্ট সময় দিন, ভাল ফল পাবেন। এছাড়াও আপনি ক্যামেরার অপশন থেকে বিভিন্ন রকম হোয়াইট ব্যালান্স সেটিং ব্যবহার করতে পারেন যেমন, ডে-লাইট, ফ্লুরোসেন্ট, ক্লাউডি ইত্যাদি। এগুলোও আপনার ছবিতে ভেরিয়েশন আনতে সাহায্য করবে।

ষ এক্সপোসার সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখুন ॥ এক্সপোসার বিষয়টি যেমন ডিএসএলআরে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি মোবাইল ক্যামেরাতেও। মূলত সমগ্র ফটোগ্রাফিক দুনিয়াতেই এর মহত্ত্ব অনেক। এক্সপোসারের ভুল সিলেকশন যেমন চমৎকার পরিবেশের একটি ছবিকেও বিদঘুটে করে তুলতে পারে তেমনি বুঝে শুনে ব্যবহার করলে আপনি সাধারণ মানের একটি বিষয়কেও কিছু ক্ষেত্রে অসাধারণ করে তুলতে পারবেন। আপনি আপনার মোবাইলের ক্যামেরা সেটিংসে গিয়ে দেখবেন এক্সপোসার বৃদ্ধি বা কমানোর সুবিধা আছে। লো-লাইট কন্ডিশনে যদি আপনি এক্সপোসার সামান্য বাড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন তবে আপনি বেশ ভাল ফলাফল পাবেন।

ষ ভাল সেলফি তুলবেন কিভাবে ॥ নিজের নিজেই উঠালে সেই ছবিকে বলা হয় সেলফি। আসলে সেলফি তোলার বিশেষ কোন নিয়ম নেই, ছবির মান ভাল করার জন্য উপরের টিপসগুলো ফলো করুন। যেহেতু সেলফি তোলার জন্য নিজেকে সাবজেক্ট হিসেবে নিতে হয় সেহেতু অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত আলোর মধ্যে অবস্থান করতে হবে।

ষ হাত না কাঁপিয়ে স্থিরভাবে ছবি তুলুন ॥ আইফোন এবং অনান্য স্মার্টফোনের জন্যেও এখন ট্রাইপড পাওয়া যায় প্রযুক্তি বাজারে। সম্ভব হলে ট্রাইপড ব্যবহার করুন। কেননা, ছবি তোলার সময় যদি আপনার হাত সামান্য কাঁপে তবে তা আপনার স্মার্টফোনের ছোট পর্দায় না দেখতে পেলেও আপনি যখন কম্পিউটারে দেখবেন তখন আপনার চোখে সেই ত্রুটি ধরা পড়বে। এজন্য, ট্রাইপড ব্যবহার করুন বা ছবি তোলার সময় যে হাত দিয়ে মোবাইলটি ধরবেন সেই হাতের কনুই পেটের সঙ্গে লাগিয়ে ছবি তুলুন। এতে করে বাড়তি সাপোর্ট পাবেন।

শীর্ষ সংবাদ: